আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সব ফরম্যাট মিলিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মুশফিক। তবে শুধু এই পরিসংখ্যানের কারণে নয়, মুশফিকের অধ্যাবসায় ও ক্রিকেটের প্রতি নিবেদনের কারণে দেশের ক্রিকেটে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয় তাকে। মুশফিকের এই নিবেদন ও দুই দশকের বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতাকে দেশের ক্রিকেটের জন্য কাজে লাগাতে চায় বিসিবি।
ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে ফাহিম বলেন, 'মাহমুদউল্লাহ, মুশফিক যারা এত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের হয়ে খেলেছেন, তাদের অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।'
তিনি আরও বলেন, 'মুশফিক যদি কোচিংয়ে আগ্রহী হন কিংবা ক্রিকেট নিয়ে কাজ করতে চান, তাহলে অবশ্যই আমরা তাকে বিসিবিতে নিয়ে আসতে চাই। এত দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা এবং আধুনিক ক্রিকেট সম্পর্কে তার যে জ্ঞান রয়েছে, তা দেশের ক্রিকেটের জন্য খুবই মূল্যবান। আমরা যদি তাকে যুক্ত করতে না পারি, সেটি আমাদেরই ব্যর্থতা হবে।'
এদিকে স্থানীয় কোচদের মানোন্নয়নেও বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিসিবি। ফাহিম জানান, দেশীয় কোচদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের জন্য তিন সদস্যের একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এই কমিটিতে থাকবেন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, মিজানুর রহমান বাবুল ও সোহেল ইসলাম।
বিসিবির বর্তমান এই সহ-সভাপতি বলেন, 'কোচিংয়ের জন্য কর্মশালার আয়োজন করা হবে, যেখানে কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর (কেপিআই) বাস্তবায়ন শেখানো হবে। এটি চালুর পর থেকেই তাদের নিয়মিত মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হবে।'
তিনি জানান, জ্যেষ্ঠ কোচরা জেলা ও বিভাগীয় কোচদের তদারকি করবেন। পাশাপাশি বিসিবির অধীন সব কোচকে কেপিআইভিত্তিক মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে। কোচদের বেতন কাঠামোতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন ফাহিম।
তিনি বলেন, 'আমরা বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করছি। জেলা কোচদের বেতন অন্তত ৭০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনটি গ্রেড থাকবে। যোগ্যতার ভিত্তিতে কোচদের গ্রেড নির্ধারণ করা হবে এবং সে অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে।'
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, 'বর্তমান বেতন কাঠামো মোটেও যথেষ্ট নয়। দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৃদ্ধি ও মূল্যায়ন না হওয়ায় এটি স্থবির হয়ে আছে। তাই জেলা, বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয় সব পর্যায়ের কোচদের নতুন করে মূল্যায়ন করে গ্রেডিং করা হবে। কার যোগ্যতা কতটুকু, সেটি নির্ধারণ করবে কারিগরি কমিটি।'