‘অভিমান থেকে অধিনায়কত্ব ছাড়ছি না’

নারী এশিয়ান গেমস
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
এশিয়া কাপের ব্যর্থতার পর অনেকে নিগার সুলতানা জ্যোতিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। নানান অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অধিনায়ককে নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জ্যোতি। ধারণা করা হচ্ছে, অভিমান থেকে বাংলাদেশের দায়িত্ব ছাড়তে যাচ্ছেন তিনি। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জ্যোতি। ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটার জানান, অভিমান থেকে অধিনায়কত্ব ছাড়ছেন না।

গত বছর জ্যোতির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন জাহানারা আলম। তারকা পেসারের পাশাপাশি আরও কয়েকজন সতীর্থ প্রায় একই অভিযোগ করেছিলেন। সেই সময় অবশ্য জ্যোতির পাশে দাঁড়িয়ে সেসব সামাল দিয়েছিল বিসিবি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপে ভালো করতে না পারায় আবারও সমালোচনার মুখে পড়েছেন ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটার।

জাগো নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জ্যোতির একজন সতীর্থ তার বিরুদ্ধে স্বৈরাচারের অভিযোগও এনেছেন। চারপাশ থেকে যখন একের পর এক সমালোচনা ধেয়ে আসছে তখন টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জ্যোতি। জাপান থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটারের এমন সিদ্ধান্তে ‘বিব্রত ও হতাশ’ বিসিবি।

অধিনায়কত্ব ছাড়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগামাধ্যমের সমালোচনা থেকে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে জ্যোতি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে এটার কোনো বিষয় সম্পৃক্ত না।’ তবে কী ব্যক্তিগত অভিমান থেকে? বাংলাদেশের অধিনায়ক বলেন, ‘না, না, না। আমার কাছে মনে হয় ব্যাটার হিসেবে, খেলোয়াড় হিসেবে আমার দেশকে বা দলকে আরও অনেক কিছু দেওয়ার আছে। তাই আমি এটার দিকে একটু মনোযোগ দিতে চাচ্ছি, এজন্যই এই সিদ্ধান্ত।’

কদিন আগে নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে উড়ে গেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালেও চিত্রটা একই। আগে ব্যাটিং করে শেফালি ভার্মার সেঞ্চুরিতে ৪ উইকেটে ১৯৫ রানের পুঁজি পায় ভারত। রান তাড়ায় ম্যাচ জেতার যেন চেষ্টাই করেননি জ্যোতি-সোবহানা মোস্তারিরা। মাত্র ৮১ রানে অল আউট হয়ে বাংলাদেশ হেরেছে ১১৪ রানে।

জ্যোতি মনে করেন, বাংলাদেশ আরও একটু ভালো বোলিং করতে পারতো। বাংলাদেশের অধিনায়ক বলেন, ‘ফ্ল্যাট ট্র্যাক ছিল। আর অনেক ভালো ব্যাটিং করেছে ওরা। এত রানের যখন একটা তাড়া থাকে, তখন এসে এরকম অবস্থা হয়, এটা স্বাভাবিক বিষয়। তবে আমার কাছে মনে হয় আরেকটু ভালো বোলিং করলে হয়তোবা আরও কিছু কম রান হতো ওদের পক্ষ থেকে।’

সেমিফাইনালে হারলেও এখনো ব্রোঞ্জ জেতার সুযোগ আছে বাংলাদেশের মেয়েদের। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। ব্যাটাররা ভালো করলে একটা পদক নেওয়ার সুযোগ থাকবে বলে জানান তিনি। জ্যোতি বলেন, ‘পাকিস্তানের সাথে ভালো খেলার রেকর্ড আমাদের আছে। সম্প্রতি আমরা বিশ্বকাপে ভালো খেলছি, ওদের সাথে ম্যাচ জিতেছি ওখানে। সো এদিক থেকে তো একটা ব্যাপার তো আছেই। এটা ব্যাটারদের খেলা, যদি ব্যাটাররা রান করতে পারে একটা মেডেল নিয়ে যাওয়ার একটা সুযোগ থাকবে।’

আরো পড়ুন: