২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম মৌসুমে বিজয় যখন ফ্রাঞ্চাইজিটি কেনেন তখন দামটা চোখ কপালে ওঠার মতই ছিলো। খ্যাতিমান ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানী ১১১.৯ মিলিয়ন ডলারে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ফ্র্যাঞ্চাইজি কেনার পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১১.৬ মিলিয়ন ডলারে বেঙ্গালুরু ফ্র্যাঞ্চাইজি কেনেন বিজয়। এত চড়া দামে ফ্র্যাঞ্চাইজি কেনাটা অনেকেই তখন বিজয়ের জন্য 'ব্যবসায়িক ভুল' হিসেবে দেখছিলেন। বেঙ্গালুরু ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বিজয়ের 'ভ্যানিটি প্রজেক্ট' (অলাভজনক) বলেও হাসাহাসি করেছিলেন অনেকে।
১১১.৬ মিলিয়নের সেই ফ্র্যাঞ্চাইজির দাম ১.৭৮ বিলিয়নে পৌঁছানোর পর প্রমাণ হলো তখন কোনো ভুল করেননি বিজয়। বেঙ্গালুরুর মালিকানা বদলের পরপরই নিজের পুরোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিয়ে সমালোচকদের জবাব দিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে বিজয় জানান, বেঙ্গালুরু ফ্র্যাঞ্চাইজির এমন চড়া দামে পৌঁছানোতে তিনি দারুণ খুশি।
বিজয় লেখেন, '২০০৮ সালে যখন আমি ৪৫০ কোটি রুপিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কিনেছিলাম, তখন বেশিরভাগ মানুষ আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছিল এবং এটিকে 'ভ্যানিটি প্রজেক্ট' বলে সমালোচনা করেছিল। আমার তথাকথিত পাগলামির পেছনে ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জ ব্র্যান্ড তৈরি করার লক্ষ্য, আর সেই কারণেই আমি ফ্র্যাঞ্চাইজিটির নাম রেখেছিলাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।'
এখন আর ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সাথে যুক্ত না থাকলেও আজীবনই বেঙ্গালুরু তার জীবনের অংশ হয়ে থাকবে বলেও জানান বিজয়। ২০০৮ সালে যে তরুণ বিরাট কোহলিকে দলে ভিড়িয়েছিলেন তিনি, সেই কোহলিকে এখন বিশ্বসেরা হতে দেখেও নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।
বিজয় বলেন, 'আমার ৪৫০ কোটি রুপির বিনিয়োগ ১৬,৫০০ কোটিতে পৌঁছাতে দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু সবসময়ই জীবনের অংশ হয়ে থাকবে। অনেক অমলিন স্মৃতি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে তরুণ বিরাট কোহলিকে দলে নেয়া, যিনি এখন বিশ্বের সেরাদের একজন।'
ভারতীয় ব্যাংকের প্রায় নয় হাজার কোটি রুপি ঋণ পরিশোধ না করার অভিযোগে অভিযুক্ত ভারতের প্রসিদ্ধ এই ব্যবসায়ী। আদালতে মামলা চলাকালীনই ঋণ খেলাপের দায় মাথায় নিয়ে ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যান ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষের সাবেক এই সদস্য। ভারতের ইউবি গ্রুপ, কিংফিশার এয়ারলাইন্স সহ বেশ কয়েকটি বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা ছিলেন বিজয়।