এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সফল অধিনায়কদের একজন। কামিন্সের নেতৃত্বে ২০২৩ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে অজিরা। এরপর অ্যাশেজও ধরে রেখেছে তারা। সানরাইজার্স হায়দরবাদেও নিজের অধিনায়কত্বের প্রভাব রেখেছেন অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার। সাফল্য, অর্জন ছাপিয়ে সেই কামিন্সের কাছে পরিবারই এখন সব।
সম্প্রতি ‘হাউ টু ফেইল’ অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন কামিন্স। সেখানেই বিভিন্ন প্রসঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেছেন কামিন্স। জানিয়েছেন পরিবারই এখন তার প্রথম অগ্রাধিকার। যত বেশি সম্ভব সময় তিনি পরিবারের সঙ্গে কাটাতে চান। পরিবারকে কোনো কিছুর জন্য অপেক্ষায় রাখতে চান না তিনি।
কামিন্স বলেন, ‘এখন আমি আমার পারিবারিক অগ্রাধিকার নিয়ে একদম পরিষ্কার। আমি যতটা সম্ভব সময় পরিবারের সঙ্গে কাটাতে চাই। আপনি সবকিছু বারবার পরে করার জন্য ফেলে রাখতে পারেন না। আপনি ভাবেন ৩৫ বা ৩৬ বছর বয়স পর্যন্ত ক্রিকেট খেলবেন, তারপরই পরিবার শুরু করবেন। আমি সেই মানসিকতা বদলেছি। এখন মনে হয়, না, জীবন যেমন আসে তেমনভাবেই বাঁচতে চাই।’
২০২৩ সালে কামিন্সের মা মারা যান ব্রেস্ট ক্যানসারে। তার ছেলে অ্যালবি জন্ম নেয় প্রায় আড়াই বছর আগে। এই দুই সময়ের মাঝের জীবনটা বেশ উপভোগ করে গেছেন কামিন্স। তবে এখন সেই ভাবনায় অনেকটাই বদল এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বাবা মা হওয়ার পরও খুব কম সময় বাসায় ছিলাম। বিষয়টি আমাকে সবসময় ভাবায়। পরিবার হিসেবে আমরা যা করতে চাই, সেগুলোর জন্য আমি জোরালোভাবে হ্যাঁ বলতে চাই। আমরা যখন সফরে থাকি, সেটিকে পুরোপুরি উপভোগ করতে চাই। শুধু সময় পার হয়ে যাওয়া দেখতে চাই না।’
এই দৃষ্টিভঙ্গি তার সবকিছুর প্রতি দেখার ধরন বদলে দিয়েছে, ক্রিকেটও এর বাইরে নয়। আধুনিক সময়ের অন্যতম সফল অধিনায়ক হওয়া সত্ত্বেও কামিন্স নিজেকে কখনো নিজেকে নেতা হিসেবে ভাবেননি। এই ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জীবনের বেশিরভাগ সময় আমি ঘরের সবচেয়ে কনিষ্ঠ ছিলাম। নিজেকে কখনো নেতা মনে হয়নি।'
পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কত্ব গ্রহণ করাও সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। তিনি যোগ করেন, ‘আগের অধিনায়কদের প্রচণ্ড চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে দেখেছি। দায়িত্বটির কিছু দিক আকর্ষণীয় ছিল, আবার অনেক কিছুই আমাকে টানেনি। শেষ পর্যন্ত আমি এটি নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তবে না নিলেও স্বচ্ছন্দ ছিলাম।'