জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে ভাবেন না ভুবনেশ্বর

ভারতীয় ক্রিকেট
ভুবনেশ্বর কুমার
ভুবনেশ্বর কুমার
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
২০২২ সালে ভারতের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার। এরপর থেকেই আকাশী নীল জার্সিতে ব্রাত্য এই পেসার। ভারতের জাতীয় দলে ফেরার আশা এখন আর করছেন না তিনি। বরং বাস্তবতা মেনে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন অভিজ্ঞ এই পেসার। সম্প্রতি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর পডকাস্টে ক্যারিয়ারের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন ভুবনেশ্বর।

সেখানে তিনি জানিয়েছেন মানসিক শান্তিই এখন তার কাছে বড়। এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে তার পরিবার। তাদের সঙ্গে থাকলে ক্রিকেট নিয়ে কোনো আলোচনা হয় না। ভারতীয় দলে না থেকে কোনো আক্ষেপ নেই সেটাও পরিষ্কার করে দিয়েছেন তিনি। আগেও অনেক ক্রিকেটার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে দাবি তার।

এ প্রসঙ্গে ভুবনেশ্বর বলেন, ‘আমি এখন মানসিকভাবে শান্তিতে আছি। এর পুরো কৃতিত্ব আমি আমার পরিবারকে দেব। আমাদের বাসায় ক্রিকেট নিয়ে কোনো আলোচনা হয় না। আমি আবার ভারত দলে ফিরব কি না, কেন দলে সুযোগ পেলাম না কিংবা কোথায় ভুল হয়েছে, এসব নিয়েও কখনো কথা হয় না। এ কারণেই আমার কোনো আক্ষেপ নেই।’

সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া বাস্তবতাকে মেনে নিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। ভুবনেশ্বর যোগ করেন, ‘আমি বুঝি, পরিবর্তন খেলাধুলারই অংশ। এক প্রজন্মের জায়গায় আরেক প্রজন্ম আসে। এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়া প্রথম ক্রিকেটার আমি নই, শেষও হব না। এটাই খেলাটার নিয়ম। পরিবার এখানে বড় ভূমিকা রেখেছে। আমি এখন যেখানে আছি, সেখানেই সুখে আছি।’

ভারতের হয়ে দীর্ঘদিন খেলার সুযোগ পাওয়ায় জাতীয় দলে ফেরাই এখন আর তার ক্যারিয়ারের প্রধান লক্ষ্য নয় বলে জানিয়েছেন ভুবনেশ্বর। নিজের ছন্দ ধরে রাখতে পর্যাপ্ত ক্রিকেট খেলার দিকেই মনযোগ এই ভারতীয় পেসারের। নিজেকে সতেজ রাখতে সব রকমের চেষ্টাই করে যাচ্ছেন তিনি।

ভুবনেশ্বর বলেন, ‘আমি তো ভারতের হয়ে খেলেছি। এটা এখন আর অর্জনের বিষয় নয়। আবার যদি সুযোগ পাই, অবশ্যই ভালো লাগবে। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। এখন যা করছি, সবই ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা থেকে। আমি জানি, আমাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকতে হবে। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলি, উত্তর প্রদেশ টি-টোয়েন্টি লিগেও খেলি। নিজেকে ছন্দে রাখতে পর্যাপ্ত ক্রিকেট খেলি, আবার শরীর সতেজ রাখতে প্রয়োজনমতো বিরতিও নেই।’

ভারতের বোলিং আক্রমণে স্পিন নির্ভরতা থেকে পেস নির্ভর যুগে রূপান্তরের সময়টাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ভুবনেশ্বরের। সেই পরিবর্তনের কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন আইপিএল, বিরাট কোহলি ও রবি শাস্ত্রীকে। বিশেষ করে আইপিএলের সুবাদে ভারতীয় পেসাররা বিশ্বমানের ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচয় করে দিয়েছে। যা জাতীয় দলে এসে ক্রিকেটাররা কাজে লাগাতে পারছেন।

তিনি বলেন, ‘আইপিএলের অনেক কৃতিত্ব প্রাপ্য। এই টুর্নামেন্ট অসংখ্য প্রতিভাবান পেসারকে বিশ্বমানের ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। এরপর তারা জাতীয় দলের পরিবেশে এসে ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে। আগে ভারতের উইকেট স্পিনারদের জন্য বেশি সহায়ক ছিল, আর বিদেশের কন্ডিশন ছিল পেসারদের জন্য। কিন্তু সেই সময় বিরাট কোহলি ও রবি শাস্ত্রীর অনেক বড় অবদান ছিল। তাদের একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা ছিল।’

আরো পড়ুন: