স্টোকসের বিদায়ে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডারের জায়গা আপাতত ফাঁকা। সেই ভূমিকার সঙ্গে কারানের দক্ষতার মিল থাকায় তাকে স্টোকসের সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিবিসি স্পোর্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কারান বলেন, 'অবশ্যই (সুযোগ পেলে আমি সেই জায়গা নিতে চাই)। তবে আমার মূল লক্ষ্য হলো নিজের সেরাটা খেলা। সময় এলে নির্বাচকেরা সিদ্ধান্ত নেবেন, স্টোকসির জায়গায় কে খেলবে। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলাটা দারুণ গর্বের বিষয়। আমি প্রতিযোগিতাপ্রিয় একজন মানুষ। হাতে ব্যাট বা বল থাকলে সব সময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। এরপর কী হয়, সেটাই দেখা যাবে।'
তবে স্টোকসের মতো একজন ক্রিকেটারের জায়গা পূরণ করা যে সহজ হবে না, সেটিও স্বীকার করেছেন কারান। স্টোকসকে পুরো ইংল্যান্ডই ভীষণ মিস করবে বলেও জানান এই অলরাউন্ডার।
তিনি বলেন, 'এটা এমন একটি বিষয়, যেটার সঙ্গে মানিয়ে নিতেই হবে। স্টোকসের অবসরের পর এ নিয়ে অনেক আলোচনা হবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে যে-ই দলে আসুক, সে চাইবে সবাই তার পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলুক, স্টোকসকে নিয়ে নয়। স্টোকসকে ইংল্যান্ড অবশ্যই ভীষণ মিস করবে। কিন্তু আমি নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ নিতে চাই না। আগামী কয়েক সপ্তাহে যা-ই হোক, আমার লক্ষ্য একটাই, ইংল্যান্ডকে ম্যাচ জেতাতে অবদান রাখা। এরপর যা হওয়ার, তাই হবে।'
২৮ বছর বয়সী কারান ২০২১ সালের পর আর টেস্ট খেলেননি। এরপর মাঝে মধ্যে সারের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে খেললেও লাল বলের ক্রিকেটে নিয়মিত ছিলেন না। ইংল্যান্ডের হয়ে এখন পর্যন্ত ২৪টি টেস্টে ৮১৫ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন ৪৭ উইকেট।
তবে স্টোকসের বিকল্প হিসেবে কারানই যে ইংল্যান্ডের একমাত্র বিকল্প, বিষয়টা এমন নয়। আগামী আগস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের আগে দলীয় ভারসাম্যের কথা বিবেচনা করে স্পিন অলরাউন্ডার রেহান আহমেদ বা জেমস কোলসকেও সুযোগ দিতে পারে ইংল্যান্ড। সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত একজন পেসার খেলানোর সুযোগ তৈরি হবে।
অন্যদিকে স্টোকসের অবসরের পর নতুন টেস্ট অধিনায়কও খুঁজতে হবে ইংল্যান্ডকে। সহ-অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককে এ দৌড়ে এগিয়ে রাখা হলেও তিনি ইতোমধ্যে সীমিত ওভারের দলের অধিনায়ক। তাই তিন সংস্করণের নেতৃত্ব তার ওপর চাপিয়ে দিতে অনিচ্ছুক ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড।
এ অবস্থায় সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নেতৃত্বের আলোচনায়ও উঠে আসছে কারানের নাম। টি-টোয়েন্টি দলে অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার এরই মধ্যে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে সারের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২৫ সালে তার নেতৃত্বে আইএল টি-টোয়েন্টির শিরোপা জিতেছে ডেজার্ট ভাইপার্স। এছাড়া ২০২৬ সালের দ্য হান্ড্রেডে এমআই লন্ডনের অধিনায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।