জিডি ট্রফির ফাইনাল পরিত্যক্ত, চ্যাম্পিয়ন অনূর্ধ্ব ১৯ দল

গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফি
ছবিঃ ক্রিকফ্রেঞ্জি
ছবিঃ ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
লিগ পর্বের মুখোমুখি দুই ম্যাচে সমান একটি করে জয় ছিল দুই দলেরই। যদিও সবশেষ দেখায় অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে উড়িয়ে দিয়েছিল অনূর্ধ্ব-২৩ দল। কিন্তু ফাইনালের শুরুটা হলো তার ঠিক বিপরীত। ৩০ রানেই অনূর্ধ্ব-২৩ এর ৩ উইকেট তুলে নিয়ে দুর্দান্ত শুরু করে অনূর্ধ্ব-১৯ এর যুবারা। পেসার তাফিউল আলম তামিমের ৬ উইকেট শিকারে শিরোপা জয়ের ঘ্রাণ পাচ্ছিল তারা। অনূর্ধ্ব-২৩ এর ব্যাটারদের সম্মিলিত প্রয়াসে ২৪৬ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায় তারা। জবাব দিতে নেমে দুইবার বৃষ্টির বাঁধায় খেলা বন্ধের মাঝে ৯৯ রান তোলে অনূর্ধ্ব-১৯ দল। এরপর খেলা শুরু সম্ভব না হওয়ায় ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন ম্যাচ রেফারি। গ্রুপ পর্বে পয়েন্ট বেশি থাকায় চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয় অনূর্ধ্ব ১৯ দলকে।

২৪৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভালো শুরু পায় অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ৬ ওভারে ১ উইকেটে ২৭ রান তোলার পর বৃষ্টির বাধায় বন্ধ হয় খেলা। লম্বা সময় খেলা বন্ধ থাকলে ম্যাচ কমিয়ে ৪৩ ওভারে আনা হয়। অনূর্ধ্ব-১৯ এর সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬১ রান।

পুনরায় খেলা শুরু হলে দ্রুত গতিতে রান তোলার চেষ্টায় উইকেট হারতে থাকে অনূর্ধ্ব-১৯। ৫৪ রানের মধ্যে আবদুল্লাহ আল মুহি ও কাউসার আহমেদের উইকেট হারানোর পর দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে থাকেন ফারহান সাদিক। তার ১৫ বলে ২৯ রানের ক্যামিওতে ভালোই আগাচ্ছিল অনূর্ধ্ব-১৯। কিন্তু লেগ স্পিনার স্বাধীন ইসলামের বলে সাদিক ফিরে গেলে বড় হোঁচট খায় অনূর্ধ্ব-১৯ এর যুবারা। তাদের রান যখন ৫ উইকেটে ৯৯ তখন আবারও বৃষ্টির হানা। এরপর আর খেলা শুরু করা সম্ভব না হলে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন ম্যাচ রেফারি।

লিগ পর্বে চার ম্যাচে ৬ পয়েন্ট ছিল অনূর্ধ্ব ১৯ দলের। অন্যদিকে চার ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে উঠেছিল অনূর্ধ্ব ২৩ দল। লিগ পর্বের পয়েন্ট বেশি থাকায় জিডি ট্রফির চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয় অনূর্ধ্ব ১৯ দলকে।

এর আগে মিরপুর শের এ বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি অনূর্ধ্ব-২৩ এর ব্যাটারদের। ধীর-স্থির শুরু করা অনূর্ধ্ব-২৩ দলে প্রথম আঘাত হানেন আতিকুর রহমান আকাশ। ওপেনার আদিলকে ৬ রানেই সাজঘরে ফেরান এই বাঁহাতি পেসার।

বেশিক্ষণ টেকেননি আজিজুল হাকিম তামিম ও রিজান হোসেনরাও। তামিম ১৫ ও রিজান শূন্য রানে ফিরলে ৩০ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে অনূর্ধ্ব-২৩ দল। এরপর দলকে কিছুটা টেনে তোলার চেষ্টা করেন অ্যালিন সিদ্দিকী ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। আল রাফির বলে ২৪ রান করা আবদুল্লাহ উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হলে ভাঙে ৫২ রানের জুটি। খানিক বাদে ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৪ বলে ৪৭ রান করা আবদুল্লাহও ফিরে যান আকাশের বলে বোল্ড হয়ে। আবারও চাপে পড়ে অনূর্ধ্ব-২৩ দল।

ষষ্ঠ উইকেটে ৮৬ রানের জুটি গড়ে সেই চাপ সামাল দেন পিয়ান ও দেবাশিষ। দুইজনকেই ফিরিয়ে অনূর্ধ্ব-২৩ এর বড় স্কোরের স্বপ্ন নষ্ট করে দেন ডানহাতি পেসার তামিম। ৪৬ রান করা পিয়ানকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান তামিম। ৪১ বলে ৪৩ রান করে দেবাশিষও ফিরে যান এই তামিমের শিকার হয়ে।

এরপর শেষ দিকে মাহফুজুর রাব্বি ২৬ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেলে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের রান আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ৪৯ ওভার ৪ বলে ২৪৫ রানে অলআউট হয় অনূর্ধ্ব-২৩ দল। তামিমের ৬ উইকেটের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-১৯ এর হয়ে আকাশ ৩ টি ও রাফি একটি উইকেট নেন।

আরো পড়ুন: