দল নির্বাচনে বাইরের কারো হস্তক্ষেপ কিংবা ক্রিকেট বোর্ডে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ—পাকিস্তানের ক্রিকেটে দুটোই খুব স্বাভাবিক ঘটনা। এসব কারণে সবসময়ই অস্থিতিশীল থাকে পাকিস্তানের ক্রিকেট। ভারতকে ২০১১ বিশ্বকাপ জেতানো কোচ কারস্টেন মাত্র ছয় মাস পাকিস্তানে কাজ করেই বেশ বিস্মিত ছিলেন এসব ইস্যুতে। এমন ঘটনাগুলোকেই পাকিস্তান ক্রিকেটের প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখেন বর্তমানে শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচের দায়িত্বে থাকা কারস্টেন।
সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কারস্টেন বলেন, ‘যেহেতু আমি পুরো পৃথিবী জুড়েই কাজ করেছি এবং চারটি দেশকে কোচিং করিয়েছি, আমার বিভিন্ন ধরণের হস্তক্ষেপ মোকাবেলা করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। একেক দেশে এই ধরণের সমস্যাগুলো একেকরকম হয়ে থাকে।’
পাকিস্তান ক্রিকেটে এই হস্তক্ষেপের মাত্রা সবকিছু ছাড়িয়ে গিয়েছিল উল্লেখ করে কারস্টেন বলেন, ‘আমি মনে করি না এই পর্যায়ের হস্তক্ষেপ আমি কোথাও দেখেছি। যখন বাইরে থেকে প্রতিনিয়ত শোরগোল হতে থাকে তখন কোচের পক্ষে খেলোয়াড়দের সাথে কাজ করাটা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।’
কোচ বদল যেন পাকিস্তান ক্রিকেটের সবচেয়ে সাধারণ ঘটনা। ২০২৪ এর ফেব্রুয়ারি থেকে এখনো পর্যন্ত মোট পাঁচজন প্রধান কোচ কাজ করেছেন পাকিস্তানের হয়ে। বারবার কোচকে বলির পাঠা বানানোর বিষয়টিকেও তীব্র সমালোচনা করেন কারস্টেন। এভাবে বারবার কোচ বদলালে কোচ নিয়োগের প্রয়োজন কী সেই প্রশ্নও তোলেন কারস্টেন।
শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচ বলেন, ‘একজন কোচের অধীনে যখন দল ভালো করতে পারে না তখন আপনিই হন সবচেয়ে সহজ লক্ষ্য। তাই কোচকে সরিয়ে দেওয়া বা তার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করাই সবচেয়ে সহজ। আমার মতে এটি আসলে হিতে বিপরীত করে। সেক্ষেত্রে কোচ নিয়োগ করার দরকারটা কী?’