ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ খানিকটা দুর্ভাগা ছিল। সাইফ হাসানের সোজা খেলা বলটা বোলার স্পেন্সার জনসনের হাত ছুঁয়ে গিয়ে স্টাম্পে লাগলে রান আউট হয়ে ফিরতে হয় তানজিদ হাসান তামিমকে। স্পেন্সারের বলে বাজে শট খেলে আউট হয়েছেন সাইফ নিজেও। ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পেয়েও সুবিধা করতে পারেননি পারভেজ হোসেন ইমন।
নাথান এলিস, স্পেন্সারদের বিপক্ষে রানই বের করতে পারছিলেন না বাঁহাতি এই ব্যাটার। চাপের মুখে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে যান ইমন। প্রথম দুই ম্যাচে একাদশে না থাকলেও শেষ টি-টোয়েন্টিতে সুযোগ পেয়েছিলেন নুরুল হাসান সোহান। দৃষ্টিকটুভাবে বোল্ড হয়েছেন অ্যাডাম জাম্পার বলে। শামীম হোসেনও বাজে শটে ফিরে গেছেন। তাদের এমন আসা-যাওয়ার মিছিলে একমাত্র হাফ সেঞ্চুরি করেছেন হৃদয়। অধিনায়ক ছাড়া কেউই সেভাবে দায়িত্ব না নেওয়ায় হতাশ সিমন্স।
বাংলাদেশের প্রধান কোচ বলেন, ‘দেখুন, শুরু থেকেই আমাদের বার্তাটা শুধু এই সিরিজ নিয়ে না; বরং আমরা কীভাবে ক্রিকেট খেলতে চাই, সেটিই ছিল মূল বিষয়। হ্যাঁ, আমরা দ্রুত রান তুলে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে চাই, তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার সামর্থ্যও থাকতে হবে। কোনো রান না করেই যদি ২ উইকেট পড়ে যায়—যেমন তামিম যেভাবে আউট হলো, সেটা সত্যিই হতাশাজনক। কিন্তু এরপর আমরা স্রেফ উইকেট উপহার দিয়ে এসেছি। মাঠে দায়িত্ব নিয়ে খেলার ব্যাপারে আমরা প্রচুর কথা বলেছি। অথচ অধিনায়ক ছাড়া আর কারও ব্যাটিংয়ে সেই দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারটা দেখা যায়নি।’
সবশেষ কয়েকটি টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভালো ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজটা ছিল পুরোপুরি উল্টো। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাজে ব্যাটিংয়ের খেসারত দিতে হয়েছে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য দারুণভাবে লড়াই করেছে। ৭ রানে হারলেও ক্রিকেটারদের শরীরীভাষা নিয়ে বেশ খুশি ছিলেন সিমন্স। যদিও শেষ ম্যাচের জন্য ব্যাটারদের সমালোচনা করেছেন তিনি।
সিমন্স বলেন, ‘গত কয়েকটি টি-টোয়েন্টি সিরিজে আমরা যেভাবে খেলেছি, সেই তুলনায় এই সিরিজটি অবশ্যই হতাশাজনক। শেষ ম্যাচে হারলেও ফিল্ডিং ও রান তাড়া করার সময় ছেলেদের শরীরী ভাষা বা মনোভাব দেখে আমি খুশি ছিলাম। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে এখানে ১৯০ রান তাড়া করা সবসময়ই ইতিবাচক। মাত্র ৭ রানে হারাটা... ঠিক আছে। কিন্তু প্রথম ম্যাচ এবং এই ম্যাচটিতে আমাদের ব্যাটিং একেবারেই ভালো হয়নি। বোলারদের লড়াই করার মতো পুঁজিই দিতে পারেনি ব্যাটাররা। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ভীষণ হতাশাজনক।’