মাইক্রোফোন হাতে ব্যাগি ক্যাপ নিয়ে নিজেদের নানান অভিজ্ঞতা, ভালো লাগার কথা জানালেন মুশতাক, সিমন্স, মুশফিকুর রহিমরা। পরবর্তীতে সাবেক অধিনায়করা একে একে আকবর আলী, মোহাম্মদ মিঠুন, ইয়াসির আলী রাব্বিদের ব্যাগি ক্যাপ পড়িয়ে দিলেন। প্রতিটা অধিনায়কই পেলেন ভিন্ন রঙের ক্যাপ। একটু পর টাইগার্স ডেনের ব্যালকনিতে ফটোসেশান করলেন প্রিতম কুমার, জাকির হাসানরা।
টাইগার্স ডেনের ক্যাপ প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সংবাদ সম্মেলন কক্ষের দিকে এগিয়ে এলেন ৮ বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার ৮ অধিনায়ক। টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা যে ক্যাপ পড়ে খেলেন সেটাকে বলা হয়ে থাকে ব্যাগি গ্রিন ক্যাপ। বিশ্ব ক্রিকেটে ব্যাগি গ্রিন ক্যাপকে মর্যাদার প্রতীক হিসেবেই বিবেচনা করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের মুশফিক তো নিজের অভিষেক ক্যাপটা এখনো যত্নে রেখেছেন।
রঙ উঠে যাওয়া সেই ক্যাপ পড়েই এখনো বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটেও সেই ব্যাগি ক্যাপের প্রচলন শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঐতিহ্য, মর্যাদা ও নতুন সংস্কৃতির অংশ হিসেবেই এনসিএলের আগামী ৮ অধিনায়ককে ব্যাগি ক্যাপ দেওয়া হয়েছে। মোহাম্মদ মিঠুন সেই ক্যাপকে ওউন করতে চান। টেস্ট ক্রিকেটের প্রতীক হিসেবেই সেটাকে বয়ে নিয়ে বেড়াতে চান খুলনা বিভাগের অধিনায়ক।
এনসিএলের সংবাদ সম্মেলনে ব্যাগি ক্যাপ নিয়ে মিঠুন বলেন, ‘আমরা ঘরোয়া ক্রিকেট খেলিই তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রভাব রাখার জন্য। টেস্টের কারণেই যেহেতু প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলাটা আসছে, ব্যাগি ক্যাপটা তো আপনারা জানেন টেস্টের একটা প্রতীক। এখানে রঙটা ম্যাটার করে না। আমরা যে রঙই পেয়েছি সেটাকেই আমরা ওউন করব।’
‘অন্তত আমরা জানতে পারলাম আমাদের একটা রঙ আছে। এটাকে ওউন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যে উদ্দেশ্যে কাজগুলো করা হচ্ছে...টেস্ট ক্রিকেটে যেন আমরা আরও ভালো করতে পারি। আমাদের মূল কাজ মাঠে, ক্রিকেট যেন প্রতিযোগিতামূলক হয়, যারা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলবে তারা যেন টেস্টের জন্য নিজেকে তৈরি করতে পারে সেটাই আমাদের মূল উদ্দেশ্যে।’
এনসিএল ক্রিকেট নিয়ে নানান সময়ই প্রশ্ন উঠেছে। যদিও গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের এনসিএলের ক্রিকেটীয় মান বদলে গেছে। বিশেষ করে বল এবং উইকেট পরিবর্তনের পরই সেটার সুফল পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। মিঠুন মনে করেন, যে দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট যত ভালো সেই দেশের টেস্ট ক্রিকেট ততো ভালো।
মিঠুন বলেন, ‘প্রতি বছরই কিন্তু প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট নিয়ে কথা হয়। ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে খেলোয়াড়রা যোগাযোগ করে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে যেহেতু মেরুদন্ড ধরা হয়, যে দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট যত ভালো সেই দেশের টেস্ট ক্রিকেট ততো ভালো। এটা শুধু মুখে মুখেই এতদিন হয়েছে, সেটার মানদন্ড যেরকম হওয়া উচিত সেটা কখনোই হয়নি। কিন্তু এবার হচ্ছে এজন্য খেলোয়াড়রা সবাই খুশি।’
এনসিএলের নতুন কাঠামোতে প্রতিটি বিভাগীয় দলে ফার্স্ট ও সেকেন্ড ইলেভেন থাকবে। যার ফলে প্রায় ১৫০-২০০ জন নতুন ক্রিকেটারের সুযোগ তৈরি হবে। বিসিবির এমন পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন আকবর। রংপুর বিভাগের অধিনায়ক মনে করেন, সেকেন্ড ইলেভেনের জন্য ক্রিকেটারদের পুলটা আরও বড় হবে।
আকবর বলেন, ‘যেহেতু নতুন একটা ফরম্যাটে খেলা হচ্ছে, সেকেন্ড ইলেভেন বা সেকেন্ড টায়ার থাকছে। আমি নিশ্চিত প্রতিটা দলেই ওইখান থেকে ফাস্ট ট্র্যাক হয়ে কিছু খেলোয়াড় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সুযোগ পাবে। আমার মনে এবার খেলোয়াড়দের পুলটা আরও বড় হচ্ছে। প্রত্যেকটা দলের জন্য একটা সুযোগ প্রত্যেকটা খেলোয়াড় বা প্রতিভাকে দেখার এবং তাদেরকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিয়ে আসার। আশা থাকবে ভালো খেলোয়াড়রা বাছাই হবে।’