গত বিপিএলের বিদেশিরা আমাদের ‘এ’ দলের ক্রিকেটারের মানেরও না: সুজন

ছবি: ক্রিকফ্রেঞ্জি

বিপিএলের গত আসরে ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন সুজন। ঢাকার সবচেয়ে বড় তারকা ছিলেন ইংল্যান্ডের জেসন রয়। যদিও দুই ম্যাচ খেলেই ফিরে যান ইংলিশ এই ব্যাটার। এ ছাড়া বুড়িয়ে যাওয়া থিসারা পেরেরা, রন্সফোর্ড বিটন, শুভাম রাঞ্জানে, ফারমানউল্লাহ শাফির মতো আনকোরা ক্রিকেটাররা খেলেছেন ঢাকার জার্সিতে। তাদের মতো অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ছিল আনকোরা সব ক্রিকেটারের হিড়িক।
আমি চাই না ইমন-তানজিদরা বদলে যাক: সুজন
২৪ আগস্ট ২৫
মিগেইল কামিন্স, এহসান ভাট্টি, আফতাব আলম, কাদিম অ্যালেইন, মার্ক দেয়াল, জন-রাস জাগেসারদের মতো অখ্যাত সব ক্রিকেটার খেলে গেছেন বিপিএলের গত আসরে। নক আউট পর্ব বাদ দিলে রংপুর রাইডার্স ও ফরচুন বরিশালের বাইরে বলার মতো ক্রিকেটার আনতে পারেনি কেউই। রংপুরের হয়ে খেলেছেন অ্যালেক্স হেলসের মতো ক্রিকেটার। পুরো টুর্নামেন্টেই সবচেয়ে বড় তারকা ছিলেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার খেলেছেন বরিশালের হয়ে।
বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের হয়ে কয়েক ম্যাচ খেলেই দেশে ফেরেন। এ ছাড়া ফাহিম আশরাফ, কাইল মেয়ার্স, ডেভিড মালানের মতো পরিচিত মুখরা ছিলেন সাউদার্ন আর্মিদের ডেরায়। অথচ একটা সময় শহীদ আফ্রিদি, সাঈদ আজমল, সানাৎ জয়াসুরিয়া, ক্রিস গেইল, কাইরন পোলার্ড, সুনীল নারিন, রশিদ খান, ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভ স্মিথ, আজহার মেহমুদ, শোয়েব মালিক, মাহেলা জয়াবর্ধনে, এব ডি ভিলিয়ার্স, রাইলি রুশো, লাসিথ মালিঙ্গা, কুমার সাঙ্গাকারার মতো ক্রিকেটাররা খেলে গেছেন।

দ্য হান্ড্রেডে খেলবেন অশ্বিন, আছে বিপিএলে আসার সম্ভাবনাও
২৭ আগস্ট ২৫
বিপিএল নিয়ে আক্ষেপ করে ক্রিকফ্রেঞ্জিকে সুজন বলেন, ‘ আপনি যদি বিপিএলে গত বছরের বিদেশি খেলোয়াড় দেখেন তাহলে এটা কোনো মানেরই না। আমি মনে করি যদি ৩০-৪০ টা বিদেশি খেলোয়াড়কে আলাদা করি তারা আমাদের ‘এ’ দলের খেলোয়াড়দের মানেরও না। বিপিএলের শুরুর দিকে কী হতো? পুরো ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলতে আসতো। মাহেলা (জয়াবর্ধনে), সাঙ্গাকারা, আফ্রিদি, শোয়েব মালিকের মতো খেলোয়াড় খেলে গেছে। আপনি নাম বলে শেষ করতে পারবেন না। সাউথ আফ্রিকারও বড় বড় খেলোয়াড়রা খেলে গেছে। আর এখন কারা খেলতে আসে?’
ভালো মানের বিদেশি খেলোয়াড় আনতে না পারার পেছনে বিপিএলের সূচিকে দায়ী করেছেন। কারণ একই সময়ে মাঠে গড়ায় সাউথ আফ্রিকার এসএ২০ লিগ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএলটি-টোয়েন্টি, অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ। যার ফলে চাইলেও ভালো বিদেশি আনতে পারেন না ফ্র্যাঞ্চাইজিরা। সেই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে উইন্ডো পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া ক্রিকেটারের মান অক্ষুণ্ণ রাখতে একজন কমিয়ে তিনজন বিদেশি খেলানোর পরামর্শ দিয়েছেন সুজন।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিপিএলে ভালো বিদেশি খেলোয়াড় আনতে পারি না। আমরা এমন সময়ে আয়োজন করি আমাদের উপায় থাকে না। সুতরাং আমাদের এমন একটা সময় ঠিক করতে হবে যাতে আমরা মানসম্পন্ন বিদেশি খেলোয়াড় আনতে পারি। দরকার হলে চারজন বিদেশি খেলোয়াড় খেলানোর দরকার নাই। আপনি বিদেশি খেলোয়াড় কমিয়ে তিনটা করেন। কিন্তু তিনটা যাতে মানসম্পন্ন খেলোয়াড় থাকে।’
বিদেশি ক্রিকেটারের তুলনায় ডিপিএলের উদাহরণও টেনেছেন সুজন। তিনি বলেন, ‘একটা সময় বাংলাদেশের যে ওয়ানডে প্রিমিয়ার লিগ হতো সেখানে সব বিশ্বসেরা খেলোয়াড়রা খেলে গেছে। আপনি ওয়াসিম আকরাম, নেইল ফেয়ারব্রাদার, রানাতুঙ্গা, ফিল ডি ফ্রেটাস, রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ সবাই খেলেছে। শ্রীলঙ্কার প্রায় সব খেলোয়াড় খেলে গেছে। ভারতের অরুণ লাল, অশোক মালহোত্রা, সৌরভ গাঙ্গুলির মতো বড় খেলোয়াড়রা খেলেছে।’