১২৪ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান একসময় ছিল দারুণ অবস্থানে। ১০ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৭২ রান, জয়ের জন্য তখন প্রয়োজন ছিল প্রতি ওভারে মাত্র ছয় রান। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু এরপরই শুরু হয় নাটকীয় ধস। শেষ ১০ ওভারে মাত্র ৩৬ রান যোগ করতে সক্ষম হয় পাকিস্তান, হারায় আরও ছয় উইকেট। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১০০ রানে থেমে যায় তাদের ইনিংস।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ওয়াহাব বলেন, '৭২ রানে ২ উইকেট থাকার পর যখন প্রতি ওভারে মাত্র ছয় রান দরকার, তখন কীভাবে ম্যাচ হারলাম তার কোনো উত্তর আমার কাছে নেই। সত্যি বলতে, আমরা নিজেরাই নিজেদের হারিয়েছি। তবে বাংলাদেশকেও কৃতিত্ব দিতে হবে। তারা চাপের মুহূর্তে স্নায়ু ধরে রাখতে পেরেছে।'
বাংলাদেশের হয়ে বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার ও সানজিদা আক্তার মেঘলা দারুণ বোলিং করেন। নাহিদা ১৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন, আর মেঘলা নেন ২১ রানে ৩ উইকেট। তবে ওয়াহাবের মতে, উইকেটে এমন কোনো বাড়তি টার্ন বা সহায়তা ছিল না, যা পাকিস্তানের ব্যাটারদের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করতে পারত।
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ ভালো বোলিং করেছে, কিন্তু উইকেটে খুব বেশি টার্ন বা গ্রিপ ছিল না। মূল সমস্যা ছিল আমাদের ব্যাটিংয়ে। ম্যাচটি দুই-তিন ওভার আগেই শেষ করে আসা উচিত ছিল। আপনি যদি রান তুলতে ব্যর্থ হন, তাহলে যেকোনো দলই ম্যাচে ফিরে আসবে।'
চলতি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ব্যাটিং ধস নতুন কিছু নয়। ভারতের বিপক্ষে শেষ সাত উইকেট হারিয়েছিল মাত্র ৩১ রানে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও ৮ উইকেটে অবস্থায় পড়ে গিয়েছিল দল, যদিও পরে ফাতিমা সানা ও তুবা হাসানের জুটিতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের বিপক্ষে তারা বিনা উইকেটে ৪৯ রান থেকে ৮৪ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বসে।
এ ধরনের ব্যর্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওয়াহাব বলেন, 'এটা মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। গত চার-পাঁচ মাস ধরে আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি ছিল না। কিন্তু ম্যাচে নেমে খেলোয়াড়দেরই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয়।'
পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। তার মতে, ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলতে না পারার কারণেই দল বিপদে পড়েছে।
ওয়াহাব বলেন, 'সিনিয়র খেলোয়াড়দের দায়িত্ব নিতে হবে। তাদের ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝতে হবে। তখন প্রতি ওভারে ছয়েরও কম রান দরকার ছিল। সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলার প্রয়োজন ছিল না, বরং আরও বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যাট করা দরকার ছিল।'
সম্প্রতি একাধিক ম্যাচে অধিনায়ক ফাতিমা সানা নিচের দিকে নেমে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন। তবে ওয়াহাব মনে করেন, সবসময় একজন ক্রিকেটারের ওপর নির্ভর করে থাকা কোনো দলের জন্য ভালো লক্ষণ নয়।
তিনি বলেন, 'ফাতিমার দক্ষতা ও সাহস নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু প্রতিটি ম্যাচে সে এসে দলকে বাঁচাবে এমনটা আশা করা ঠিক নয়। ক্রিকেট দলগত খেলা, এখানে সবারই দায়িত্ব আছে।'
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়াটা পাকিস্তানের জন্য বড় হতাশার বলে উল্লেখ করেন ওয়াহাব। তাঁর মতে, দলকে হারিয়েছে প্রতিপক্ষ নয়, নিজেদের ভুল।
তিনি বলেন, 'বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়াটা খুবই হতাশাজনক। আমার মনে হয় না অন্য কোনো দল আমাদের হারিয়েছে। বরং আমরা নিজেরাই নিজেদের হারিয়েছি। যখন প্রতিপক্ষ ভালো খেলে আপনাকে হারায়, সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু শেষ তিন ম্যাচে আমরা নিজেদের সেরাটা দিতে পারিনি এবং ম্যাচগুলো নিজেরাই হাতছাড়া করেছি।'