দীর্ঘদিন পর জিম্বাবুয়ের মাটিতে খেলতে নেমে মোটেই সুবিধা করতে পারেনি টাইগাররা। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হলেও ম্যাচের দ্বিতীয় সেশনেই ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। কিছুদিন আগেই পাকিস্তানের বিপক্ষে স্পোর্টিং উইকেটে দারুণ ব্যাট করা বাংলাদেশ এদিন অলআউট হয় মাত্র ১৪০ রানে। ২ উইকেটে ১১৩ রান থেকে ১৪০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক শান্ত মনে করেন, প্রথম ইনিংসের এই ব্যাটিং ধ্বসই ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে বাংলাদেশকে।
ম্যাচ শেষে শান্ত বলেন, 'আমার মনে হয় যে, বিশেষত প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংটাতে আমরা পেছনে পড়ে গেছি। প্রথম ইনিংস খুবই হতাশাজনক ছিল। আমরা পুরা ব্যাটিং ইউনিটটা ভালো ব্যাটিং করতে পারি নাই। এমনকি কন্ডিশনটা আমরা ঠিকঠাক মতো মানিয়ে নিয়ে ব্যাটিং করতে পারি নাই। আমার মনে হয় যে, অবশ্যই উইকেটটা অনেক কঠিন ছিল ব্যাটিংয়ের দিক থেকে। এবং ওরা খুব ভালো জায়গাতেও বল করেছে। কিন্তু আমার মনে হয় যে আমাদের যে ব্যাটিং সামর্থ্য ছিল আমাদের আরও ভালো ব্যাটিং করা উচিত ছিল, যেটা আমরা করতে পারি নাই।'
প্রথম ইনিংসে অল্প রানে গুটিয়ে যাবার পর বল হাতে দারুণ কিছু করা প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু পেসারদের জন্য অনুকূল পরিস্থিতিতেও জিম্বাবুয়ের উইকেট তুলতে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয়েছে বাংলাদেশের পেসারদের। তাসকিন আহমেদ-নাহিদ রানাদের বিশ্রামের সুযোগ মোটেও কাজে লাগাতে পারেননি হাসান মাহমুদ, খালেদ আহমেদরা। স্পিনার তাইজুল ইসলামের সাত উইকেট বাদে নির্বিষ ছিলো বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ।
এ প্রসঙ্গে শান্ত বলেন, 'আমার মনে হয় যে, বোলিংটাও আমরা যখন করি প্রথম ইনিংসে বোলিংটাও আমরা খুব ভালো যে বোলিং করছি তা না। সব মিলিয়ে আমার মনে হয় প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং এবং বোলিংয়ের কারণেই আমরা এই ম্যাচটা এত খারাপ ক্রিকেট খেলেছি। জিম্বাবুয়ে ওদের কন্ডিশন, স্বাভাবিকভাবে ওরা কন্ডিশনটা সম্পর্কে আমাদের থেকে বেশি জানে। সো ওরা ভালো অ্যাডজাস্ট করেছে, আমরা ভালো অ্যাডজাস্ট করতে পারি নাই।'
হারের দিনেও তাইজুলের প্রশংসা করে শান্ত বলেন, 'আমার মনে হয় যে তাইজুল ভাইয়ের বোলিংটা অসাধারণ ছিল। এরকম কন্ডিশনেও সাত উইকেট নেওয়া অবশ্যই এটা অনেক বড় একটা ব্যাপার।' শান্তর সাথে একমত প্রধান কোচ ফিল সিমন্সও। তিনিও মনে করেন প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে দেয়নি বাংলাদেশকে।
সিমন্স বলেন, 'আমার মনে হয় প্রথম দিনের প্রথম দুই ঘণ্টা আমরা ম্যাচে ছিলাম। কিন্তু প্রথম দিনের লাঞ্চ থেকে চা বিরতির মধ্যবর্তী সময়ে যেভাবে ব্যাট করেছি, সেখানেই আমরা ম্যাচটা হারিয়েছি। ওই সময়ে ব্যাটিংয়ে আরেকটু বেশি মনোযোগ ও নিবেদন থাকলে হয়তো এই ম্যাচে আরও ভালো অবস্থানে থাকতে পারতাম। কিন্তু আমরা ব্যাট হাতে ভালো খেলতে পারিনি।’