ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে পাকিস্তান, দাবি হরভজনের

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
হরভজন সিং
হরভজন সিং
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
উপমহাদেশের ভূরাজনীতি আস্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে ক্রিকেটের সঙ্গে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক কোনো সিরিজ হয় না এক যুগের বেশি সময় ধরে। সেই অস্থিরতা নতুন রূপে হাজির হয়েছে এবার। নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ।

আইসিসি বাংলাদেশের জায়গায় বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দিয়েছে স্কটল্যান্ডকে। এবার বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের ভাবনায় আছে পাকিস্তান। সেই সঙ্গে হাতের হাতে আছে একাধিক বিকল্প পরিকল্পনাও। যার ক্রিকেটীয় পটভূমির সঙ্গে সংযোগ আছে রাজনীতিরও।

এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক স্পিনার হরভজন সিং। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যাচগুলো আগে থেকেই শ্রীলঙ্কায় নির্ধারিত। এমনকি তারা সেমি ফাইনাল বা ফাইনালে উঠলেও তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের জন্য বিকল্প প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে আইসিসি। হরভজন মনে করেন এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের না জড়ানোই উচিত ছিল।

সম্প্রতি পিটিআইয়ের সঙ্গে আলাপকালে হরভজন বলেন, 'পাকিস্তান ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চেয়েছিল এবং ২ বনাম ১-এর খেলা খেলতে চেয়েছে—(পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বনাম ভারত)। তারা তো এমনিতেই শ্রীলঙ্কায় খেলছে, এটা তাদের বিষয়ই ছিল না। যেখানে দরকার নেই, সেখানে হস্তক্ষেপ কেন? শেষ পর্যন্ত ক্ষতিটা হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আর তাদের খেলোয়াড়দের। বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হারানো বিশাল ক্ষতি।'

পাকিস্তান এরই মধ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করে দিয়েছে। তবে বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তিনি ক্রিকেটারদের জানিয়েছেন নিজেদের পরিকল্পনার কথা। ক্রিকেটাররাও সরকারের সিদ্ধান্তে সম্মতি দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয় ঢাকায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাটকীয় প্রস্থান এবং পরবর্তীতে তার ভারতে আশ্রয় নেয়ার পর। এর পরপরই বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব বাড়তে থাকে এবং এরপর সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশকে বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিচ্ছে ভারতের উগ্রবাদীদের একাংশ।

এরপরই মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়া হয় বিসিসিআইয়ের নির্দেশে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে বিসিবি ঘোষণা দেয় ভারতের বিশ্বকাপ না খেলার। এরপর আইসিসি একাধিক আলোচনা করেও বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় যুক্তি ও সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়। এরপর বাংলাদেশকে বাদ দিয়েই বিশ্বকাপ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে আইসিসি।

আরো পড়ুন: