ম্যাচে নামার আগে পিটারসেনের পুরোনো ব্যাটিংয়ের হাইলাইটস দেখেছিলেন ব্রুক। তার ইনিংসের ধরনও ছিল অনেকটা পিটারসেনের মতো, বোলারকে চাপে রাখা, মাঠের প্রচলিত ও অপ্রচলিত দুই দিকেই শট খেলা এবং মুহূর্তেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়া। পিটারসেনকে এখন ইংল্যান্ডের সাদা বলের দলের বিশেষ মেন্টর হিসেবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত রাখা হয়েছে।
আইসিসিকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় নিজের নতুন মেন্টরকে নিয়ে ব্রুক বলেন, 'মজার ব্যাপার হলো, ম্যাচের আগে আমি তার হাইলাইটস দেখছিলাম। তিনি অসাধারণ একজন খেলোয়াড় ছিলেন। মাঠের বিভিন্ন জায়গায় যেভাবে শট খেলতেন, তাতে অধিনায়ক ও বোলারদের জন্য তাকে সামলানো কঠিন হয়ে যেত। তার সঙ্গে এ নিয়ে অনেক কথা বলার অপেক্ষায় আছি।'
পিটারসেনের অভিজ্ঞতা শুধু টি-টোয়েন্টি বা ওয়ানডেতে নয়, টেস্ট ক্রিকেটেও কাজে লাগাতে চান ব্রুক। বিশেষ করে ভিন্ন ধরনের উইকেট বুঝে নিজের ব্যাটিং অনুযায়ী খেলার বিষয়ে পিটারসেনের কাছ থেকে শেখার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। দলে নতুন মেন্টরকে পেয়ে অন্য খেলোয়াড়দের মধ্যেও বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
ব্রুক বলেন, 'উইকেট বুঝে কীভাবে নিজের দক্ষতা কাজে লাগাতে হয়, সে বিষয়ে তিনি আমাকে সাহায্য করার চেষ্টা করছেন। এটা শুধু সাদা বলের ক্রিকেটের জন্য নয়, টেস্ট ক্রিকেটেও কাজে লাগবে। আশা করি, আমার ক্যারিয়ারে তিনি বড় প্রভাব ফেলতে পারবেন। ড্রেসিংরুমের অনেক খেলোয়াড়ের কাছেই তিনি নায়ক। আমরা সবাই তাকে দেখে বড় হয়েছি, তাই তার মতো একজনকে দলে পাওয়া দারুণ ব্যাপার।'
এদিকে ব্রুকের এমন ব্যাটিংয়ের পর সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। পিটারসেনের সঙ্গে তুলনা টেনে স্টোকস প্রথমে ব্রুকের প্রতিভাকে আরও ওপরে রাখার মতো মন্তব্য করেন। পরে অবশ্য নিজের বক্তব্য কিছুটা পরিষ্কার করে বলেন, পিটারসেন ও ব্রুক দুজনই অসাধারণ প্রতিভাবান, তবে তার মতে ব্রুক এগিয়ে।
ইংল্যান্ডের হয়ে পিটারসেনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১০৪ টেস্টে ৮ হাজারের বেশি, ১৩৬ ওয়ানডেতে ৪ হাজার ৪৪০ এবং ৩৭ টি-টোয়েন্টিতে ১ হাজার ১৭৬ রান রয়েছে। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলেরও সদস্য ছিলেন তিনি। আগামী ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতেই ইংল্যান্ডের সাদা বলের সেটআপে তাকে যুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ব্রুকের ১১৪ ও জস বাটলারের ৮০ রানে ভর করে ২৫৪ রান করে ইংল্যান্ড। জবাবে ১৯ ওভারে ১৩৫ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। সিরিজে ইংল্যান্ড এগিয়ে আছে ১-০ ব্যবধানে; দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি হবে ১৭ সেপ্টেম্বর কার্ডিফে।