১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি এনে দিয়েছিলেন ইমরান। দুনিয়ার অন্যতম সেরা পেস বোলিং অলরাউন্ডার ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার পর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পদেও বসেছিলেন ৭৩ বছর বয়সি ইমরান। ২০২৩ সালের আগষ্টের পর থেকেই কারাবন্দী জীবনযাপন করছেন তিনি। কয়েক মাস ধরে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে তাকে।
পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চোখের সমস্যা প্রকট হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় পাকিস্তানের অনেক সাবেক ক্রিকেটারই তার সুচিকিৎসা চেয়ে টুইট করেছেন। এ ছাড়া সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব, গ্রেগ চ্যাপেলসহ ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তান সরকারকে চিঠি দিয়েছেন। তাদের মতো ভক্ত সমর্থকরাও ইমরানের মুক্তি দাবি করছেন। তাদেরই একজন ব্রাউন। ৩০ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছেন তিনি।
এমনিতে ঘরোয়াতে ক্রিকেট খেললেও শেফিল্ড শিল্ডের ফাইনালে দর্শক হিসেবে ব্রাউন হাজির হয়েছিলেন জংশন ওভালে। গায়ে ছিল একটি টি-শার্ট। সেখানে ইমরানের ছবিসহ লেখা ছিল ‘ফ্রি ইমরান খান’। এমন টি-শার্ট পড়ে আসায় ব্রাউনকে মাঠে প্রবেশের অনুমতি দেননি নিরাপত্তা কর্মীরা। পরবর্তীতে আরেকটি টি-শার্ট দিয়ে সেটা ঢেকে মাঠে প্রবেশ করেন তিনি। গেইটে আটকে দেওয়ার ঘটনায় অবাক হয়েছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে ব্রাউন বলেন, ‘আমি খানিকটা অবাক হয়েছিলাম। আমি বুঝতে পারছি, তাদেরকে অন্যান্য জটিল পরিস্থিতিও সামাল দিতে হয়। এসব পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ঢালাও নিয়ম প্রয়োগ করা তাদের জন্য সহজ। নিরাপত্তা কর্মীরা বেশ বিনয়ী ছিল। আমি বুঝতে পারছি তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আমার মনে হয় এটা ভুল সিদ্ধান্ত।’
‘পুরো ক্রিকেট দুনিয়ার উচিত তার (ইমরান খান) পাশে দাঁড়ানো। তারা কীভাবে নিয়ম কার্যকর করবে এটা পুরোপুরি তাদের ব্যাপার। তারা যদি এটা করতে থাকে তাহলে ইমরান খানের সমর্থনে ক্রিকেট প্রেমীদের ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাদের উপরও একটা দায়িত্ব বর্তায়।’
ব্রাউনের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দেশটির ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, নিরাপত্তা কর্মীরা সঠিকভাবে নির্দেশনা পালন করেছে। পরবর্তীতে ঘটনাটি আরও পর্যালোচনা করে দেখেছে সিএ। সেই সময় জানানো হয়েছে, ইমরানকে সমর্থন দেওয়াকে তারা ‘রাজনৈতিক বিষয়’ হিসেবে দেখছে না।
অর্থাৎ ইমরানের সমর্থনে কিছু পড়ে মাঠে প্রবেশ করা অস্ট্রেলিয়ার টিকেট এবং প্রবেশের শর্তাবলী লঙ্ঘন করে না। এ প্রসঙ্গে সিএ-এর একজন মুখপাত্র বলেন, ‘ইমরান খানের কল্যাণ ও সুস্থতা নিয়ে ক্রিকেট মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা মনে করি এটা একটা মানবিক বিষয় এবং আমরা সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিব।’
অস্ট্রেলিয়ান বোর্ডের অবস্থান পরিষ্কার প্রশংসা করেছেন ব্রাউন। তিনি বলেন, ‘আমার মতো একজন সাধারণ ক্রিকেট ভক্তের ইমরানের সঙ্গে আচরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সহজ। কিন্তু ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটা কঠিন। তবে আমি তাদের সাধুবাদ জানাই।’