ব্যাটিং ব্যর্থতায় সিরিজ হার বাংলাদেশের

নারী ক্রিকেট
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা, ফাইল ফটো
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
প্রথম টি-টোয়েন্টির পর দ্বিতীয় ম্যাচেও হার্শিতা সামারাবিক্রমা তান্ডব চালিয়েছেন বাংলাদেশের বোলারদের ওপর। সাবধানী শুরু করার পর স্লগ ওভারে হার্শিতার ঝড়ে ১৫৪ রানের পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা। প্রত্থম ম্যাচে ফিফটির পর এ দিন ২৯ বলে ৪৯ রান করেন হার্শিতা। জবাব দিতে নেমে পাওয়ার প্লেতে দারুণ সূচনা করে বাংলাদেশ। কিন্তু টানা তিন ব্যাটারের রান আউটে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় জ্যোতির দল। শারমিন আক্তার ৪৪ রান করে লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও হার এড়াতে পারেননি। তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ২১ রানে জিতে সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা।

১৫৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে ভালো সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার দিলারা আক্তার ও জুরাইরিয়া ফেরদৌস। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৬ রান তোলে বাংলাদেশ। সপ্তম ওভারে দিলারাকে ফিরিয়ে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন কাভিশা দিলহারি। ২৩ বলে ২৩ রান করেন দিলারা।

‎একাধিকবার জীবন পেয়েও নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি আরেক ওপেনার জুরাইরিয়াও। দলীয় ৬৭ রানে শারমিন আক্তারের সাথে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হন তিনি। ২৩ বলে এক ছক্কা ও তিন চারে ২৯ রান করেন জুরাইরিয়া। এরপর ব্যাটারদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাবে রান আউটের শিকার হয়ে আরো দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

‎অধিনায়ক জ্যোতি ও সোবহানা মোস্তারি দুইজনই রান আউটের শিকার হন। সাত বলে সাত রান করেন জ্যোতি, আর রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান সোবহানা। এই দুইজন রান আউট হবার পরেও আরো কয়েকবার রান আউটের সম্ভাবনা জাগান ব্যাটাররা।

‎এক প্রান্তে শারমিন আক্তার লড়াই করলেও লক্ষ্যের সাথে পাল্লা দিতে পারেননি। এদিকে দলীয় ১১১ রানে কাভিশার দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফিরে যান স্বর্ণাও। ব্যক্তিগত ১২ রানে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন স্বর্ণা। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে ৪৭ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন শারমিন। পাঁচ উইকেটে ১৩৩ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

এর আগে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সাবধানী শুরু করে লন্কানরা। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে ভাঙে লন্কানদের উদ্বোধনী জুটি। দলীয় ২২ রানে ফারিহা তৃষ্নার বলে মিড অন জ্যোতির হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন হাসিনি পেরেরা। এরপর ইমেশা দুলানিকে সাথে নিয়ে ৪৪ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক আতাপাত্তু।

‎একাদশ ওভারে ইমেশাকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন রিতুমণি। বড় শট খেলতে গিয়ে লং অফ অঞ্চলে জ্যোতির তালুবন্দি হবার আগে ২৫ বলে চারটি চারে ২৭ রান করেন ইমেশা। কিছুক্ষণ বাদে ফিরে যান অধিনায়ক আতাপাত্তুও। সুলতানা খাতুনকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে তৃষ্নার ক্যাচে পরিণত হন লন্কান অধিনায়ক। আউট জবার আগে ৩৭ বলে ছয়টি চারে ৪২ রান করেন এই অলরাউন্ডার।

‎শেষ ছয় ওভারে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর ঝড় বইয়ে দেন নিলাকশিকা সিলভা হার্শিতা সামারাবিক্রমা। তাদের ৩৭ বলে ৬১ রানের জুটিতে দেড়শ পেড়োয় লন্কানদের ইনিংস। ইনিংসের শেষ বলে নাহিদা আক্তারে বলে আউট হবার আগে ২৯ বলে ৪৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন হার্শিতা। অপর প্রান্তে ১৮ বলে ২২ রান করে অপরাজিত থাকা নিলাকশিকাও দারুণ সঙ্গ দেন। চার উইকেটে ১৫৪ রানে শেষ হয় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে তৃষ্না, সুলতানা, নাহিদা ও রিতুমণি একটি করে উইকেট নেন।

আরো পড়ুন: