আইপিলের ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম নিয়ম নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছিলেন খোদ আইপিএলের অধিনায়করাই। তবুও আইপিএল গভার্নিং কাউন্সিল এই নিয়ম ২০২৭ সাল পর্যন্ত চালু রাখার ঘোষণা দেয়। এই নিয়মের কারণে পুরো ব্যাটিং ইনিংসের পরিকল্পনাই ভিন্নভাবে সাজাতে হয় দলগুলোকে। যার কারণে ব্যাটারদের ব্যাটিংয়ের ধরণেও বড় পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন মঈন। আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের ব্যাটারদের ব্যর্থ হবার পেছনে এটিকেই দায়ী মনে করেন তিনি।
'বিয়ার্ড বিফোর উইকেট' পডকাস্টে মঈন বলেন, 'আইপিএলের ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম বড় পার্থক্য তৈরি করেছে। আমার মনে হয়, ভারতীয় ব্যাটাররা টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং করার শিল্পটাই হারিয়ে ফেলেছে। পাওয়ারপ্লেতে তিন, চার বা পাঁচ উইকেট পড়ে গেলেও তারা একইভাবে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে যাচ্ছে। কারণ তারা জানে, পরে অতিরিক্ত একজন ব্যাটার নামানো যাবে।'
নটিংহ্যামে ভারতের ব্যাটিং অর্ডার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মঈন। বিশেষ করে স্বীকৃত অলরাউন্ডার শিভম দুবের আগে পেসার হার্শিত রানাকে ব্যাট করতে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে তিনি সমালোচনা করেন।
মঈন বলেন, 'দুবেকে আট নম্বরে নামানো এবং তার আগে হার্শিত রানাকে পাঠানো আমি বুঝতে পারিনি। ডানহাতি ব্যাটার বলে হয়তো এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আপনি যখন দলে এত বাঁহাতি ব্যাটার রেখেছেন, তখন এভাবে পরিকল্পনা করা ঠিক নয়।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি আবারও ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মের কথাই বলব। আমার মতে, এই নিয়ম পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করার দক্ষতাকে নষ্ট করছে। প্রথম বল থেকেই শুধু বড় শট খেলতে গেলে হবে না। পরিস্থিতি বুঝে ইনিংস গড়তে জানতে হবে। কিন্তু ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম থাকায় দল নির্বাচনের ক্ষেত্রেও খুব বেশি পরিকল্পনার প্রয়োজন হয় না। অতিরিক্ত ব্যাটার বা বোলার নামানোর সুযোগ থাকায় ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনের গুরুত্ব কমে গেছে।'
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ২০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৭৬ রানে গুটিয়ে যায় ভারত। বিশেষ করে পাওয়ারপ্লেতে একের পর এক উইকেট পড়লেও ব্যাটারদের একের পর এক বড় শট খেলার চেষ্টা ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয়কে আরও বাড়িয়ে তোলে। এর আগে আয়ারল্যন্ডের বিপক্ষেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় নিজদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সিরিজ হারতে হয় ভারতকে।