ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম (এফটিপি) অনুযায়ী গত বছর আগস্টে সাদা বলের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল ভারতের। কিন্তু ব্যস্ত ক্রিকেট সূচিকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে সেই সিরিজ স্থগিত করে বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই)। যদিও তখন বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গুলো জানিয়েছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা শংকা থেকেই জাতীয় দলকে বাংলাদেশ সফরের অনুমতি দেয়নি ভারত সরকার।
সব শংকা কাটিয়ে এবছরের সেপ্টেম্বরে স্থগিত হওয়া সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ আসার কথা ভারতের। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে কোনো সমস্যা আছে বলে মনে করেন না তামিম। তার বিশ্বাস বাংলাদেশের মাটিতে ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো হুমকি কখনোই ছিল না।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তামিম বলেন, 'ভারত বাংলাদেশে এলে পুরো স্টেডিয়াম ভরে যায়। মানুষ এই লড়াইটা ভালোবাসে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি না বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে এখন আর কোনো সমস্যা আছে। ভারতে-বাংলাদেশে একটি সিরিজ আয়োজন হলে সেটা সামনে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ পথ হতে পারে।'
বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তামিম বলেন,' বর্তমানে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বেশ ভালো। কোনো সমস্যা নেই, কোনো নিরাপত্তা হুমকিও নেই। আর ভারতীয় দলের জন্য তো কখনোই ছিল না।'
বিসিসিআইয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করার পর এখন আইসিসির সভাপতির চেয়ারে বসেছেন জয় শাহ। ক্রিকেটে ভারতীয় আধিপত্য নিয়ে জয় শাহকে কেন্দ্র করে নানান আলোচনা চলে বিশ্ব ক্রিকেটে। কিন্তু বর্তমান আইসিসি সভাপতিকে নিয়ে তামিমের অভিজ্ঞা আলাদা।
আইসিসি সভাপতি প্রসঙ্গে তামিম বলেন, 'আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের ব্যাপারে যদি বলি, বিসিবির দায়িত্ব নেবার পর এখনো তার সঙ্গে দেখা হয়নি, তবে আমি অনেক ভারতীয় ক্রিকেটারের সঙ্গে খেলেছি এবং তাদের কাছ থেকে তার সম্পর্কে শুধু ভালো কথাই শুনেছি।'
ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিসিসিআইয়ের বর্তমান সভাপতি মিথুন মানহাসের সাথেও সম্পর্ক ভালো উল্লেখ করে তামিম বলেন, 'বর্তমান বিসিসিআই সভাপতি মিথুন মানহাসের সঙ্গে আমি অনেক ক্রিকেট খেলেছি। আইপিএলে আমরা একই দলে ছিলাম, তিনি বহুবার ঢাকা লিগ খেলতে বাংলাদেশে এসেছেন। আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো।'
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলতে না যাওয়ার বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই সোচ্চার ছিলেন তামিম। তখনকার বোর্ড পুরো বিষয়টাকে ঠিকভাবে সামলাতে পারেনি বলে তখনকার সময় থেকেই বলে আসছিলেন তিনি। এখনও তামিম মনে করেন, ঠিকভাবে আলোচনা করা ছাড়াই বিশ্বকাপের মত আসর খেলতে না যাওয়াটা বাংলাদেশের বড় ক্ষতি করেছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, 'টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঘটনাটা যখন ঘটে, তখন সম্ভবত আমিই প্রথম এর বিরুদ্ধে কথা বলেছিলাম। আগের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যেভাবে বিষয়টা সামলেছে, সেটা ঠিক হয়নি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইস্যুতে আইসিসি তখন অনেকটাই নমনীয় ছিল, সমাধানের সুযোগ ছিল। আমাদের সেটা খুঁজে বের করা উচিত ছিল।'
এ প্রসঙ্গে তামিম আরও যোগ করেন, 'আমরা কোনো সঠিক আলোচনা ছাড়াই একটা বিশ্বকাপ ছেড়ে দিলাম। ওই দলে এমন খেলোয়াড়ও থাকতে পারে, যারা আর কখনও বিশ্বকাপ খেলবে না। বিষয়টা আমি ভালোভাবে নিতে পারিনি।'