উইকেটে ঘাসের ছোঁয়া থাকায় সকালের শুরুতে খানিকটা সুইং, সিম মুভমেন্ট পেলেন শাহীন আফ্রিদি, আব্বাসরা। সেটা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলামকে ফেরায় সফরকারীরা। ৩১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে খানিকটা চাপে পড়লেও সেটা দীর্ঘস্থায়ী হতে দেননি শান্ত ও মুমিনুল। তারা দুজনে মিলে গড়েন ১৭০ রানের জুটি। যেখানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন শান্ত।
বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন। বাঁহাতি ব্যাটারের কাউন্টার অ্যাটাকে খেই হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। ওমন ইনিংসে প্রশংসায় আব্বাস বলেন, ‘আমাদের পক্ষে যা করা সম্ভব সবটাই করেছি। তবে তাকে (শান্ত) কৃতিত্ব দিতে হবে। সে খুবই ভালো ক্রিকেট খেলেছে। আমি যখন বোলিং করছিলাম কয়েকবার সে পরাস্ত হয়েছিল। তবে আমাদের তাকে কৃতিত্ব দিতে হবে।’
আব্বাসের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে কভার ড্রাইভে চার মেরে সেঞ্চুরি করেছিলেন শান্ত। তবে পরের বলেই তাকে ফিরতে হয় ড্রেসিং রুমে। শান্তকে ফেরাতে কৌশলেও খানিকটা পরিবর্তন আনেন তিনি। বেশিরভাগ সময় অফ স্টাম্পের বাইরে কিংবা আউট সুইং করার চেষ্টা করলেও সেঞ্চুরির পর করেন ইনসুইং। ডানহাতি পেসারের ইনসুইং ডেলিভারিতে লেগ বিফোর হয়ে ফেরেন সেঞ্চুরিয়ান শান্ত।
তাকে আউট করা নিয়ে আব্বাস বলেন, ‘এটাই ক্রিকেটের সৌন্দর্য্য। এটার (শান্তর আউট) আগে আমি অনেক পরিশ্রম করেছি। সত্যি বলতে সে খুব ভালো খেলেছে। আমি কিছুটা পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছি এবং ওই বলে ইনসুইং করেছি। বলও ঠিকঠাক সুইং করেছে। অনেক সময়ই এটা হয় না। এজন্যই বললাম উইকেটটা খুব ভালো। আম্পায়ার আউট দেয়নি কারণ সে ভেবে এজ হয়েছে। আমি বোলিং প্রান্তে ছিলাম এবং বলেছি রিভিউ নাও। আমি নিশ্চিত ছিলাম বল ব্যাটে লাগেনি।’
কয়েক দিন ঘরেই মিরপুরের উইকেট নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। বেশিরভাগ সময় স্পিন উইকেট বানানো হলেও এবার খানিকটা ঘাস রাখা হয়েছে। এমন উইকেটকে ভালো ক্রিকেটীয় পিচ আখ্যা দিয়েছেন আব্বাস। যদিও জানিয়েছেন, ঘাসের নিচে উইকেট বেশ শুকনো। মাঝে মাঝে অবশ্য তারা কিছু অসম বাউন্স পেয়েছেন। তবে এজ না হওয়ায় উইকেটের দেখা মেলেনি। ভাগ্য তাদের পক্ষে ছিল না বলে মনে করেন আব্বাস।
তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটা এমন না। আমাদের বোলিং ভালো। আমার কথাই যদি বলি নতুন বল খানিকটা বের হয়ে যাচ্ছিল। যেটা আগেও বললাম তারা পরাস্ত হয়েছে কিন্তু ব্যাটে লাগেনি। ওই মুহূর্তে ভাগ্য যদি আমাদের সাথে থাকতো তাহলে হয়ত পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে, তারা ভালো খেলেছে। আমার মনে হয় এই ধরনের উইকেটে যে কেউই বোলিং নেবে। এটাই ক্রিকেট। কখনো কখনো ভাগ্য আপনার সঙ্গে থাকবে আবার অনেক সময় প্রতিপক্ষের সাথে। উপরে ঘাস থাকলেও নিচের দিকে একটু শুকনো।’