একমাত্র টেস্টে সাদমান ইসলাম, মাহমুদুল হাসান, মুশফিকুর রহিমদের শর্ট ডেলিভারিতে একের পর এক পরীক্ষা নিয়েছেন জিম্বাবুয়ের পেসাররা। মুজারাবানি, এনগারাভা, ব্র্যাড ইভান্স, নিউম্যান নিয়ামুরিদের শর্ট বল যেন খেলতেই পারছিলেন না। ফলাফল হিসেবে ইনিংসেই ব্যবধানেই হারতে হয়েছে সফরকারীদের। টেস্টের মতো ওয়ানডেতেও একই দশা হয়েছে বাংলাদেশের। সেই পেসত্রয়ীতেই ধরাশায়ী হয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা।
উইকেট থেকে বাড়তি বাউন্স আদায় করছেন আর ব্যাটারদের ড্রেসিং রুমে পাঠাচ্ছেন। চার ম্যাচ খেলার পরও জিম্বাবুয়ের পেসারদের সামলানোর টোটকা শিখে উঠতে পারেননি তাওহীদ হৃদয়রা। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ১০ উইকেটের ৮টিই নিয়েছেন এনগারাভা ও মুজারাবানি। বাঁহাতি পেসার এনগারাভা সবগুলোইকেটই নিয়েছেন শর্ট ডেলিভারিতে। সালাহউদ্দিন মনে করেন, বাংলাদেশের ব্যাটারদের আরও একটু কৌশলী হওয়া উচিত হবে।
এ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ম্যাচই জেতার জন্য মাঠে নামি। তবে আমার মনে হয় আমাদের ব্যাটসম্যানদের আরেকটু কৌশলী হতে হবে, বিশেষ করে নির্দিষ্ট কয়েকজন বোলারের বিপক্ষে। তাহলেই আমরা ভালো করতে পারব। কিন্তু আমরা নিয়মিত একই ভুল করে যাচ্ছি। এর মানে হচ্ছে আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নিচ্ছি না। পরিস্থিতির সঙ্গে আমাদের মানিয়ে নিতেই হবে।
‘এটা একটা লম্বা সফর। এরই মধ্যে আমরা ২০-২৫ দিন পার করে ফেলেছি। কন্ডিশনের সঙ্গে তাই মানিয়ে নেওয়া জরুরি। যদি বলা হয় যে আমরা কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছি না, তবে সেটা আমাদের জন্য মোটেও ভালো কোনো লক্ষণ নয়। ব্যাটার হিসেবে যত দ্রুত সম্ভব এই কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে হবে। তবে আশা করি, পরের ম্যাচে ছেলেরা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।’
পুরো সিরিজ জুড়েই বাংলাদেশের ভোগান্তির কারণ এনগারাভা ও মুজারাবানি। একমাত্র টেস্টে মুজারাবানি ছয়টি ও এনগারাভা নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। দুইটি করে ওয়ানডে খেলে এনগারাভা ছয়টি ও মুজারাবানি নিয়েছিলেন চারটি উইকেট। টি-টোয়েন্টি এসেও দুজনে নিয়েছেন চারটি করে উইকেট। সালাহউদ্দিন অকপটে স্বীকার করলেন, জিম্বাবুয়ের দুই পেসারকে তারা ভালোভাবে সামলাতে পারেননি।
বাংলাদেশের সিনিয়র সহকারী কোচ বলেন, ‘আমার মনে হয় টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজ থেকেই আমরা এনগারাভা ও মুজারাবানিকে ভালোভাবে সামলাতে পারিনি। পুরো সিরিজ জুড়েই ওরা পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। ওদের কীভাবে সামলানো যায় এ নিয়ে আমাদের আরও ভালো পরিকল্পনা করতে হবে।’
মুজারাবানি ও এনগারাভার উচ্চতা নিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘জিম্বাবুয়ের এই দুই বোলারের উচ্চতা অনেক বেশি, তাই যেকোনো উইকেট থেকেই ওরা বাড়তি বাউন্স আদায় করে নিতে পারে। পরের ম্যাচের আগে আমাদের মূল চিন্তার জায়গা এটাই হওয়া উচিত—কীভাবে এই দুজনকে সামলানো যায়। কারণ ওরাই ৮টি উইকেট তুলে নিয়েছে।’