টেস্ট ক্রিকেটই আমার প্রথম অগ্রাধিকার: আফ্রিদি

পাকিস্তান ক্রিকেট
শাহীন শাহ আফ্রিদি, ফাইল ছবি
শাহীন শাহ আফ্রিদি, ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
পাকিস্তানের টেস্ট দলে ফেরার লড়াইয়ে এবার ঘরোয়া ক্রিকেটকেই মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছেন শাহীন আফ্রিদি। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের টেস্ট দলে জায়গা হয়নি তার। এর মধ্যে পাকিস্তানের টেস্ট ক্রিকেটে পেস আক্রমণ নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। এমন সময়ে সাত বছর পর দেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফিরছেন পাকিস্তানের এই বাঁহাতি পেসার। তার সামনে লক্ষ্য একটাই-লাল বলের ক্রিকেটে নিজেকে আবারও প্রমাণ করে জাতীয় দলের টেস্ট পরিকল্পনায় ফিরতে নিজের দাবি জোরালো করা।

শনিবার (সেপ্টেম্বর) শুরু হচ্ছে পাকিস্তানের নতুন ঘরোয়া মৌসুমের প্রথম লাল বলের প্রতিযোগিতা প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড ওয়ান। আট দলের এই টুর্নামেন্ট চলবে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিটি দল খেলবে সাতটি করে চার দিনের ম্যাচ, এরপর শীর্ষ দুই দল মুখোমুখি হবে পাঁচ দিনের ফাইনালে। খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজের (কেআরএল) হয়ে খেলবেন শাহীন। প্রথম ম্যাচে তার দল পেশোয়ারের ইমরান খান স্টেডিয়ামে ঘানি গ্লাসের মুখোমুখি হবে।

নিজের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফেরার আগে ক্রিকইনফোকে শাহীন বলেছেন,'লাল বলের ক্রিকেট সব সময়ই আমার প্রথম অগ্রাধিকার। আমি সব সময়ই এই ক্রিকেটকে ভালোবেসেছি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কারণে যথেষ্ট সময় পাইনি। গত কয়েক মাসেও খুব বেশি ক্রিকেট খেলিনি। তাই এখন লাল বলের ক্রিকেট খেলার সুযোগটা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।'

টেস্টে ফেরার ইচ্ছাটাও স্পষ্ট করেছেন শাহীন। চলতি বছর পাকিস্তানের টেস্ট পরিকল্পনায় তাকে নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। জুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের আগে পাকিস্তানের ২২ সদস্যের রেড-বল ক্যাম্পেও তাঁকে রাখা হয়নি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিয়মিত না থাকাকে তার বাদ পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। ফলে প্রেসিডেন্টস ট্রফিতে তাঁর পারফরম্যান্স এখন শুধু ঘরোয়া ক্রিকেটের হিসাব নয়, জাতীয় দলের দরজায় ফেরার পরীক্ষাও।

দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে ছন্দ ফিরে পেতে প্রথম শ্রেণির ম্যাচের গুরুত্বও অনুধাবন করছেন আফ্রিদি। বড় ভাই রিয়াজ আফ্রিদির কাছ থেকে লাল বলের ক্রিকেট নিয়ে অনেক কিছু শেখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, 'দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে যত বেশি সময় মাঠে থাকা যায়, আত্মবিশ্বাস তত বাড়ে এবং লাইন ও লেংথও আরও ভালোভাবে ঠিক হয়। আমি টেস্ট ক্রিকেটে যেভাবে বল করেছি, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও সেভাবেই বল করার চেষ্টা করব।'

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে শাহীনের প্রত্যাবর্তন অবশ্য একেবারে নতুন কোনো অধ্যায় নয়। ২০১৭ সালে কেআরএলের হয়ে তার প্রথম শ্রেণির অভিষেকেই দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯ রানে ৮ উইকেট নিয়ে আলোড়ন তুলেছিলেন ১৭ বছর বয়সী শাহীন। সেই পারফরম্যান্সই তাঁকে দ্রুত জাতীয় দলের কাছাকাছি নিয়ে আসে। কিন্তু ২০১৯ সালের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততায় পাকিস্তানের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আর নিয়মিত দেখা যায়নি তাকে। তার সর্বশেষ নিশ্চিত ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ম্যাচটি ছিল ২০১৯ সালের অক্টোবরে নর্দার্নের হয়ে কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে।

সাম্প্রতিক সাদা বলের ক্রিকেটে অবশ্য নিজের ফর্মের প্রমাণ দিয়েছেন শাহীন। সদ্য শেষ হওয়া চ্যাম্পিয়নস কাপে পাকিস্তান গোল্ডকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিও হয়েছেন তিনি। ফাইনালে ৩৬ রানে ৭ উইকেট নিয়ে দলকে শিরোপা এনে দেওয়ার পর এবার তার সামনে লাল বলের পরীক্ষা। প্রেসিডেন্টস ট্রফিতে সেই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে টেস্ট দলে ফেরার পথও খুলে যেতে পারে।

আরো পড়ুন: