বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে রান তাড়ায় লেপার্ডসকে ভালো শুরু এনে দেন জাকির ও জাওয়াদ। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে জাওয়াদকে ফিরিয়ে ৩৪ রানের জুটি ভাঙেন মেহেরব। ডানহাতি স্পিনারের বলে জাকেরের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ১৮ বলে ২৩ রানের ইনিংস খেলা জাওয়াদ। এরপর সৈকতকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চাশ রানের জুটি গড়েন জাকির। তারা দুজনে মিলে লেপার্ডসকে এগিয়ে নিয়েছেন। ভালো শুরু পেলেও ২৮ রান করে ফিরতে হয় সৈকতকে। ডানহাতি ব্যাটারকে সৌম্যর হাতে ক্যাচ বানিয়েছেন মোসাদ্দেক।
তৃতীয় উইকেটে মিঠুন ও জাকির মিলে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। দারুণ ব্যাটিংয়ে ৪৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন। তবে সেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি জাকিরের। ছয়টি চার ও তিনটি ছক্কায় ৬৬ বলে ৭৪ রানের ইনিংস খেলে মাহফুজুর রহমান রাব্বির বলে আউট হয়েছেন বাঁহাতি ওপেনার। জাকিরের বিদায়ে ভাঙে মিঠুনের সঙ্গে ৭৩ রানের জুটি। লেপার্ডস যখন জয় থেকে ৯ রান দূরে তখন আউট হয়েছেন ৩৭ রান করা মিঠুন। শেষ ওভারে আলাউদ্দিন বাবু চার মেরে লেপার্ডসের জয় নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ৩০ ওভারের ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে ৮ উইকেটে ১৮১ রান তোলে আবাহনী। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের হয়ে সর্বোচ্চ ২৯ বলে অপরাজিত ৫৫ রানের ইনিংস খেলেছেন সাব্বির। পাঁচটি ছয়ের সঙ্গে দুইটি চার মেরেছেন তিনি। এ ছাড়া আবাহনীর হয়ে অঙ্কন ৩৮, মেহেরব ৩৮ ও মোসাদ্দেক ১৭ রান করেছেন। লেপার্ডসের হয়ে মইন খান তিনটি ও আল ফাহাদ দুইটি উইকেট নিয়েছেন।
সাইফ-ফজলে রাব্বির সেঞ্চুরি মিস, সোহানের আউট নিয়ে বিতর্ক
ডিপিএলের নতুন আসরের শুরুটা ভালো হয়েছে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের। পূবেরগাঁও ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (পিকেএসপি) আগে ব্যাটিং করে ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৮০ রান তোলে তারা। বসুন্ধরার হয়ে সেঞ্চুরি মিস করেছেন সাইফ হাসান ও ফজলে মাহমুদ রাব্বি। চারটি ছক্কা ও তিনটি চারে ৭৯ বলে ৮২ রান করেছেন ফজলে রাব্বি। মাত্র ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেছেন সাইফ।
তিনটি করে ছক্কা ও চারে ১২৬ বলে ৯৬ রানের ইনিংস খেলেছেন ডানহাতি এই ওপেনার। সেঞ্চুরি মিসের পেছনে সাইফের নিজের দায় বেশি। প্রথম রানটা ঠিকঠাক নিলেও দ্বিতীয় রানের ক্ষেত্রে একটু হেলেদুলে যান সাইফ। তিনি ভেবেছিলেন নন-স্ট্রাইকে থ্রো করবেন। তবে স্ট্রাইক প্রান্তে থ্রো করায় রান আউট হয়েছেন সাইফ। সেই ম্যাচে একটি বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে।
তানভীরের বলে ছক্কা মারতে চেয়েছিলেন নুরুল হাসান সোহান। বাউন্ডারি সীমানায় দাঁড়িয়ে ক্যাচ লুফে নেন রাফিউজ্জামান রাফি। সোহানের দাবি, সীমানার বাইরে গিয়ে ক্যাচ নিয়েছেন ফিল্ডার। টিভি রিপ্লেতেও এমনই দেখা গেছে। তবুও ৪১ বলে ৪৩ রান করা সোহানকে আউট দিয়েছেন আম্পায়ার। শেষের দিকে আর কেউ সুবিধা করতে না পারলেও ২৮০ রান তোলে বসুন্ধরা। গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে দুইটি করে উইকেট নিয়েছেন আব্দুর রহিম ও তানভীর।
রান তাড়ায় ৪৯.৫ ওভারে ২৫৪ রানে অল আউট হয়েছে গুলশান। তাদের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৯ বলে ৭৩ রানের ইনিংস খেলেছেন জুবায়ের হোসেন। এ ছাড়া শাহরিয়ার সাকিব ৪৭, শাহাদাত হোসেন ৩৯, মইনুল ইসলাম ২৪ এবং রহিম অপরাজিত ৩২ রান করেছেন। বসুন্ধরার হয়ে তিনটি করে উইকেট পেয়েছেন নাহিদুল ইসলাম ও রুয়েল মিয়া।