তদন্তে অসহযোগিতা, বিপদ বাড়ছে রিজওয়ানের

পাকিস্তান ক্রিকেট
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বেটিং ও জুয়াসংক্রান্ত তদন্তের জেরে এখনো মোহাম্মদ রিজওয়ানের ফোন জব্দ করে রেখেছে পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ) । পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটেও ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটারকে খেলতে দিচ্ছে না পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। নতুন খবর হচ্ছে, তদন্তের কাজে এনসিসিআইএকে অসহযোগিতা করছেন রিজওয়ান। এমনটা অব্যাহত থাকলে আরও বিপদে পড়তে পারেন তিনি।

ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফেরার পরই রিজওয়ান ও ইমাম উল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করে এনসিসিআইএ। অনলাইন বাজি ও জুয়ার পাশাপাশি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ চলাকালীন পাকিস্তান দলের ড্রেসিং রুমের তথ্য ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করছে প্রতিষ্ঠানটি। যদিও তাদের দুজনের কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি তারা।

এনসিসিআইএ-এর সূত্র অনুযায়ী, তদন্তে সহযোগিতা চেয়ে তদন্তকারীরা বেশ কয়েকবার রিজওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু বারংবার চেষ্টার পরও ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটারের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। আবার কখনো কখনো রিজওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই ব্যর্থ হয়েছেন তারা। এমনকি সংস্থার প্রশ্নের জবাব দিতে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করার সময়ও চেয়েছেন পাকিস্তানের এই ক্রিকেটার।

তদন্তে সহযোগিতা চেয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর (সোমবার) আবারও রিজওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করবে এনসিসিআইএ। এবারও যদি সহযোগিতা না করেন তাহলে রিজওয়ানকে নোটিশ পাঠানোর পাশাপাশি আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে তারা। সূত্র অনুযায়ী, সংস্থাটি চায় রিজওয়ান যেন সহযোগিতা করে এবং তদন্ত যেন দ্রুত শেষ হয়। রিজওয়ানকে এমনও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যে তার সামনেই ফোনের ফরেনসিক করানো হবে।

অন্য উপায়ে ফরেনসিক করানোর উপায় থাকলেও সেই পথে হাঁটবে না এনসিসিআইএ। তাদের ধারণা সেই পথে হাঁটলে তথ্য হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। রিজওয়ানের উত্তর সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় কিছু সন্দেহ দূর করতে তার ফোনের ফরেনসিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রিজওয়ান ও ইমামের বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে তদন্ত সহযোগিতা করেছেন ইমাম।

এজন্য বর্তমানে বাঁহাতি ওপেনারের ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনো ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই এখনো প্রমানিত হয়নি বলে জানা গেছে। এদিকে আইসিসি ও এনসিসিসিআইএ এর মধ্যে কোনো ধরনের যোগাযোগ হয়নি। একটি সূত্র জানিয়েছে, রিজওয়ান যদি তাদের কার্যালয়ে আসতে না পারেন তাহলে তার কাছে তদন্ত দল পাঠানোর প্রস্তাবও দিয়েছে সংস্থাটি।

দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করার পর কোনো ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে নিয়ম ভঙের প্রমাণ না পাওয়া গেলে তাদেরকে অভিযোগ মুক্ত করতে চায় এনসিসিআইএ। রিজওয়ানের একটি সূত্র জানিয়েছে, এখনো কোনো নোটিশ পাননি তিনি। আগের নোটিশও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠিয়ে প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়েছে। উল্টো এনসিসিআইএ কে কিছু প্রশ্ন করেছেন রিজওয়ান।

প্রশ্নগুলো ছিল, ‘অভিযোগগুলো কী, কেন আমাকে ডাকা হচ্ছে, আমার সাথে কী কেউ যেতে পারবে?’ যদিও প্রশ্নগুলোর উত্তর পাননি রিজওয়ান। আইন অনুযায়ী নোটিশ পাওয়ার পরই রিজওয়ান এনসিসিআইএ কার্যালয়ে হাজির হবেন এবং প্রশ্নের উত্তর দেবেন। তবে তদন্তে অসহযোগিতা যদি চলমান থাকে তাহলে বড় ধরনের বিপদে পড়তে পারেন রিজওয়ান।

আরো পড়ুন: