সাকিব-মাশরাফিদের ‘ক্রিকেটীয়’ সর্বোচ্চ সহায়তা করবে বিসিবি

বাংলাদেশ ক্রিকেট
সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাশরাফি বিন মুর্তজা, ফাইল ফটো
সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাশরাফি বিন মুর্তজা, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) গত দেড় বছরে ৩ জন সভাপতি পেয়েছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিসিবির চূড়ান্ত ক্ষমতায় ছিলেন ফারুক আহমেদ, আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং তামিম ইকবাল। এই পুরো সময়টায় আলোচনায় ছিলেন সাকিব আল হাসান। যদিও দেশে ফিরে আর বাংলাদেশের জার্সিতে খেলা হয়নি সাকিবের। ফারুক-বুলবুলরা সবসময়ই তাকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা করে গেছেন, যদিও তাদের অধীনে আইনি জটিলতায় কখনো জড়ায়নি বিসিবি। বিসিবির নতুন সভাপতি তামিমও হাঁটছেন একই পথে। তবে সাকিব যদি আইনি জটিলতা পার করে ক্রিকেটে ফেরেন তবে তাকে স্বাগত জানানোর ঘোষণা দিলেন তিনি। পাশাপাশি মাশরাফি-দুর্জয়দেরও 'ক্রিকেটীয়' সহযোগিতার ঘোষণা দিলেন তিনি।

সাকিবের মতো বাংলাদেশ আওয়ামীলিগের সাংসদ ছিলেন বাংলাদেশের আরো দুই সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় এবং মাশরাফি বিন মুর্তজাও। এদের মধ্যে সাকিবের মতো মামলা আছে মাশরাফির নামেও। আর মামলা থাকার কারণে বর্তমানে জেলে অবস্থান করছেন দুর্জয়। সাকিবকে নিয়ে যখন প্রশ্ন করা হয়, তখন দুর্জয়-মাশরাফিকেও যেন সংযুক্ত করা হয়, সেই অনুরোধ করেন তামিম। কার্যত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাকিবের মতো মিথ্যা মামলার শিকার মাশরাফি-দুর্জয়রাও, এমনটাই বিশ্বাস তামিমের।

তামিম বলেন, 'আমরা গত এক-দুই বছর ধরে একজন নির্দিষ্ট ক্রিকেটার, নাম বললে সাকিবকে নিয়েই আমরা কথা বলছি। আমি অনুরোধ করব এই প্রশ্নটা যখন করেন আমাদের তিনজন ক্রিকেটার, সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, নাইমুর রহমান দুর্জয়, সাকিব আল হাসান একই ধরনের পরিস্থিতিতে আছে। আমার মনে হয় না এটা উচিত হবে এখানে বসে শুধু একজন ক্রিকেটারকে নিয়ে কথা বলা। প্লিজ, আপনারা যখন প্রশ্ন করবেন বা আমরা করব তখন অবশ্যই যেন বাকি দুজন সাবেক অধিনায়ককেও ম্যানশন করি।'

ক্রিকেটার থাকাকালীনই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের হয়ে নির্বাচন করেছিলেন সাকিব। মাস ছয়েকের জন্য দায়িত্ব পালন করেছেন সংসদ সদস্য হিসেবেও। তবে সরকার পতনের পর বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়কের নামে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে, গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। তবে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট বেশিরভাগ মানুষের দাবি, সাকিবের নামে করা মামলাগুলো ভিত্তিহীন। কারণ ওই সময় বিদেশের মাটিতে লিগ খেলায় ব্যস্ত ছিলেন তিনি। পাশাপাশি সাকিব হত্যার মতো কাজ করতে পারেন এমনটা বিশ্বাস করেন না কেউই।

তামিম আরো বলেন, 'ওর (সাকিব) বিষয়টা আছে। আমাদের তরফ থেকে ক্রিকেটিং যেকোন ধরনের সুযোগ-সুবিধা আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাব। আইনের যে বিষয়গুলো আছে, আমাদের প্রতিমন্ত্রীও বলেছেন আমরা নমনীয় হবো। ক্রিকেট বোর্ড হিসেবে আমাদের তরফ থেকে ক্রিকেটীয় যেসব সহায়তা করতে পারি সেটা আমরা সবসময় করব। আমরা তাদের স্বাগত জানাব যদি উনারা ওই সমস্যা সমাধান করে আসেন।'

একটা সময় সাকিবকে নিয়ে প্রশ্ন করতেই এড়িয়ে যেতেন বোর্ড পরিচালকরা। কয়েক মাস তো সাকিবের প্লেকার্ড নিয়ে মাঠেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি সমর্থকদের। তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে হুট করেই সাকিবকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। যার অংশ হিসেবে সাকিবের মামলার কাগজপত্র মাসখানেক আগে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় তারা। তখনকার সভাপতি বুলবুলের বিসিবির চাওয়া পাকিস্তান সিরিজেই খেলুক তারকা অলরাউন্ডার।

আরো পড়ুন: