নতুন এফটিপিতে বাড়ছে টি-টোয়েন্টি, কমছে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ

আইসিসি এফটিপি
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
চলতি সপ্তাতে দুবাইয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করতে যাচ্ছে আইসিসি। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মশালায় ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম (এফটিপি) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। যেখানে সদস্য দেশগুলো ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত নিজেদের পরবর্তী আন্তর্জাতিক সিরিজগুলোর একটি ক্যালেন্ডার বা রূপরেখা তৈরির চেষ্টা করবে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হতে যাওয়া কর্মশালায় আইসিসির ক্রিকেটে পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করা হবে। যার বড় একটি অংশ জুড়ে থাকবে এফটিপি।

আইসিসির এফটিপির বর্তমান চক্র শেষ হচ্ছে ২০২৭ সালের মার্চ মাসে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বোর্ডের মধ্যকার আলোচনায় কাজগুলো অনেকটা এগিয়েছে। তবুও দুবাইয়ের বৈঠক থেকে এখনই চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ কোনো এফটিপি পাওয়া যাবে না। আইসিসির একজন কর্তার ভাষ্যমতে, অনেকগুলো পরিবর্তনশীল বা জটিল কিছু বিষয় জড়িত থাকার কারণে এখনই চূড়ান্ত এফটিপি প্রকাশ হবে না। যদিও সদস্য দেশগুলোর আলোচনার মাধ্যমে সূচি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী নভেম্বরে বালিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আইসিসির ত্রৈমাসিক সভায় উপস্থাপন করা হতে পারে।

বাড়ছে টি-টোয়েন্টি, কমছে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ

গত কয়েক বছরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা রীতিমতো তুঙ্গে। বিশেষ করে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিচরণে অনেকাংশে হারিয়ে যাওয়ার পথে ওয়ানডে ক্রিকেটে। আগামী বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে সাউথ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়াতে হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। তবে গত কয়েক বছরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে ওয়ানডে ক্রিকেটের ভবিষ্যত নিয়ে। কারও চোখে ওয়ানডে ক্রিকেট মরে গেছে, কেউ কেউ বলছেন মরে না গেলেও অন্তত কোমায় আছে।

সাবেক ক্রিকেটারদের চোখেও ৫০ ওভারের ক্রিকেট আকর্ষণ হারিয়েছে। শচীন টেন্ডুলকার, ওয়াসিম আকরাম, রবি শাস্ত্রী, মঈন আলী, বেন স্টোকসের মতো সাবেকরা ওয়ানডে ক্রিকেট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সেটার প্রভাব পড়তে যাচ্ছে নতুন এফটিপিতে। পরবর্তী চক্রে পূর্ণ সদস্যের দেশগুলোর মধ্যে আরও বেশি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেটার জন্য দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজের সংখ্যা কমে যেতে পারে।

কারণ একটি বর্ষপঞ্জিতে সব ধরনের ক্রিকেট আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্রিকেটাররা ফ্র্যাঞ্চাইজিতেও ব্যস্ত থাকছেন। ক্রিকেটের প্রসারে আইসিসিও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ওয়ানডে ক্রিকেটের বিশ্বকাপ চার বছর এবং টি-টোয়েন্টির বিশ্বকাপ হয়ে থাকে দুই বছর অন্তর। নামিবিয়া ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আইসিসির বোর্ডের নবনিযুক্ত পরিচালক রুডি ভ্যান ভারেন সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জগতে সহযোগী সদস্য দেশগুলোর আরও বেশি সুযোগ রয়েছে।

তবে এটার অর্থ এই নয় যে ওয়ানডে ক্রিকেট শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবে গুরুত্ব যে কমছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। যদিও এখনো বিশ্বকাপের দিক থেকে ৫০ ওভারের ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ও আকর্ষণ রয়েছে। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যাতে ওয়ানডে ক্রিকেটের আকর্ষণ ফিরিয়ে আনা যায় সেটার ব্যাপারে চিন্তা করছে আইসিসি। এক্ষেত্রে ওয়ানডে সুপার লিগের পরিবর্তে নব্বই দশকের জনপ্রিয় ফরম্যাট যেমন ত্রিদেশীয় সিরিজ কিংবা চার দলীয় সিরিজগুলো ফেরানোর কথা ভাবছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিগ থ্রির মধ্যকার সিরিজগুলো প্রায় চূড়ান্ত

আইসিসির এফটিপি এখনো চূড়ান্ত না হলেও অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার সিরিজগুলো আগেই ঠিক হয়ে গেছে। ক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রচলিত নিয়মেই অ্যাশেজ চলতে থাকবে। যেখানে ২০২৭ (ইংল্যান্ডে), ২০২৯-৩০ (অস্ট্রেলিয়ায়) এবং ২০৩১ সালে ইংল্যান্ডে অ্যাশেজ অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ২০২৮ সালের শুরুতে পাঁচ টেস্টের সিরিজ খেলতে ভারত সফর করবে ইংল্যান্ড। পরের বছর অর্থাৎ ভারতকে ঘরের মাঠে আতিথেয়তা দেবেন ইংলিশরা।

২০২৭-৩১ চক্রের সূচিতে বড় একটা চ্যালেঞ্জ হতে পারে গ্রীষ্মকালীন লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক। ১৯০০ সালের পর প্রথমবারের মতো অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট। জুলাই মাস অর্থাৎ ইংল্যান্ডের গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এক সপ্তাহব্যাপী ক্রিকেট ইভেন্ট ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। অন্যান্য দেশগুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে তাদের এফটিপিতে ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ অন্তর্ভুক্ত করা।

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরই ভারতকে আতিথ্য দেওয়ার কথা রয়েছে সাউথ আফ্রিকার। ভারতের বিপক্ষে সিরিজ খেলার সুযোগ না থাকায় অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজ বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছে পাকিস্তান। ইতোমধ্যে আগামী গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলা নিশ্চিত হয়েছে তাদের। যদিও শুরুতে একটি টেস্ট খেলার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছিল। তবে সেটা নির্ভর করছে পাকিস্তান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার দৌড়ে আছে কিনা সেটার উপর। ২০২৭-২৮ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তিন টেস্টের সিরিজ খেলার কথা রয়েছে পাকিস্তানের।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে কী ৯ দলই থাকবে?

গত এক বছর ধরে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কাঠামো ও বিন্যাস নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেকে দুই স্তরের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে বেশ কয়েকটি দেশ ভেটো দেওয়ায় সেটা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হয়েছে। গত বছরের এপ্রিলে নয় দলের পাশাপাশি জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডকে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

পাশাপাশি এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজও যুক্ত করার পরামর্শ দেয় আইসিসির একটি ওয়ার্কিং কমিটি। জানা গেছে, জিম্বাবুয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে যুক্ত হতে আগ্রহী। আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড যুক্ত হতে চায় কিনা সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। নতুন করে দল বাড়ানো হবে কিনা সেটা এখনো অনিশ্চিত। তবে সপ্তাহের শেষের দিকে একটি ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

আরো পড়ুন: