বিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা জানান, বাংলাদেশকে ভারতের মাটিতে খেলতে পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিসিকে জানায়, সরকারের পক্ষ থেকেই দলকে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে অনুমতি দেয়া হয়নি। বাংলাদেশের এই অবস্থানের কারণেই বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে বেছে নিতে বাধ্য হয় আইসিসি।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে রাজীব শুক্লা জানান বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত ছিল আকস্মিক। ফলে এত অল্প সময়ের মধ্যে ভেন্যু পরিবর্তন বা পুরো সূচি নতুন করে সাজানোর সুযোগ ছিল না। এই বাস্তবতায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করাই একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমরা চেয়েছিলাম বাংলাদেশ খেলুক। তাদের পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। যাতে কোনো সমস্যা না হয়। কিন্তু তারা যেহেতু এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা দল পাঠাতে পারব না। তাদের সরকার মানা করে দিয়েছে দল পাঠাতে। শেষ মুহূর্তে পুরো সূচি বদলে ফেলা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এটা তাদের সিদ্ধান্ত ছিল। আইসিসি এরপর নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ কারণেই স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।'
এদিকে বাংলাদেশের ব্যাপারে আইসিসির সিদ্ধান্তে স্পষ্ট আপত্তি জানিয়েছে পাকিস্তান। পিসিবি জানিয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয় এবং বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকিও দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে আলোচনা করেছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি।
আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে পাকিস্তানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে। তবে রাজীব শুক্লা পাকিস্তানের ভূমিকাকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। তার ভাষায়, পাকিস্তান কোনো কারণ ছাড়াই এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং বাংলাদেশকে উসকানি দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন তিনি।
পাকিস্তান বাংলাদেশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে, যা সম্পূর্ণ ভুল ও অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মনে করেন বিসিসিআই সহ-সভাপতি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া, স্কটল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি এবং ভারত–পাকিস্তানের পাল্টাপাল্টি অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
রাজিব শুক্লা যোগ করেন, 'পাকিস্তান কোনো কারণ ছাড়াই এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং বাংলাদেশকে উসকানি দিচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের ওপর পাকিস্তানের করা নৃশংসতার ইতিহাস সবাই জানে। কেন তাদের দেশ আলাদা হয়েছে। এখন তারা বাংলাদেশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ ভুল।'