বৃষ্টি নিয়ে লিটনের হতাশা, পক্ষে যাওয়ায় খুশি কেলি

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসের কয়েক ওভার যেতেই মিরপুরে হানা দিল বৃষ্টি। বৈশাখের বৃষ্টিতে রোমাঞ্চের পরিবর্তে খানিকটা হতাশ লিটন দাস। বৃষ্টির আগে ও পরে উইকেটের আচরণ পরিবর্তন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। তবে বেরসিক বৃষ্টি নিয়ে খুব বেশি আক্ষেপ নেই নিক কেলির। আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত কাজে লাগায় বেশ খুশি নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক।

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে বৃষ্টি হানা দেবে সেটা অবধারিতই ছিল। সকাল থেকে মিরপুরের আকাশ অবশ্য রৌদ্রজ্জ্বলই ছিল। তবে টসের পরই স্টেডিয়ামের আশেপাশের সবটা পুরোপুরি মেঘে ঢেকে যায়। দুপুর নাগাদই শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট জ্বালাতে হয়। বৃষ্টির আশঙ্কা থাকলেও নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ মাঠে গড়ায়। তবে বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসের যখন ৬.৪ ওভার তখন হানা দেয় বৃষ্টি। বাংলাদেশের রান তখন ৩ উইকেটে ৫০।

প্রায় ঘণ্টাখানেক বৃষ্টির পর সাড়ে চারটায় আবারও খেলা শুরু হয়। ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে ১৫ ওভারে আনা হয়। বৃষ্টির আগে উইকেট হারানো বাংলাদেশ পরবর্তী সময়ে দাঁড়াতেই পারেনি। শেষ ১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ১০২ রানে অল আউট হয় বাংলাদেশ। রান তাড়ায় শরিফুল ইসলাম নিউজিল্যান্ডকে চেপে ধরলেও বেভান জ্যাকবস ঝড় তুলে সফরকারীদের জয় নিশ্চিত করেন। লিটন জানিয়েছেন, বৃষ্টির আগে ও পরে উইকেটের আচরণ পরিবর্তন হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে লিটন বলেন, ‘পরিস্থিতি দুই রকম ছিল। পরিস্থিতি কারো হাতে থাকে না, আবহাওয়া কারো নিয়ন্ত্রণে নেই। আমরা যখন প্রথমে খেলতে নেমেছি তখন উইকেটের আচরণ একরকম ছিল এবং ৩ উইকেট হারানোর পর আমরা চাপে ছিলাম। ওখান থেকে একটা জুটি লাগত, তারপর আবার বিরতি। আপনি যখন ১৫ ওভারের খেলায় দুইভাবে ব্যাটিং করবেন এবং জানেন আপনার দলের শক্তি ৬ জন ব্যাটসম্যান, তখন চাইলেও খুব বড় লক্ষ্য দিতে পারবেন না।

‘অন্যদিকে প্রতিপক্ষ জানে তাদের হাতে ছোট লক্ষ্য আছে এবং খেলায় কোনো বিরতি নেই। বল ভিজে গেলে ব্যাটিং করা কতটা সহজ হয়ে যায় তা নিশ্চয়ই বুঝবেন। তাই ওই রান আটকে রাখা খুব কঠিন ছিল। মাঝের ওভারগুলোতে ডট বল ও উইকেট দরকার ছিল, উইকেট ভালো হলে সেগুলো পাওয়া কঠিন।’

বৃষ্টি নিয়ে অবশ্য খুব বেশি মাথাব্যথা নেই নিউজিল্যান্ডের। শেষ টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাটিং করতে চেয়েছিল সফরকারীরা। তবে মিরপুরের মেঘলা আকাশ দেখে টসের আগে নিজেদের বদলে ফেলে এবং ফিল্ডি করার সিদ্ধান্ত। সেটা বেশ ভালোভাবেই কাজে দিয়েছে। পরিকল্পনা পক্ষে যাওয়ায় বেশ খুশি কেলি। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক জানান, বৃষ্টির ভাবনা থেকেই তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিছিলেন।

কেলি বলেন, ‘আমার মনে হয় ছিল (বৃষ্টির প্রভাব)। আমরা টসের সময় এটা নিয়ে কথা বলেছি। বৃষ্টি আসার আগে আমরা প্রথমে ব্যাটিং করার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু আবহাওয়ার কথা চিন্তা করে আমরা ভাবলাম সম্ভবত বোলিং করাই ভালো হবে কারণ পরিস্থিতি কিছুটা অন্যরকম হতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে। খেলা বন্ধ হওয়ার পর ৫ ওভার কমে যাওয়াটা সবসময়ই কঠিন, কারণ এটি ১৫ ওভারের ম্যাচ হবে জানলে আপনি হয়তো আরও আক্রমণাত্মক খেলতেন। টসে আমাদের সিদ্ধান্তের পেছনে এটাই ছিল যুক্তি, আর ভাগ্যক্রমে সেটা আমাদের পক্ষেই কাজ করেছে।’

বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম পাঁচ ম্যাচে খুব বেশি দর্শক হয়নি। সেটার বড় একটা কারণ ছিল বৈশাখের খরতাপ। তবে মিরপুরে শেষ টি-টোয়েন্টিতে গ্যালারিতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। সময় যত বেড়েছে ততই দর্শকরা মাঠে এসেছেন। শেষ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার মানুষ গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেছেন। বাংলাদেশের মানুষের আনন্দ নষ্ট করে দেওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন কেলি।

কিউই অধিনায়ক বলেন, ‘হ্যাঁ, দারুণ ছিল। প্রচুর হইহুল্লোড় ছিল। তারা এই দলটাকে ভালোবাসে, তাদের হইচই শুনেই সেটা বোঝা যায়। আমার মনে হয়, বৃষ্টি হয়তো তাদের কিছুটা ভড়কে দিয়েছিল, কিন্তু মাঠ শুকানোর পরই তারা সবাই ফিরে আসে। বাংলাদেশের মানুষ অসাধারণ। এখানে সময়টা খুব উপভোগ করেছি আমরা। তারা খুবই আন্তরিক। প্রায় পূর্ণ গ্যালারির সামনে সফর শেষ করাটা ছিল এক দারুণ অভিজ্ঞতা। ম্যাচ জিতে তাদের আনন্দটা নষ্ট করার জন্য দুঃখিত। তবে বোঝাই যাচ্ছে, তারা ক্রিকেটকে কতটা ভালোবাসে। আশা করি, তারা বিনোদন পেয়েছে।’

আরো পড়ুন: