ডাম্বুলায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন বৈভব। প্রথম ওভারেই দুটি চার মেরে আত্মবিশ্বাসের ইঙ্গিত দেন তিনি। এরপর তৃতীয় ওভারে মোহামেদ সিরাজকে লক্ষ্য করে তিনটি ছক্কা ও দুটি চার হাঁকিয়ে এক ওভার থেকেই নেন ২৬ রান। তার ব্যাটে ভর করে প্রথম তিন ওভারেই পঞ্চাশ ছাড়িয়ে যায় ভারত ‘এ’ দলের সংগ্রহ।
এরপর আরও দ্রুতগতিতে এগোতে থাকেন তরুণ এই ব্যাটার। চতুর্থ ওভারে একটি চার ও টানা দুটি ছক্কায় মাত্র ১১ বলে পূর্ণ করেন ফিফটি। এর মধ্য দিয়ে তিনি ভেঙে দেন ‘লিস্ট এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম অর্ধশতকের ২১ বছরের পুরোনো রেকর্ড। এর আগে ২০০৫ সালে ১২ বলে এই কীর্তি গড়েছিলেন কৌশাল্য উইরারত্নে।
ফিফটির পরও থামেননি বৈভব। একের পর এক চার ও ছক্কায় শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর চাপ বাড়াতে থাকেন তিনি। নবম ওভারে সাহান আরাচ্চিগের বলে দৃষ্টিনন্দন এক ছক্কাও হাঁকান। তবে সেই ওভারেই শেষ হয় তার বিধ্বংসী ইনিংস।
জায়গা তৈরি করে বড় শট খেলতে গিয়ে মিড-অফে ধরা পড়েন বৈভব। ২৯ বলে ৯৪ রান করে ফেরার সময় ভারত ‘এ’ দলের সংগ্রহ ছিল ৮.৫ ওভারে ১৩২ রান। শতক না পাওয়ার হতাশা তার মুখে স্পষ্ট ছিল, আর প্রতিপক্ষ অধিনায়ক নিরোশান ডিকওয়েলা এগিয়ে এসে তাকে সান্ত্বনা জানান।
এই প্রতিযোগিতায় ফাইনালের আগে খুব বেশি আলো ছড়াতে পারেননি বৈভব। কয়েকটি কার্যকর ইনিংস খেললেও ধারাবাহিকতা ছিল না। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক ম্যাচে মাঠের উত্তেজনায় জড়িয়ে সমালোচনার মুখেও পড়েছিলেন তিনি। তবে ফাইনালের এই ইনিংস সেই সব আলোচনা অনেকটাই আড়াল করে দিয়েছে।
গত এক মাসে চতুর্থবারের মতো অল্পের জন্য শতক হাতছাড়া হলো বৈভবের। এর আগে আইপিএলে তিনি ৯৩, ৯৭ ও ৯৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ধারাবাহিকভাবে বড় ইনিংস খেলার এই সক্ষমতা এখন তাকে জাতীয় দলের আসন্ন ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরের আগে বিশেষভাবে আলোচনায় এনে দিয়েছে।