হৃদয়কে নিয়ে মিজানুরের পাঁচ বছরের পরিকল্পনা

ডমেস্টিক থ্রি
তাওহীদ হৃদয় ও মিজানুর রহমান
তাওহীদ হৃদয় ও মিজানুর রহমান
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন সংযোজন ডি থ্রি। তিন সংস্করণকে এক কাঠামোর অধীনে এনে নতুন এই প্রতিযোগিতায় খেলবে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি। এরই মধ্যে আইকন ক্রিকেটারও চূড়ান্ত হয়েছে। লটারিতে দ্বিতীয় অবস্থানেই আইকন বেছে নেবার সুযোগ পাওয়া ফরচুন গ্রুপের তাওহীদ হৃদয়কে বেছে নেওয়ার পর তার কারণ জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও বিসিবি পরিচালক মিজানুর রহমান। ক্রিকফ্রেঞ্জির সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি জানিয়েছেন, হৃদয় ছিলেন তাদের প্রথম পছন্দ।

ডি থ্রিতে ছয় দলের আইকন হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তাওহীদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন, মুশফিকুর রহিম, নুরুল হাসান সোহান ও মোহাম্মদ নাঈম। ফরচুন গ্রুপের হয়ে হৃদয়কে বেছে নেওয়ার প্রসঙ্গে মিজানুর বলেন, 'কেন নয়? আমাদের সঙ্গে ও শেষ তিন-চার বছর ধরে খেলছে। এখন ও খুব ভালো করছে। বিশেষ করে ওকে নেওয়াই ছিল আমাদের এক নম্বর পছন্দ।” হৃদয়ের ব্যক্তিত্বও পছন্দের কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমি সততার সঙ্গে লোকটিকে সত্যিই পছন্দ করি, কারণ ও খুব শান্ত এবং সৎ।'

হৃদয়কে শুধু বর্তমান পারফরম্যান্সের জন্য নয়, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা মাথায় রেখেও বেছে নিয়েছেন মিজানুর। দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার ও এর আগে ফরচুন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলা মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে হৃদয়ের কিছুটা মিল রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, 'আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে তুলে আনতে হবে। তাওহীদকে যদি এখনই আমরা প্রস্তুত করি, আগামী পাঁচ বছর পর আমরা দেখব ও কোথায় গেছে।'

বিপিএলে হৃদয়ের শুরুর সময়ের কথাও মনে করিয়ে দিয়ে মিজানুর জানান, তখন থেকেই তরুণ এই ব্যাটারকে তার পছন্দ ছিল। তার ভাষায়, সেই সময় হৃদয় ছিলেন খুবই তরুণ, আর তখনই তাকে নিজের প্রথম পছন্দ হিসেবে চেয়েছিলেন তিনি। এখন সেই হৃদয়ই পরিণত হয়েছেন তারকা ক্রিকেটারে।

ফরচুনের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের বিপিএলে ফরচুন বরিশালের হয়ে খেলেছেন এই ব্যাটার। দলটির টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ওঠার পথেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। চট্টগ্রাম কিংসের বিপক্ষে কোয়ালিফায়ারে ৫৬ বলে অপরাজিত ৮২ রান করে বরিশালকে ৯ উইকেটের জয় এনে দেন হৃদয়। পরে ফাইনালে চট্টগ্রামকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতে ফরচুন বরিশাল।

এবার অবশ্য নতুন কাঠামোয় আরও বড় পরিসরে দেখা যাবে ফরচুনের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক। ডি থ্রিতে একই ফ্র্যাঞ্চাইজি তিন সংস্করণেই দল পরিচালনা করবে। মোট ৪২ ম্যাচের এই প্রতিযোগিতায় থাকবে সাতটি চার দিনের, ১৬টি ওয়ানডে ও ১৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ১৫ ডিসেম্বর বরিশাল থেকে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আসর শুরু হবে। এরপর জানুয়ারিতে চার দিনের এবং মে মাসে ওয়ানডে পর্ব মাঠে গড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন এই আয়োজন নিয়ে বেশ আশাবাদী মিজানুর। ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটের সঙ্গে ডি থ্রির কিছুটা মিল দেখছেন তিনি। ক্রিকফ্রেঞ্জিকে মিজানুর বলেন, 'এটা সত্যিই চমৎকার একটি টুর্নামেন্ট হবে। এটা এমনকি বিপিএলের চেয়েও অনেক ভালো হবে। আপনারা দেখবেন, খেলায় কী ঘটতে যাচ্ছে।' কাউন্টির মতো পরিবেশের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'কাউন্টির মতোই হয়েছে এবং স্টেডিয়ামও কাউন্টি ধরনের। তো, আমরা অনুভব করব যে এটা খুবই ভালো একটা খেলা আমাদের হবে, ইনশাআল্লাহ।'

ডি থ্রির প্রথম টি-টোয়েন্টি পর্ব বরিশালে শুরু হওয়াকেও নিজের দীর্ঘদিনের চেষ্টার ফল হিসেবে দেখছেন মিজানুর। তিনি বলেন, 'আমি অনেক দিন যাবত চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম যে বরিশালে খেলা নেন। এখন আমি পরিষদে আছি, তো কিছুটা জোর দিতে পারি।' বরিশালে খেলা ফেরানোর উদ্যোগে তামিম ইকবাল ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন মিজানুর। ২৬ অক্টোবর খেলোয়াড়দের নিলাম হওয়ার কথা, যেখানে প্রতিটি দল ২৩ জন করে ক্রিকেটার নিতে পারবে।

আরো পড়ুন: