নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ। লিটন দাস-মুস্তাফিজুর রহমানদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়া অনুরোধ করলেও বিসিবির সেই অনুরোধ রাখেনি আইসিসি। বরং ভারতে যেতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়েছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বাংলাদেশের জায়গায় বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছে স্কটল্যান্ড।
মাত্র কদিন আগেই বিশ্বকাপ খেলার আমন্ত্রণ পাওয়ায় এখনো ক্রিকেটারদের ভিসা করাতে পারেনি তারা। এত অল্প সময়ের মধ্যে ক্রিকেটারদের ভিসা পাওয়া একেবারে সহজও হবে না। তবে স্কটল্যান্ডের ক্রিকেটাররা যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিসা পান সেই চেষ্টা করছে আইসিসি। ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ট্রুডি লিন্ডব্লেড জানান, ক্রিকেটাররা যাতে ভারতের ভিসা পায় এজন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বিসিসিআইয়ের সঙ্গে কাজ করছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এ প্রসঙ্গে লিন্ডব্লেড গতকাল সোমবার বলেন, ‘আমরা সবাই আইসিসির সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেন এটি করা সম্ভব হয়। ভিসার বিষয়টা সব সময়ই কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকে এবং সময় সীমা—তিন দিন হোক বা ৪৫ দিন, তাতে কোনো প্রভাব পড়ে না।’
ট্রুড লিন্ডব্লেন্ড আরও বলেন, ‘(আইসিসি) আমাদের কেবল সেই বিষয়গুলোর নিশ্চয়তা দিতে পারে, যেগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে, আর অবশ্যই যেসব বিষয় তারা নিয়ন্ত্রণ করছে, সেই বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করছি এবং স্পষ্টতই তারা সেখানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বিসিসিআইয়ের সঙ্গে কাজ করছে, যাতে আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় সব সহায়তা পেতে পারি।’
বাকিরা ভিসা পেলেও বিপাকে পড়তে পারেন সাফিয়ান। সাত বছর বয়স থেকে স্কটল্যান্ডে বাস করলেও আদৌতে তিনি একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত। বিশ্বকাপের আগে বেশিরভাগ দেশের স্কোয়াডে থাকা পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত ক্রিকেটারদের ভিসা নিয়ে জটিলতা হয়েছে। আদিল রশিদ, রেহান আহমেদের মতো ক্রিকেটাররা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভিসা পাননি। ভারতের ভিসা অনুমোদন পাননি আলী খানসহ যুক্তরাষ্ট্রের চার ক্রিকেটার।
যদিও আইসিসি তাদের ভিসা পাইয়ে দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে। এখনো পর্যন্ত তাদের ভিসা নিয়ে নতুন কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত হওয়ায় একই জটিলতায় পড়তে যাচ্ছেন সাফিয়ানও। যদিও এমন পরিস্থিতি হলে সেটা কিভাবে সামাল দেবে সেই ভাবনাও ভেবে রেখেছে স্কটল্যান্ড। দুজন ট্রাভেলিং রিজার্জের সঙ্গে তিনজন নন-ট্রাভেলিং রিজার্ভ ক্রিকেটার রেখেছে।
শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ দলে থাকা ক্রিকেটারদের ভিসার সমস্যা হলে যাতে তাদের ভারতে পাঠাতে পারে। এক বিবৃতিতে স্কটল্যান্ড বলেছে, ‘স্কোয়াড নির্বাচন সব খেলোয়াড় ও স্টাফের ভিসা অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। খুব অল্প সময় পাওয়ায় এবং খেলোয়াড় নির্বাচনের অল্প সময়সীমা বিবেচনা করে দুজন ট্রাভেলিং রিজার্ভ এবং আরও তিনজন নন-ট্রাভেলিং রিজার্ভ নির্বাচিত করা হয়েছে।’