দুই বছর আগে গুজরাট টাইটান্স থেকে হার্দিককে দলে এনে বড় প্রত্যাশা করেছিল মুম্বাই। তবে অধিনায়ক হিসেবে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় সেই পরিকল্পনা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। তবু দেশীয় অলরাউন্ডার হিসেবে তার চাহিদা কমেনি। বরং নতুন মৌসুমের আগে তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুম্বাই হার্দিককে ছাড়তে আপত্তি করছে না। তবে তার বিনিময়ে নিজেদের পছন্দের ক্রিকেটার পেতে চায় তারা। কলকাতার সঙ্গে যুক্ত এক সূত্রের ভাষ্য, 'আজিঙ্কা রাহানেকে সাময়িক সময়ের জন্য অধিনায়ক করা হয়েছিল। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় তিনি ছিলেন না। হার্দিককে নিয়ে মুম্বাইয়ের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে।'
কলকাতার নেতৃত্ব কাঠামোও এই আগ্রহের বড় কারণ। গত মৌসুমে সহ-অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা রিঙ্কু সিংকে এখনই নেতৃত্বে দেখতে চায় না দলটি। অভিজ্ঞ একজন ক্রিকেটারের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার ভাবনা থেকেই হার্দিককে প্রথম পছন্দ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে একজন প্রতিষ্ঠিত অলরাউন্ডার পাওয়ার সুযোগও রয়েছে তাদের সামনে।
তবে এই সম্ভাব্য সমঝোতার পথে শর্তও রয়েছে। হার্দিককে পেতে হলে কলকাতাকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ কোনো ক্রিকেটার ছাড়তে হতে পারে। মুম্বাইয়ের নজরে রিঙ্কু সিং কিংবা অঙ্গকৃষ রঘুবংশীর নাম থাকতে পারে বলে আলোচনা চলছে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ হয়নি।
অন্যদিকে রাজস্থানও হার্দিককে দলে নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মালিকানা কাঠামোয় পরিবর্তনের পর দল পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। সেই ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছেন হার্দিক। তবে নেতৃত্বের প্রশ্নে রাজস্থানের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। আপাতত রিয়ান পরাগের ওপর আস্থা রাখতে পারে দলটি, ফলে হার্দিক সেখানে গেলে অধিনায়কত্ব পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকছে না।
রাজস্থানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতায় ইয়াশভি জয়সাওয়ালের নামও উঠে এসেছে। তরুণ এই ওপেনারকে পেতে আগ্রহী মুম্বাই। ভবিষ্যতের দল গঠনের পরিকল্পনায় তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে রাজস্থান ও মুম্বাইয়ের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা জোরালো হলেও শেষ পর্যন্ত হার্দিক কোন পথ বেছে নেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।