টেস্টে কনকাশন ছাড়াও বদলি খেলোয়াড়ের সুযোগ চালু হবার সম্ভাবনা

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট
ফাইল ফটো
ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
গত মৌসুমে শেফিল্ড শিল্ডে নতুন নিয়ম চালু করেছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ওই নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচের প্রথম দুই দিনের মধ্যে কোনো খেলোয়াড় চোটে পড়লে তার বদলে একই ধরনের খেলোয়াড়কে দলে নেওয়ার সুযোগ ছিল। তবে শেফিল্ড শিল্ডের ফাইনালে এই সময়সীমা বাড়িয়ে তিন দিন করা হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষ দল চাইলে পাল্টা বদলি খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছিল। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) মনে করছে, শেফিল্ড শিল্ডে চালু করা চোটজনিত বদলি খেলোয়াড়ের নিয়ম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্যও কার্যকর হতে পারে। এখন তারা অপেক্ষা করছে আইসিসির সিদ্ধান্তের জন্য।

কাউন্টি ক্রিকেটে আরেক দফা পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শেষ হওয়ার পর চলতি বছরের শেষ দিকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ২০২৬-২৭ মৌসুমেও এই নিয়ম চালু রাখার প্রত্যাশা করছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। তবে শেফিল্ড শিল্ডের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা ধরে রাখতে আইসিসির অনুমোদন প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যদি আইসিসি ভিন্ন কোনো নিয়ম চালু করে, তাহলে অস্ট্রেলিয়াকেও নিজেদের নিয়মে পরিবর্তন আনতে হতে পারে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুধু কনকাশন বা মাথায় আঘাতের ক্ষেত্রে বদলি খেলোয়াড় নেওয়ার অনুমতি রয়েছে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সূচি ও ঘরোয়া ক্রিকেট বিভাগের প্রধান পিটার রোচ বলেন, 'ইংল্যান্ডের গ্রীষ্মকাল শেষ হওয়ার পর তারা (আইসিসি) সিদ্ধান্ত নেবে এবং আমাদের জানাবে। আমরা আশা করছি নিয়মটি চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি পাব, তবে কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়।'

তিনি আরও বলেন, 'আইসিসি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমাদের মতো একই নিয়ম চালু করবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। যদি ভিন্ন কিছু হয়, তাহলে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা নিয়ম পরিবর্তন করব, নাকি বর্তমান অবস্থাতেই থাকব।'

গত মৌসুমে শেফিল্ড শিল্ডে আটবার চোটের কারণে খেলোয়াড় বদলের ঘটনা ঘটেছে। তবে একবারই প্রতিপক্ষ দল সেই সুযোগ ব্যবহার করেছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দাবি, দলগুলোর কাছ থেকে এই নিয়ম নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াই পাওয়া গেছে।

তবে শেফিল্ড শিল্ড ফাইনালে মিচ পেরি, স্যাম এলিয়টের বদলি হিসেবে মাঠে নামায় দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার কোচ রায়ান হ্যারিস সন্তুষ্ট ছিলেন না। তার মতে, ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এমন নিয়ম কিছুটা হতাশাজনক হতে পারে। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেছিলেন যে, নিয়মটি আগে থেকেই জানা ছিল এবং সব দলই এর সুযোগ নিতে পারত।

পিটার রোচ জানান, কিছু দল নিয়মটির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে কেউই এটিকে নিজেদের বাড়তি সুবিধা হিসেবে ব্যবহার করতে পারেনি, যা নিয়মটির কার্যকারিতা প্রমাণ করে। চোটের কারণে দল থেকে বাদ পড়া খেলোয়াড়কে ১২ দিনের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হবে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এই পরীক্ষার আগে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) বড় ধরনের চোটের ক্ষেত্রে বদলি খেলোয়াড়ের নিয়ম পরীক্ষা করেছিল। এরপর ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) আরও বিস্তৃত পরিসরে নিয়ম চালু করে, যেখানে অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত জরুরি পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও বদলির সুযোগ রাখা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকাও নিজেদের ঘরোয়া ক্রিকেটে এমন নিয়ম পরীক্ষা করেছে।

রোচ বলেন, 'চোট পাওয়া দল যেন বাড়তি সুবিধা না পায়, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা চেয়েছি চোটের কারণে যে অসুবিধা তৈরি হয়, সেটি কমাতে; তবে কোনো দল যেন সুবিধা না পায়। আমাদের নিয়মে সেটি নিশ্চিত করা গেছে।'

তিনি আরও বলেন, আইসিসি যদি এই নিয়ম গ্রহণ না করে, তাহলে অক্টোবরের পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

২০২৬-২৭ মৌসুমের অস্ট্রেলিয়ার পুরুষ ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু হবে ১৮ সেপ্টেম্বর ওয়ানডে কাপ দিয়ে। এরপর ৭ অক্টোবর শুরু হবে শেফিল্ড শিল্ডের প্রথম রাউন্ড।

আরো পড়ুন: