গত বছর জ্যোতির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন জাহানারা আলম। তারকা পেসারের পাশাপাশি আরও কয়েকজন সতীর্থ প্রায় একই অভিযোগ করেছিলেন। সেই সময় অবশ্য জ্যোতির পাশে দাঁড়িয়ে সেসব সামাল দিয়েছিল বিসিবি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপে ভালো করতে না পারায় আবারও সমালোচনার মুখে পড়েছেন ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটার।
জাগো নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জ্যোতির একজন সতীর্থ তার বিরুদ্ধে স্বৈরাচারের অভিযোগও এনেছেন। চারপাশ থেকে যখন একের পর এক সমালোচনা ধেয়ে আসছে তখন টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জ্যোতি। জাপান থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটারের এমন সিদ্ধান্তে অবাক হয়েছেন রফিকুল। বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান মনে করেন, টুর্নামেন্ট শেষ করে এসে তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারতেন।
এ প্রসঙ্গে রফিকুল বলেন, ‘আমি কালকে সন্ধ্যার পরে জানতে পেরেছি, একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে। কারণ আমার সাথেও কোনো আলোচনা করেনি। তাছাড়া ইতিপূর্বে যে সমস্ত কথাগুলো উঠছিল এবং সমালোচনা হচ্ছিল, সেগুলোর ব্যাপারে কিন্তু আমি জ্যোতির সাথে কথা বলেছি। আমি তাকে বলেছি এগুলোতে কান দেওয়ার কিছু নেই। তোমরা একটা বড় টুর্নামেন্টে আছো, এশিয়ান গেমসের মতো টুর্নামেন্ট। ওইখানে একটি পদকের জন্য খেলবে এবং সেদিকেই মনোযোগ দাও। এগুলোতে কান দিও না।’
‘তারপরেও হঠাৎ করে কেন সিদ্ধান্ত নিলো আমার ঠিক মাথায় আসছে না। আর এরকম একটি বড় টুর্নামেন্টের আগে এই সিদ্ধান্তটাতে আমি আসলে বিব্রত বোধ করছি এবং হতাশ হয়েছি। কারণ যদি কোনো সমস্যা হয়ে থাকত বা কোনো সমস্যা থাকত, সেটা এই টুর্নামেন্টে খেলে আসার পরেও কিন্তু আমাকে জানাতে পারত যে এটার কারণে আমি ছেড়ে দিচ্ছি। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম। ওইটা অনেক ভালো হতো।’
বিসিবির বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জ্যোতির অধিনায়ক ছাড়ার সিদ্ধান্ত বোর্ডে গৃহীত হয়েছে। রফিকুল অবশ্য জানিয়েছেন, বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে আলোচনা করে বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নারী বিভাগের চেয়ারম্যান জানান, টি-টোয়েন্টি ছাড়লেও ওয়ানডেতে নেতৃত্ব চালিয়ে যেতে চান জ্যোতি। মূলত ব্যাটিং ও কিপিংয়ে মনোযোগ দিতেই নাকি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
রফিকুল বলেন, ‘আমরা বসব বোর্ডে। তামিম, আমরা বসে সিদ্ধান্ত নিব। এশিয়ান গেমস থেকে আসার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিব কীভাবে কী করা যায়। সে যেহেতু স্বস্তিবোধ করছে না, যেটা বলেছে আমি ব্যাটিংয়ে আরও মনোযোগী হতে চাই, কিপিংয়ে মনোযোগী হতে চাই। সুতরাং পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে আমি থাকতে চাই, টি-টোয়েন্টিটা আমি ছেড়ে দিতে চাচ্ছি—এরকম একটা মেইল পাঠিয়েছে। ও আসার পরেই আমরা এটা চূড়ান্ত করব।’
বাংলাদেশ নারী দলের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করছেন সরোয়ার ইমরান। আগামী অক্টোবরে বাংলাদেশের কোচের মেয়াদ শেষ হবে। তবে গুঞ্জন রয়েছে পরবর্তী সিরিজের আগেই নতুন কোচ নিয়োগ দেবে বিসিবি। মেয়েদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার পর ডেভিড হেম্পের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে তারা।
নারী বিভাগের চেয়ারম্যান বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা হতে পারে। এটা খুবই ভালো পছন্দ। কারণ সে ইতোপূর্বে আমাদের দেশে কাজ করে গেছে। আমরা ওই চিন্তাভাবনা থেকেই মেয়েদের সাথে কথা বলেছি। সবাই কিন্তু তার ব্যাপারে ইতিবাচক বলেছে। সেজন্যই আমরা কিন্তু কথাবার্তা বলেছি।’