ব্রুক-রুটের সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ডের সিরিজ জয়

শ্রীলঙ্কা-ইংল্যান্ড সিরিজ
২০২৩ সালের মার্চের পর বিদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড
২০২৩ সালের মার্চের পর বিদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ইনিংসের ৪৫তম ওভারে জো রুট যখন সেঞ্চুরি করলেন তখন হ্যারি ব্রুক অপরাজিত ৪০ বলে ৫২ রানে। হাফ সেঞ্চুরির পর প্রেমাদাসার ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে রীতিমতো তাণ্ডব চালালেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। চার-ছক্কার বৃষ্টিতে ৬৬ বলে খেললেন অপরাজিত ১৩৬ রানের ইনিংস। সাড়ে তিনশর বেশি রান তাড়ায় পাথুম নিশানকার হাফ সেঞ্চুরির সঙ্গে ১১৫ বলে ১২১ রানের ইনিংস খেলে শ্রীলঙ্কাকে আশা দেখালেন পবন রত্নায়েকে। তবে স্বাগতিকদের ম্যাচ জিতিয়ে ফিরতে পারেননি তিনি।

রুট ও ব্রুকের সেঞ্চুরির পর বোলারদের সম্মিলিতি প্রচেষ্টায় শ্রীলঙ্কাকে ৫৩ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতে নিয়েছে ইংল্যান্ড। প্রায় তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিতল তারা। সবশেষ ২০২৩ সালের মার্চে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে সিরিজ জিতেছিল ইংলিশরা। বিপরীতে ৫ বছর পর ঘরের মাঠে সিরিজ হারল শ্রীলঙ্কা। স্বাগতিকরা সবশেষ ওয়ানডে সিরিজ হেরেছিল ২০২১ সালে, ভারতের বিপক্ষে।

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে রান তাড়ায় ইনিংসের প্রথম থেকেই আক্রমণাত্বক ব্যাটিং করেন কামিল মিশারা ও নিশানকা। তাদের দুজনের ব্যাটে ভালো শুরু পেলেও উদ্বোধনী জুটি পঞ্চাশ ছোঁয়ার আগেই ফেরেন মিশারা। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে ১৭ বলে ২২ রান করে ফেরেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। ভালো শুরু পাওয়ার পরও ইনিংস বড় করতে পারেননি কুশল মেন্ডিস। ৯ বলে ২০ রান করে ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটার আউট হয়েছেন জেমি ওভারটনের বলে। একশ ছোঁয়ার আগে ফিরে গেছেন নিশানকাও। আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়ে মাত্র ২৫ বলে ৫০ রান করে নিশানকাকে ড্রেসিং রুমে ফিরিয়েছেন ওভারটন। দ্রুতই আউট হয়েছেন চারিথ আসালাঙ্কা।

অধিনায়ক ফেরার পর পবন ও জানিথ লিয়ানাগে মিলে শ্রীলঙ্কাকে টেনে নেয়ার চেষ্টা করেন। যদিও ৩৬ বলে ২২ রানের বেশি করতে পারেননি লিয়ানাগে। দুইশ পার হতেই বিদায় নিয়েছেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভাও। বাকিরাও ছিলেন আসা যাওয়ার মিছিলে। লোয়ার অর্ডারে ব্যাটিং করলেও চারে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছেন পবন। শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে খেলেছেন ১২১ রানের ইনিংস। এমন সেঞ্চুরিতেও শ্রীলঙ্কাকে জেতাতে পারেননি পবন। ইংল্যান্ডের হয়ে দুইটি করে উইকেট নিয়েছেন ওভারটন, লিয়াম ডওসন, উইল জ্যাকস ও আদিল রশিদ।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে সাবধানী ব্যাটিং করতে থাকেন বেন ডাকেট ও রেহান আহমেদ। যদিও তাদের দুজনের জুটি বড় হয়নি। ইনিংসের সপ্তম ওভারে ফেরেন ডাকেট। একটু পর আউট হয়েছেন ৩৭ বলে ২৪ রান করা রেহানও। ৪০ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ধাক্কা সামাল দিয়ে জুটি গড়েন জ্যাকব বেথেল ও রুট। তাদের দুজনের ব্যাটেই এগোতে থাকে ইংলিশরা। রুট ৫৪ এবং বেথেল হাফ সেঞ্চুরি করেন ৬৪ বলে। হাফ সেঞ্চুরির পর খুব বেশি এগোতে পারেননি বেথেল।

৮ চারে ৭২ বলে ৬৫ রান করে আউট হয়েছেন জেফ্রি ভ্যান্ডারসের বলে। বেথেলের বিদায়ে ভাঙে রুটের সঙ্গে ১২৬ রানের জুটি। পরের গল্পটা রুট ও ব্রুকের। শুরুতে দেখেশুনে ব্যাটিং করেই ৪০ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। বিপরীতে দাঁড়িয়ে ১০০ বলে সেঞ্চুরি করেছেন রুট। ডানহাতি ব্যাটারের সেঞ্চুরির পর শ্রীলঙ্কান বোলারদের উপর তাণ্ডব চালান ব্রুক। ৪০ বলে হাফ সেঞ্চুরি করা ব্রুক সেঞ্চুরি করেছেন ৫৭ বলে। অর্থাৎ ৫০ থেকে ১০০ করতে ১৭ বল খেলেছেন তিনি।

নিজের খেলা শেষ ২৭ বলে ৯০ রান করেছেন। শেষ পর্যন্ত ৯ ছক্কা ও ১১ চারে ৬৬ বলে ১৩৬ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। ৯ চার ও এক ছক্কায় ১০৮ বলে ১১১ রানের ইনিংস খেলেছেন রুট। তাদের সেঞ্চুরিতে শেষ ১০ ওভারে ১৩০ রান তোলে ইংল্যান্ড। যেখানে শেষ ৩০ বলেই এসেছে ৮৮ রান। চতুর্থ উইকেটে ব্রুক ও রুট মিলে ১৯১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন। যেখানে ব্রুকের অবদান ১৩৬।

আরো পড়ুন: