ঘটনাটি ঘটে পাকিস্তানের ইনিংসের ৩৯তম ওভারে। মিরাজের করা ওভারের চতুর্থ বলের পর পপিং ক্রিজ ছেড়ে সামনে এগিয়ে আসেন সালমান। বলটি কুড়িয়ে নিয়ে বোলারের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। ঠিক সেই সময় দ্রুত বল নিয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন মিরাজ, ফলে ব্যক্তিগত ৬৪ রানে থামতে হয় পাকিস্তানি এই ব্যাটারকে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। অনেকেই মিরাজের উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কেউ ক্রিকেটের স্পিরিট বা স্পোর্টসম্যানশিপের বিষয়টি সামনে এনে সমালোচনাও করেছেন।
এমসিসি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'উভয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। নন-স্ট্রাইকার স্পষ্টভাবে মাঠের বাইরে ছিলেন এবং বল এখনও খেলার অংশ ছিল। আইন অনুযায়ী এটি আউট। নন-স্ট্রাইকার যখন বল খেলার অবস্থায় বাইরে ছিলেন এবং নিজেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছিলেন, তখন সংঘর্ষ ঘটেছে। কোনো ব্যাটসম্যানের উচিত নয় ফিল্ডিং দলের অনুমতি ছাড়া বল তুলতে চেষ্টা করা, কারণ এতে ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ আউট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।'
এমসিসি আরও বলেছে, 'বল ডেড হওয়ার কোনো পরিস্থিতি ছিল না। নতুন ডেড-বল নিয়ম অক্টোবর থেকে কার্যকর হলেও, এখানে প্রযোজ্য নয়। সংঘর্ষের কারণে বল ডেড হয় না, কারণ তা খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষকে প্ররোচিত করতে পারে। এ ছাড়া, বোলার বা উইকেটকিপারের হাতে বল পুরোপুরি স্থির ছিল না, এটি মাটিতে ছিল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বল যদি মাটিতে স্থির থাকে, তখন আম্পায়ার এটি ফাইনালি স্যাটেলড ঘোষণা করতে পারবেন। কিন্তু এখানে নন-স্ট্রাইকার আউট অবস্থায় ছিল এবং নিকটতম ফিল্ডার বল ধরার চেষ্টা করছিল।'
সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটের আত্মার প্রতি সম্মান নিয়ে এমসিসি বলেছে, ফিল্ডিং দলের দায়িত্ব এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার। তারা চাইলে আপিল প্রত্যাহার করতে পারত। এমসিসি জানিয়েছে, 'অনেকেই আঘার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। মেহেদি মিরাজ, বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে, আপিল প্রত্যাহার করতে পারতেন। আঘা বলকে ডেড ভাবছিলেন এবং সংঘর্ষের পর ফিল্ডিং দলের সহায়তায় ব্যস্ত ছিলেন। আইনের ভিত্তিতে আউট হলেও ফিল্ডিং দল স্পিরিটের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আপিল প্রত্যাহার করতে পারত।'