ইনডোর থেকে ড্রেসিং রুমে আসছিলেন নাহিদ রানা। আসার পথে ক্ষণিকের জন্য উইকেট দেখতে গেলেন ডানহাতি তারকা পেসার। সবুজ উইকেট দেখে যেন বল করার লোভ সামলাতে পারলেন না তিনি। ড্রেসিং রুমে ফেরার আগে তাই বোলিং শ্যাডো করলেন নাহিদ। মিরপুরের এমন সবুজাভ উইকেট দেখে আনন্দে ভাসতে পারেন তরুণ এই পেসার। যদিও টেস্ট শুরুর আগে ঘাস খানিকটা ছেঁটে ফেলা হবে।
তবুও প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের পেস আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশায় স্বপ্ন বুনতে পারেন নাহিদ-তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম। পেসারদের জন্য স্বর্গ উঠলে মাহমুদুল হাসান জয়, মুমিনুল হকদের জন্য সেটা হয়ে উঠতে পারে মৃত্যুকূপ। ফিল সিমন্স অবশ্য মনে করেন, উইকেট বেশ ভালো হবে। বাংলাদেশের প্রধান কোচের মতে, পাকিস্তানের বোলারদের বিপক্ষে নাজমুল হোসেন শান্তদের দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে সিমন্স বলেন, ‘ঘরের মাঠের কন্ডিশন বলতে বোঝাতে চাইছেন, জানি না। পিচটা বেশ ভালো হবে এবং তাদের বিপক্ষে আমাদের ব্যাটিংয়ের কৌশলটা গুছিয়ে নিতে হবে। র্যাঙ্কিংয়ে ওপরে উঠতে হলে এই সব সেরা বোলারদের বিপক্ষে খেলতেই হবে। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আমরা জানি যে, তাদের বিপক্ষে আমাদের দীর্ঘক্ষণ ব্যাট করতে হবে এবং বড় স্কোর করার চেষ্টা করতে হবে। তাই সবাই এখন বড় স্কোর করার মানসিকতায় আছে, যা একটি ভালো দিক।’
ঘরের মাঠে বেশিরভাগ সময়ই স্পিন নির্ভর উইকেট বানিয়ে প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করে বাংলাদেশ। র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলের সঙ্গে প্রায়শই এমন উইকেট বানায় স্বাগতিকরা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাসকিন-নাহিদরা তুরুপের তাস হয়ে ওঠায় পেস নির্ভর ও স্পোর্টিং উইকেট বানানোর সাহস দেখাচ্ছে তারা। যদিও সেটা তুলনামূলক দূর্বল দলের বিপক্ষে।
ঘরের মাঠের মতো দেশের বাইরেও যাতে স্পিনাররা ভালো করতে পারেন এজন্য মিরপুর কিংবা সিলেটে ভালো উইকেটে খেলার কথা জানিয়েছেন তিনি। সিমন্সের চাওয়া, দেশের মাটিতে ভালো উইকেটে খেলে তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজরা যেন সাউথ আফ্রিকার মতো দেশের উইকেটে ভালো করতে পারে।
সিমন্স বলেন, ‘হ্যাঁ, তবে চ্যালেঞ্জিং সময় মানেই হলো আপনাকে আপনার খেলার মান উন্নত করতে হবে। আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে যে অপেক্ষাকৃত ভালো উইকেটে আপনাকে কী করতে হবে। সব দলই এখন এই দিকে যেতে চায়। আমরা আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। আমরা চাই যখন আমরা সাউথ আফ্রিকায় যাবো, আমাদের স্পিনাররা যেন সেখানে ভালো উইকেটে বল করতে পারে। তাই ছেলেরা এসব নিয়ে কাজ করছে এবং নিশ্চিত করছে যেন এই ধরনের উইকেটে খেলার জন্য তাদের বোলিংয়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলো আসে।’