আবদুল্লাহর সেঞ্চুরি, বিশাল জয়ে জিডি ট্রফির ফাইনালে অনূর্ধ্ব-২৩ দল

গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফি
আবদুল্লাহ, ক্রিকফ্রেঞ্জি
আবদুল্লাহ, ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ইনিংসের ছন্দটা ঠিক করে দিয়েছিলেন ওপেনার আদিল। তার শুরুর ঝড় এরপর অব্যাহত রাখেন আবদুল্লাহ ও রিজান হোসেন। স্বীকৃত ক্রিকেটে নিজের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে বিশাল সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন আবদুল্লাহ। রিজানও পান ফিফটির দেখা। শেষদিকে আহরার আমিন পিয়ানের দ্রুতগতির ফিফটি ও মাহফুজুর রাব্বির ক্যামিওতে নিজেদের রানকে সাড়ে তিনশর কাছাকাছি নিয়ে যায় অনূর্ধ্ব -২৩। বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লেগ স্পিনার স্বাধীন ইসলামের ঘূর্ণিতে দাঁড়াতেই পারেনি -১৭ এর ব্যাটাররা। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাধীনের ৪ উইকেট শিকারে অনূর্ধ্ব-১৭ কে ১৩০ রানে গুটিয়ে দিয়ে ২১৫ রানের বিশাল জয় পায় অনূর্ধ্ব-২৩ দল। আর তাতে জিডি ট্রফির ফাইনালেও উঠে যায় তারা

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বেশ ধীর স্থির সূচনা করে অনূর্ধ্ব-১৭ এর দুই ওপেনার নূর এ আলম ও আবদুল্লাহ হিল গালিব। প্রথম ছয় ওভারে ৯ রান তোলেন এই দুই ওপেনার। ষষ্ঠ ওভারে গালিব রান আউট হলে ভাঙে সেই জুটি। ২য় উইকেটে ৯১ বলে ২৭ রানের জুটি গড়েন নূর ও সৌরভ কর্মকার।

৬৭ বলে ৩ চারে ২৩ রান করা নূরকে আউট করেন বাঁহাতি চায়নাম্যান নুয়াহেল সানদীদ। ৬৪ বলে ২০ রানের ইনিংস খেলা সৌরভকে ফেরান আগের ম্যাচে চার উইকেট নেওয়া লেগস্পিনার স্বাধীন ইসলাম। ৫ নম্বরে নামা ইমরান ভূঁইয়া কিছুটা চেষ্টা চালালেও ২৯ রানেই তাকে থামান স্বাধীন। অনূর্ধ্ব-১৭ দলের আর কোনো ব্যাটারই থিতু হতে পারেননি এরপর। ১৭ রানের ব্যবধানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩০ রানেই অলআউট হয় অনূর্ধ্ব-১৭ দল।

আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও চার উইকেট নেন স্বাধীন। এছাড়া পিয়ান দুইটি এবং আজিজুল হাকিম তামিম, সানদীদ ও রাব্বি একটি করে উইকেট নেন। ২১৫ রানের বিশাল জয়ে ৪ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে পৌছালো তামিম-স্বাধীনরা। চার ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মুখোমুখি হবে তারা।

মিরপুর শের এ বাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নামা অনূর্ধ্ব-২৩ দলে ভালো সূচনা এনে দেন ওপেনার আদিল। চতুর্থ ওভারেই আগের ম্যাচের নায়ক তামিম ফিরে গেলেও অন্যপ্রান্তে আগ্রাসী ক্রিকেট খেলেন আদিল। ৮ বলে ৫ রান করেন তামিম। অন্যদিকে তিন ছক্কা ও দুই চারে ৩১ বলে ৪০ রান করার পর আফিপ হাসান লিখনের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন আদিল।

এরপর কালাম সিদ্দিকী অ্যালিন কোনো রান না করেই সাজঘরে ফিরলে ৬১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে অনূর্ধ্ব-২৩ দল। তবে, চতুর্থ উইকেটে ১৫৬ রানের বিশাল জুটি গড়ে সব চাপ উড়িয়ে দেন রিজান ও আবদুল্লাহ। অনূর্ধ্ব-১৭ এর বোলারদের অসহায় বানিয়ে ফিফটির দেখা পেয়ে যান দুইজনই।

দলীয় ২১৭ রানে ইমরান ভূঁইয়ার বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে রিজান আউট হলে ভাঙে সেই জুটি। ৯৩ বলে দুই ছক্কা ও ৫ চারে ৭৬ রান করেন রিজান। কিন্তু অন্যপ্রান্তে তখনও অবিচল আগ্রাসী আবদুল্লাহ। ৯১ তম বলে বাউন্ডারি মেরে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ৯৩ বলে দুই ছক্কা ও ১১ চারে ১০১ রান করে ইফতেখারের শিকার হন তিনি।

আবদুল্লাহ আউট হবার পর দলের হাল ধরেন পিয়ান। লোয়ার মিডল অর্ডারে পিয়ানকে দারুণ সঙ্গ দেন দেবাশীষ ও রাব্বি। দেবাশীষ ১৮ বলে ২৭ ও রাব্বি ৯ বলে ২২ রানের ক্যামিও খেলে আউট হন। অন্যপ্রান্তে ৪০ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন পিয়ান। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩৪৫ রানে থামে অনূর্ধ্ব-২৩ দল। অনূর্ধ্ব-১৭ এর হয়ে মোহাম্মদ মাজেদুল ও ইফতেখার দুইটি করে এবং ফরহাদ আহমেদ, লিখন ও ইমরান একটি করে উইকেট নেন।

আরো পড়ুন: