অবসরই ছিল আমার সেরা সিদ্ধান্ত: স্টোকস

ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড সিরিজ
বেন স্টোকস, ফাইল ফটো
বেন স্টোকস, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
পুরো ক্যারিয়ারের মত বেন স্টোকসের অবসরটাও যেন অনেকটা নাটকীয়। নাইটক্লাব কান্ডে ওভাল টেস্টে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার পর নাটকীয়ভাবে ট্রেন্টব্রিজ টেস্টে দলে ফিরেছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক। এরপর হুট করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন স্টোকস। তবে হুট করে নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত অনেক দিন ধরেই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। ব্যক্তিগতভাবে এবং ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা অটুট রাখার জন্য অবসরকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন স্টোকস।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্ট চলাকালীন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন স্টোকস। এই টেস্টে মাঠে নামার মধ্য দিয়েই শেষ হবে তার ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।

ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্টোকস বলেন, 'শুনতে হয়তো কিছুটা স্বার্থপর মনে হতে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে আমার জন্য এটিই সেরা সিদ্ধান্ত। আশা করি, দলের জন্যও এটি ইতিবাচক হবে। সবচেয়ে বড় কথা, এই খেলাটাকে আগের মতো ভালোবেসে যেতে চাই, যে খেলা আমাকে এত কিছু দিয়েছে।'

সম্প্রতি লন্ডনের একটি নাইটক্লাবে ঘটে যাওয়া ঘটনার কারণে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারেননি স্টোকস। তবে অবসরের সিদ্ধান্ত ওই ঘটনার ফল নয় বলেই স্পষ্ট করেন তিনি। তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ সিরিজ শেষ হওয়ার পরই প্রথমবারের মতো অবসরের চিন্তা মাথায় আসে। এরপর ঘরের মাঠে লর্ডস টেস্ট চলাকালীন সেই ভাবনা আরও জোরালো হয়।

স্টোকস বলেন, 'লর্ডস টেস্ট আমাকে আবার মনে করিয়ে দিয়েছিল, ক্যারিয়ারের কোন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছি। অ্যাশেজ থেকে ফিরে নিজেকে বদলে ফেলার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেকেই ক্লান্ত করে ফেলেছিলাম।'

তিনি স্বীকার করেন, গত কয়েক সপ্তাহের ঘটনাও তার সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করেছে। এ প্রসঙ্গে স্টোকস বলেন, 'এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ আসেনি। লর্ডস টেস্টের পুরো সপ্তাহজুড়ে বিষয়টি মাথায় ছিল। পরে ড্রেসিংরুমে জো রুটের পাশে বসেও অনেক কিছু ভেবেছি। এরপর আরও কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা আমাকে নিশ্চিত করেছে। আমার ক্ষেত্রে কোনো কিছুই সহজভাবে হয় না। গত দুই সপ্তাহের ঘটনাগুলো দুর্ভাগ্যজনক ছিল।'

দ্বিতীয় টেস্টে না খেলতে পারায় কাউন্টি দল ডারহামের হয়ে মাঠে নামার সুযোগ পান স্টোকস। সেখানেই আবার ক্রিকেট উপভোগ করার অনুভূতি ফিরে পান বলে জানান তিনি। তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়লেও ডারহামের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানান ইংলিশ অলরাউন্ডার।

স্টোকস বলেন, 'ডারহামে ফিরে ক্রিকেটের প্রতি নতুন করে ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছিলাম। কিন্তু ইংল্যান্ড দলে ফিরে সেই অনুভূতিটা আর ফিরে পাইনি। এখন ডারহামের হয়ে খেলতে পারব ভেবে দারুণ রোমাঞ্চিত। এই সপ্তাহের সঙ্গে ডারহামের সেই সময়টার তুলনা করলে বুঝতে পারি, আমি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি।'

স্টোকস জানান, ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নামার প্রস্তুতির সময়ই চূড়ান্তভাবে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন। পরে জো রুট ও সহ-অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককে বিষয়টি জানান। পরদিন সকালে পুরো দলকে সিদ্ধান্তের কথা অবহিত করেন।

ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্বকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান উল্লেখ করে স্টোকস বলেন, 'ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। তবে এর এমন একটি দিকও আছে, যা বাইরের মানুষ দেখতে পায় না। পরিবার, বিশেষ করে আমার স্ত্রী জানেন, এটি মানসিকভাবে কতটা ক্লান্ত করে দেয়।'

শুধু মানসিক নয়, শারীরিকভাবেও গত কয়েক বছর ছিল কঠিন। হাঁটু, হ্যামস্ট্রিং, কাঁধ ও অ্যাডাক্টরের একাধিক চোটে ভুগেছেন স্টোকস। ২০২১ সালে মানসিক সুস্থতার জন্য ক্রিকেট থেকেও সাময়িক বিরতি নিয়েছিলেন তিনি।

স্টোকস বলেন, 'আমরা যা করি, তা শারীরিক ও মানসিক দুই দিক থেকেই ভীষণ কঠিন। এখন ৩৫ বছর বয়সে আগের মতো খেলতে গেলে শরীরকে ফিট রাখতে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। সব মিলিয়ে বিষয়টি বেশ ক্লান্তিকর হয়ে উঠছিল।

ক্যারিয়ারের অর্জন নিয়ে স্টোকসের কোনো আক্ষেপ নেই। অ্যাশেজ জয়, ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, হেডিংলির ঐতিহাসিক ইনিংস এবং ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব সবকিছু মিলিয়ে নিজেকে পরিপূর্ণ বলেই মনে করেন তিনি।

ক্যারিয়ার নিয়ে মূল্যায়নে স্টোকস বলেন, 'আমি যা অর্জন করেছি, তাতে আমি সন্তুষ্ট। অ্যাশেজ জিতেছি, ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও জিতেছি। ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি এবং অসাধারণ সব ক্রিকেটারের সঙ্গে খেলেছি। তাই অভিযোগ করার মতো খুব বেশি কিছু নেই।'

আরো পড়ুন: