ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সহজে হারাতে তিন বিভাগেই পারফরম্যান্স চান সৌম্য

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশ সিরিজ
টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজেদের সেরাটা দিতে প্রত্যয়ী সৌম্য সরকার, বিসিবি
টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজেদের সেরাটা দিতে প্রত্যয়ী সৌম্য সরকার, বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
অ্যান্টিগায় হারলেও জ্যামাইকাতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে টেস্ট সিরিজে সমতা এনেছিল বাংলাদেশ। তবে ওয়ানডে সিরিজে যেন নিজের ছন্দই খুঁজে পাননি সফরকারীরা। সবশেষ কয়েক বছরে কেবলমাত্র ৫০ ওভারের ক্রিকেটেই ধারাবাহিক মেহেদী হাসান মিরাজরা। ওয়ানডেতে ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একেবারে হারতে ভুলে যাওয়া বাংলাদেশই কিনা এবার হোয়াইটওয়াশ।

সেন্ট কিটসে প্রথম ম্যাচে লড়াইয়ের আভাস দিলেও শাই হোপ ও শেরফান রাদারফোর্ড মিলে সব ছাপিয়ে গেছেন। পরের ম্যাচে তো ব্যাটররা দাঁড়াতেই পারেননি। শেষ ওয়ানডেতে যখন হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াই তখন সফরকারীদের পুঁজি ৩২১ রান। আমির জাঙ্গু, কেসি কার্টি ও গুড়াকেশ মোতির ব্যাটে সেটাও অনায়াসে পেরিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচ শেষে তাই অধিনায়ক মিরাজ জানিয়েছিলেন, এমন হার বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না তিনি। 

বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদও হজম করতে পারছিলেন না বাংলাদেশের হার। তবে পুরো সিরিজে কোন ম্যাচেই একসাথে পারফর্ম করতে পারেননি ক্রিকেটররা। ব্যাটাররা ভালো করলেও বোলাররা ছিলেন মলিন। তিন ম্যাচেই ক্যাচ মিস কিংবা কয়েকটি বাজে ফিল্ডিং ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। ওয়ানডে সিরিজ শেষে টি-টোয়েন্টি খেলতে নামার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সহজে হারাতে তিন বিভাগের কাছ থেকেই ভালো পারফরম্যান্স আশা করলেন সৌম্য সরকার।

বাঁহাতি এই ওপেনার বলেন, ‘পরশু থেকে আমাদের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হচ্ছে কারা বড় দল, কারা ছোট দল সেটার থেকে বড় কথা হচ্ছে কারা ২০ ওভার, ৪০ ওভার ভালো খেলবে মাঠে। ওইটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আমরা যদি তিনটি দিকেই ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং ভালো করতে পারি, দল হিসেবে ভালো করতে পারি আমরা আশাকরি তাদেরকে আরামসে হারাতে পারব। ওরা টি-টোয়েন্টিতে ভালো দল, ওদের থেকে মনোযোগ দিতে হবে আমরা আমাদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করলে ম্যাচ জিততে পারব।’

৫০ ওভারের ক্রিকেটে নিয়মিত তিনশ কিংবা  এর কাছাকাছি যেতে পারে না বাংলাদেশ। তবে প্রথম ওয়ানডেতে ২৯৪ রান করা সফরকারীরা শেষ ম্যাচে করেছিল ৩২১ রান। হোয়াইটওয়াশ হলেও তাই এটাকে ভালো দিক হিসেবে দেখছেন সৌম্য। তিনি বলেন, ‘আরেকটা জিনিস ওয়ানডেতে আমরা ভালো খেলে আসছিলাম কিন্তু লাস্ট দুই-একটা সিরিজ আমাদের ভালো যায়নি। তার মধ্যেও একটা ভালো জিনিস আছে আমরা ব্যাটাররা তিনশ রান করছি, এটাও একটা ভালো দিক।’

টেস্ট সিরিজে সমতায় ফিরতে বল হাতে আলো ছড়িয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলামরা। তবে ওয়ানডে সিরিজের পুরোটা জুড়েই মলিন ছিলেন না। শুরুতে বেশ কয়েকটি উইকেট এনে দিলেও মাঝের ওভারগুলোতে একেবারেই উইকেট তুলতে পারেননি তারা। যার ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজও সহজেই তিন ম্যাচে রান তাড়া করে জিতেছে। সৌম্য মনে করেন, ওয়ানডেতে ভালো না হলেও বোলাররা টি-টোয়েন্টিতে কামব্যাক করবেন। 

সৌম্য বলেন, ‘আমাদের বোলাররা সবসময় ভালো করে আসতেছিল এই সিরিজে হয়ত তারা একটু স্ট্রাগল করেছে। আমি আশা করি তারা সামনের টি-টোয়েন্টিতে কামব্যাক করবে। পাশাপাশি আমরা ব্যাটাররা যারা রান করছিলাম বা রান করছে সবাই যেহেতু আমরা ওয়ানডেতে ৩০০ রান করছি এটার ধারাবাহিকতা যদি তারা বজায় রাখতে পারে তাহলে বোলার ও ব্যাটার মিলে একটা ভালো সিরিজ হবে।’