এ সময় বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ রব্বানী প্রকল্পটির বিস্তারিত তুলে ধরেন। এই প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পারফরম্যান্স বিশ্লেষক সন্দীপ কুমার রমনকে। প্রাথমিকভাবে মিরপুরের শের ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ইনডোর সুবিধায় অ্যানালিটিকস ল্যাবরেটরিটি স্থাপন করা হবে।
পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় কেন্দ্রে এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। সংবাদ সম্মেলনের পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিসিবি জানিয়েছে, অনূর্ধ্ব ১৪ পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় দল পর্যন্ত সব খেলোয়াড়ের একটি বিস্তৃত ভিডিও ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে কোচ, খেলোয়াড় ও বিসিবি ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স তথ্য সহজে ব্যবহার করতে পারবেন।
এ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির সহ-সভাপতি ফাহিম সিনহা বলেন, 'এটার বিষয়ে আপনার আজ থেকে আরও দেড় বছর আগে শান্ত যখন ওয়ানডে অধিনায়ক ছিল, শান্তর সাথে এটা নিয়ে আমার অনেক আলোচনা হয়েছিল, মানে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। কিছু খেলোয়াড়দের সাথে কথা হয়েছিল; তাদের মতামত ছিল এটা খুবই জরুরি, এটা আরও আগে হওয়া উচিত ছিল।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'আমার সালাউদ্দিন ভাইসহ বিভিন্ন কোচ, যার মধ্যে হান্নান ভাইও আছেন যারা আমাদের প্যানেলে আছেন জিডির অধীনে, অনেকের সাথে আলোচনা করেই আপনার আমাদের এই জিনিসটা তৈরি করা। তো এটা আপনার দক্ষতা উন্নয়ন বলেন, বা কোচদের প্রয়োজন অনুযায়ী এখানে এসে খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করতে পারবেন— যেকোনো ধরনের বিশ্লেষণ।'
এই কর্মসূচির আওতায় পারফরম্যান্স বিশ্লেষকেরা খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত উন্নয়নে কোচদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন। পাশাপাশি বিশ্লেষণমূলক তথ্য ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য কোচদেরও প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
কোচরা কীভাবে এই প্রোগ্রাম কাজে লাগাতে পারবেন তার ধারণা দিয়ে ফাহিম বলেন, 'আপনার একটা কোচ একটা খেলোয়াড়কে নিয়ে নির্দিষ্ট ম্যাচে যে ফুটেজগুলো পাওয়া যায় বা আগে একটা নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের যতগুলো ফুটেজ আছে, তার চেয়ে ভালো হচ্ছে আপনার সরাসরি ইনডোরে এসে ফিজিক্যালি বর্তমানে তার অবস্থা কেমন, সেটা দেখা বা যাচাই-বাছাই করা। তো ওই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কোচরা কাজ করতে পছন্দ করবে।'
বিসিবি জানিয়েছে, ল্যাবরেটরিটি বোলিং অ্যাকশন সংশোধন, ব্যাটিং ও বোলিং কৌশলের উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ফিটনেস পর্যবেক্ষণে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন কোচিং প্যানেলের মধ্যে খেলোয়াড়দের তথ্য আদানপ্রদানের একটি মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।