বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল মনে করেন বিসিসিআই এমন সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের পরে দিলে দুই বোর্ড সহজেই আলোচনা করে এই ঘটনার সমাধান করতে পারতো। বিসিসিআই চেয়েছিল বাংলাদেশ যেন বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে বিসিবি সঠিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়ক।
ক্রিকফ্রেঞ্জির সঙ্গে একান্ত আলাপে আশরাফুল বলেন, 'মুস্তাফিজের যে বিষয়টা হয়েছে, এটা কিন্তু সহজেই বিশ্বকাপের পরে দুই বোর্ডের সাথে বসে আলাপ করে কিন্তু (সমাধান) করা যেত। কিন্তু তারা এমন এক সময় বলেছেন যেন আমরা বিশ্বকাপে না যাই। যেকোনো দেশই কিন্তু এই ধরনের পরিস্থিতিতে একই প্রতিক্রিয়া করাটা স্বাভাবিক আমি মনে করি।'
আশরাফুল আরও যোগ করেন, 'আপনি একটা খেলোয়াড়কে নিলামে তার সর্বোচ্চ দাম দিয়ে নিবেন, তারপর নিরাপত্তার কথা বলে সরানো হবে, তারপর আপনাকে বাংলাদেশ দলকে যেতে বলবে—এটা আসলে যেকোনো দেশই আমি মনে করি যে এই ধরনের প্রতিক্রিয়া করাটাই স্বাভাবিক।'
বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পর এবারই আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ। আশরাফুল মনে করেন বেঁচে থাকলে আরও অনেক টুর্নামেন্ট খেলা যাবে। এ ছাড়া চলতি বছর বাংলাদেশের ব্যস্ত সূচি আছে। সেটাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সাবেক এই ক্রিকেটার।
আশরাফুল বলেন, 'বেঁচে থাকলে অনেক টুর্নামেন্ট আইসিসি-র আসর আমরা খেলতে পারব। এই বছর আমাদের প্রচুর ক্রিকেট। আপনি যদি দেখেন যে বিশ্বকাপের পরেই পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড আসবে বাংলাদেশে। আমাদের চারটা দেশের বাইরে সফর আছে—অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ডের সাথে ইংল্যান্ডে হওয়ার কথা। তো প্রচুর ক্রিকেট আছে।'
বিশ্বকাপে খেলতে না পেরে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না আশরাফুল। মানুষের জীবনে এমন উত্থান পতন থাকাই স্বাভাবিক। তবে এই বিরতিতে ক্রিকেটারদের নিজেদের পরিবারকে সময় দেয়া উচিত মনে করেন আশরাফুল। পাশাপাশি বিসিবি বিশ্বকাপের সময় ক্রিকেটারদের জন্য একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আশরাফুল বলেন, 'এই টুর্নামেন্টে যেহেতু আমরা খেলতে পারছি না, এটা নিয়ে এত হতাশ হওয়ারও কিছু নাই। জীবনে এই ধরনের চড়াই-উতরাই থাকবে। এই সময়টা যতটা সম্ভব আমি মনে করি যে খেলোয়াড়রা তাদের পরিবারের সাথে সময় কাটাবেন এবং হয়তোবা ক্রিকেট বোর্ড কিছু একটা আয়োজন তো অবশ্যই করছেন, চিন্তা করছেন। তো ওইভাবেই দেখছি।'