পাকিস্তান বিশ্বকাপ না খেলতে চাইলে কেউ অনুরোধ করবে না: হার্শা ভোগলে

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
হার্শা ভোগলে ও পাকিস্তান দল
হার্শা ভোগলে ও পাকিস্তান দল
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জায়গায় বদলি দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এই সিদ্ধান্তের পর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে পাকিস্তান।

বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এমনকি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কট করার ভাবনাও করছে তারা। বিষয়টি নিয়ে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি ইতিমধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সোমবারের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানা গেছে।

যদিও বিশ্লেষকদের বড় অংশই মনে করছেন, এত কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় নেই পাকিস্তান। ভারতের জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ও ক্রিকেট বিশ্লেষক হার্শা ভোগলের মতে, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কোনো ক্লাবভিত্তিক টুর্নামেন্ট নয় যে ইচ্ছামতো ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

হার্শা ভোগলে ক্রিকবাজের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, 'হ্যাঁ, এটা কোনো ইন্টার-ক্লাব ম্যাচ নয় যে, ‘আমি সিদ্ধান্ত নেব যে আমাদের ম্যানেজার আসবে তবে দল হবে, নাহলে আমরা আসব না, ওয়াকওভার দেব বা আমরা ওয়ার্ল্ড কাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলব না। এটা একটা বিশ্বকাপ, অবশ্যই তারা খেলবে। কারণ ওরা যদি না আসে, তবে সেটা ওদের ক্রিকেটের জন্য হবে এক বিশাল বড় ধাক্কা। অবশ্যই ওরা আসবে।'

ক্রিকবাজের আলোচনায় পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কট করলে সম্ভাব্য শাস্তির কথাও উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা, আইসিসির টুর্নামেন্ট আয়োজনের অধিকার হারানো এবং পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণে জটিলতা। বিশেষ করে বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) না পাওয়ার ঝুঁকিকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

আইসিসির সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে আরও আছে—পার্টিসিপেশন ফি হারানো, টুর্নামেন্ট অংশগ্রহণ চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে বার্ষিক রাজস্ব বণ্টন বন্ধ হয়ে যাওয়া, দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট থেকে সাসপেনশন, এশিয়া কাপ থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা এবং ২০২৮ নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হোস্টিং রাইটস হারানো। হার্শার মতে, এসব পরিণতি পাকিস্তান ভালো করেই জানে।

তিনি বলেন, 'ওরা জানে যে ওরা আসবেই। ওরা স্রেফ একটু হইচই করার চেষ্টা করছে। অবশ্যই ওরা জানে যে ওরা আসছে। কারণ আমার মনে হয় ওরা জানে যে ওরা যদি বলে যে ওরা আসবে না, তবে আইসিসি বলে দেবে ‘ঠিক আছে, এসো না।’ কেউ ওদের দরজায় গিয়ে কড়া নেড়ে বলবে না যে ‘প্লিজ প্লিজ, না, আপনারা ছাড়া কীভাবে সম্ভব?’ ওরা যদি না আসে তবে ওরা জানে যে ওরা খেলতে পারবে না, আর সেটা ওদের অনেক বড় ক্ষতি করবে, তাই ওরা আসবেই।'

আরো পড়ুন: