নাঈমকে নিয়ে বাংলাদেশের দল ঘোষণা
২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা। বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় শেষ ম্যাচটি ছিল সিরিজ নির্ধারণী। শেষ ম্যাচে ৪ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল।
২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা। বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় শেষ ম্যাচটি ছিল সিরিজ নির্ধারণী। শেষ ম্যাচে ৪ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল।
বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা মারধরের শিকার হয়েছেন নাঈম হাসান। এমন ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বাংলাদেশের তারকা স্পিনার। মানসিক বিপর্যস্ততা কাটিয়ে উঠতে আপাতত একা থাকতে চাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি সবার কাছে স্পেসও চেয়েছেন ডানহাতি এই অফ স্পিনার।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে বলা হয় একটি পরিবার। নাঈম হাসানের কান্নায় ভেঙে পরা এমন ছবি দেখে যেন আহত হয়েছেন সেই পরিবারের সব সদস্যই। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস থেকে শুরু করে ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, মুশফিকুর রহিমের মতো সিনিয়র ক্রিকেটার থেকে শুরু করে দলের অপারেশন্স ম্যানেজার নাফিস ইকবাল, সাবেক ক্রিকেটার এবং বোর্ড সভাপতি ফারুক আহমেদ, সবাই জানাচ্ছে নিন্দা। এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে খোদ ক্রিকেট বোর্ড থেকে শুরু করে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব।
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে চট্টগ্রামে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ড জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
জাতীয় দলের স্পিনার নাঈম হাসান ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া এবং পুলিশি হেফাজতে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন। শুক্রবার রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে চট্টগ্রামে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন তিনি। ঘটনার পর নাঈম, তার পরিবার ও স্থানীয়রা অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে খুলশি থানায় অবস্থান নেন।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শুরুর মাত্র একদিন আগে ছিটকে গেছেন নাঈম হাসান। আসন্ন বিপিএলে তার রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলার কথা ছিল। দলটির স্পিন আক্রমণের অন্যতম বড় ভরসা ধরা হচ্ছিল নাঈমকে। তবে তাকে না পাওয়া নিশ্চিতভাবেই ধাক্কা রংপুরের জন্য।
কাজটা বোলিং হলেও প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ৪৫ রান করেছিলেন নাঈম হাসান। ডানহাতি অফ স্পিনার দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ৯২ বলে ৬১ রান। নাঈমের হাফ সেঞ্চুরির পরও শাহাদাত হোসেন দিপু, পারভেজ হোসেন ইমন ও ইরফান শুক্কুরদের ব্যর্থতায় মাত্র ১৬৬ রানে অল আউট হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। জয়ের জন্য ২৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বিনা উইকেটে ৫২ রান তুলে জয়ের সুবাস পাচ্ছে খুলনা বিভাগ।
গল টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে শ্রীলঙ্কার চেয়ে ১৮৭ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ। সফরকারীদের হাতে উইকেট আছে এখনো সাতটা। সিরিজের প্রথম টেস্টে যেকোন কিছুই হতে পারে। আচমকা এক ধসে জয় পেতে পারে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কার যে কেউ জিততে পারে। তবে আপাতদৃষ্টিতে ড্রয়ের পথেই এগোচ্ছে গল টেস্ট। তবে নাঈম হাসান জানিয়ে রাখলেন, জেতার জন্য ভালো সুযোগই আছে বাংলাদেশের। উইকেটের উপর ভরসা করে গল দুর্গ জয়ের সুযোগও দেখছেন ডানহাতি এই অফ স্পিনার।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজের টেস্ট অভিষেকেই নাঈম হাসান নিয়েছিলেন ইনিংসে ৫ উইকেট। ডানহাতি অফ স্পিনার ৫ উইকেট নিয়েছেন জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের হয়ে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন মোট চারবার। তবুও নাঈমের নামের পাশে টেস্টের সংখ্যা মাত্র ১৩ (গল টেস্টসহ)। কখনো চোট আবার কখনো কম্বিনেশনের কারণে একাদশ কিংবা স্কোয়াডে সুযোগ হয় না চট্টগ্রামের এই স্পিনারের। তবুও নিজেকে দুর্ভাগ্য মানে রাজী নন নাঈম।
দেশের বাইরে টেস্ট মানেই নাঈম হাসানের জায়গাটা ডাগ আউটে। কখনো কখনো তো স্কোয়াডেই থাকেন না ডানহাতি এই পেসার। গলের স্পিন নির্ভর উইকেটের ভাবনা থেকেই বাংলাদেশের চার স্পিনারের একজন ছিলেন নাঈম। তবুও একাদশে সুযোগ পাবেন কিনা সেটার নিশ্চয়তা ছিল না একদমই। মেহেদী হাসান মিরাজের অসুস্থতা নাঈমের জন্য খানিকটা শাপেবর হয়েছে। দেশের বাইরে নিজের তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই নিজেকেই আরও একবার প্রমাণ করলেন। আগের খেলা দুই টেস্ট ডানহাতি অফ স্পিনার নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। গলে এক ইনিংসেই পেলেন পাঁচটা।
হাসান মুরাদ ও নাইম হাসানের ঘূর্ণিতে সকাল সকাল কিউইদের গুঁড়িয়ে দিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ 'এ' দল। তবে কিউইদের পাল্টা আক্রমণে ৭০ রানে ম্যাচ হারতে হয়েছে নুরুল হাসান সোহানদের। ২৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের ছেলেরা অল আউট হয়েছে ১৭৫ রানে।