শুধু পারিশ্রমিক কমানো নয়, খরচ কমাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে ঘরোয়া ক্রিকেটেও। চলতি মৌসুমের পুরুষদের সুপার ফিফটি ও মেয়েদের টি-টোয়েন্টি ব্লেজ স্থগিত করেছে সিডব্লিউআই। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ক্রিস ডেহরিংয়ের ভাষায়, আর্থিক, উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতামূলক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি তাদের বড় ধরনের পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ।
খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক কমানোর সিদ্ধান্তকে সহজ হিসেবে দেখছে না সিডব্লিউআই। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এটিকে প্রয়োজনীয় বলেই মনে করছে তারা। ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেহরিং বলেন, 'আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ও খেলোয়াড়দের সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তারা যে পরিস্থিতি বুঝেছেন, সেটিও আমরা উপলব্ধি করছি। সিদ্ধান্তটি আদর্শ নয়, কিন্তু আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য এটি প্রয়োজনীয়।'
ঘরোয়া ক্রিকেট পরিচালনায় বড় খরচের কারণও ব্যাখ্যা করেছে সিডব্লিউআই। বয়সভিত্তিক দল থেকে শুরু করে সিনিয়র দল এবং পুরুষ ও নারী সব ধরনের ক্রিকেটের বেতন, ম্যাচ ফি, বিমানভাড়া, হোটেল ও আয়োজনের খরচ এত দিন মূলত বোর্ডকেই বহন করতে হয়েছে। ডেহরিং জানিয়েছেন, গত ১৫ বছরে শুধু ঘরোয়া ক্রিকেটের যাতায়াতে আঞ্চলিক এয়ারলাইনগুলোর পেছনে ৮ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি খরচ হয়েছে।
আর্থিক চাপ সামলাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের কাছ থেকেও ঋণ নিতে হয়েছে সিডব্লিউআইকে। বোর্ড জানিয়েছে, জুলাইয়ে আইসিসি তাদের জন্য মোট ১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে। আগামী এক বছরে তিন ধাপে এই অর্থ পাওয়ার কথা। তবে ঋণ পেতে কিছু নির্দিষ্ট আর্থিক শর্ত পূরণ করতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।
ঘরোয়া সুপার ফিফটি স্থগিত হওয়ার প্রভাব শুধু আর্থিক নয়, ক্রিকেটীয় দিক থেকেও বড়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে জায়গা করতে পারেনি এবং ২০২৭ বিশ্বকাপে খেলতে হলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে বাছাইপর্ব পেরোতে হবে। সুপার ফিফটি সেই প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল। তাই সিডব্লিউআই নভেম্বর মাসে সফরকারী ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে সাদা বলের ম্যাচ আয়োজন এবং এরপর ওয়ানডে দলের ক্যাম্প করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
সুপার ফিফটি ও টি-টোয়েন্টি ব্লেজের জায়গায় ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের বাছাইপর্বের জন্য আলাদা আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। এসব আয়োজনের খরচ বহন করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ড ও অলিম্পিক সংস্থাগুলো। অন্যদিকে আগামী মৌসুমের নারী সুপার ফিফটির পরিবর্তে হবে ‘বেস্ট বনাম বেস্ট’ উন্নয়নমূলক টুর্নামেন্ট। চার দিনের ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়নশিপ অবশ্য আগের কাঠামোতেই চালু থাকবে।