দিনের শুরুতে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মাহমুদুল হাসান জয়। প্রথম ইনিংসের পাকিস্তানের হয়ে পাঁচ উইকেট নেয়া মোহাম্মদ আব্বাসের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে তার ব্যাটে আসে ৫ রান। ১৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
জয়ের পর সাদমানের উইকেটও হারায় বাংলাদেশ। বোলিং আক্রমণে এসে হাসান আলী নিজের চতুর্থ বলেই উইকেটের দেখা পান। লেংথ ডেলিভারিতে সামনে পা বাড়িয়ে খেলতে গিয়ে টাইমিংয়ে ভুল করে গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সাদমান।
২২ বলে ১০ রান করেন সাদমান। ২৩ রানে দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর শান্ত এবং মুমিনুলের ব্যাটে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ১৯.৫ ওভারে দলীয় পঞ্চাশ রান পার করে বাংলাদেশ।
২৬.৪ ওভারে জুটির পঞ্চাশ রান পূরণ করেন শান্ত-মুমিনুল। সঙ্গে বাংলাদেশের লিড পৌঁছায় শত রানে। সময় গড়ানোর সাথে সাথে মিরপুর টেস্টের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন শান্ত এবং মুমিনুল। শুরুতে দুজন কিছুটা রয়েসয়ে শুরু করলেও পরবর্তীতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে থাকেন।
এই দুজনের ব্যাটে ভর করে দুই উইকেটে ৯৩ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় বাংলাদেশ। তখন লিড ছিল ১২০ রান। এরপর বৃষ্টির কারণে ঘণ্টা তিনেক খেলা বন্ধ ছিল। লাঞ্চ ব্রেকের সময় থেকে দ্বিতীয় সেশনের শেষ পর্যন্ত পুরোটাই যায় বৃষ্টির পেটে। খেলা পুনরায় শুরু হলে শান্ত-মুমিনুলের ব্যাটে ৩৩.১ ওভারে দলীয় শতক স্পর্শ করে বাংলাদেশ।
এরপর ২৭তম হাফ সেঞ্চুরির দেখা পান মুমিনুল। আরও কিছুক্ষণ পর ১৭৪ বলে জুটির শতরান পূরণ করেন মুমিনুল-শান্ত।মুমিনুলের পর ফিফটি হাঁকান শান্ত। এটি তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরি।
শাহীন শাহ আফ্রিদির সেই ওভারেই অবশ্য ফিরে যান মুমিনুল। ওভারের শেষ বলে উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন এই বাঁহাতি। ফেরার আগে ১২০ বলে ৫৬ রান করেন তিনি। এই টেস্টে তৃতীয় বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে টেস্টে পাঁচ হাজার রান করেন মুমিনুল।
মুমিনুল-শান্ত জুটি ১৯৩ বলে ১০৫ রান তোলে। দিনের বাকি সময়ে আর উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। শান্ত ১০৫ বলে ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন। ৩১ বলে ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন মুশফিকুর রহিম। আলোকসল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২৫ মিনিট আগে দিনের খেলার সমাপ্তি টানেন আম্পায়াররা।