এশিয়া কাপের আগে কাল শুরু বাংলাদেশের ‘প্রি টেস্ট’

ছবি: ক্রিকফ্রেঞ্জি

রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদীর মতো স্পিনারকে টানা খেলার পর একটু বিশ্রাম নিলেন। তবে সেটা কেবল ব্যাটিং থেকে। সেন্টার উইকেটের পাশে দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখভাল করছিলেন টনি হেমিং। একটু এগিয়ে গিয়ে বিসিবির টার্ফ ম্যানেজমেন্ট উইংয়ের প্রধানের সঙ্গে আলাপ জুড়ে দিলেন ইমন। কথার সঙ্গে ইশারা ইঙ্গিত দিয়ে বাঁহাতি ওপেনারকে উইকেটের চরিত্র সম্পর্কেই হয়ত ধারণা দিচ্ছিলেন। ইমনও হয়ত বুঝে নেয়ার চেষ্টা করছিলেন উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য কতটা যুঁতসই হবে। সিরিজ শুরুর আগে উইকেট নিয়ে আগ্রহ ছিল প্রায় সবারই।
মনোবিদ স্কটের বিকল্প খুঁজছে বিসিবি
১ ঘন্টা আগে
ড্রেসিং রুমের পাশটায় দাঁড়িয়ে ইমন যখন টনি হেমিংয়ের সঙ্গে আলাপ করছিলেন তখন অন্যপ্রান্তে দাঁড়িয়েছিলেন লিটন দাস ও মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। লম্বা সময় ব্যাটিং করা লিটনের চোখটাও ওই উইকেটে। ট্রফি উন্মোচনের নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মাঠে চলে যাওয়া স্কট এডওয়ার্ডসও সেই উইকেট নিয়েই পড়ে থাকলেন। সুযোগ বুঝে হাঁটু গেঁড়ে দেখলেন, পকেট থেকে মোবাইল বের করে কয়েকটা ছবিও তুলে রাখলেন নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক। সিলেট উইকেট যেন একটা রহস্য হয়ে উঠেছে। ম্যাচের আগের দিন অবশ্য এমনই হওয়ার কথা। তবে উইকেট নিয়ে আলোচনাটা আরও পুরনো।
পাকিস্তান সিরিজের সময়ই লিটন উইকেট নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। এশিয়া কাপের প্রস্তুতির জন্য ভালো উইকেটের আবদার করেছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। লিটনের মতো চাওয়াটা ছিল বাকি সবারও। সিলেটে যে ভালো উইকেট পাওয়া যাবে সেটা একদিন আগেই বলে গেছেন তিনি। ম্যাচের আগেরদিন ফিল সিমন্সও শুনিয়ে গেছেন আশার কথা। বাংলাদেশের প্রধান কোচ শুধু আশার কথাই বলেননি, সিলেট বিশ্বের অন্যান্য সেরা উইকেটের ভেন্যুগুলোর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
বাংলাদেশের প্রধান কোচ বলেন, ‘সিলেটের উইকেট বিশ্বের যেকোনো উইকেটের সঙ্গে তুলনা করার মতো। এখানকার উইকেট, কন্ডিশন কিংবা অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা সবকিছুই দুর্দান্ত ছিল। এখানে যতবার এসেছি (ততোবারই এমন উইকেট পেয়েছি।’ সবাই যখন ওই উইকেটে মজে ছিলেন তখন একটু দূরে দাঁড়িয়ে শিষ্যদের অনুশীলন দেখেছেন সিমন্স। বৃষ্টির কারণে ২৮ আগষ্ট অনুশীলন করতে পারেনি বাংলাদেশে। ইনডোরে কয়েক মিনিটের ব্যাটিংয়েই প্রস্তুতি সারতে হয়েছে।
২৯ আগষ্ট আবহাওয়া ছিল একেবারে ভিন্ন। সিলেটের সৌন্দর্য্য যেমন আপনাকে মুগ্ধ করবে তেমনি গরমটাও একটু নাড়া দেবে। কড়া রোদের সঙ্গে ভ্যাপসা গরমে সবাই যেন একটু ক্লান্তই হয়েছিলেন। তিন ঘণ্টার অনুশীলন সেশন শেষে সিমন্সও ক্ষেত্রেও ঘটনাটা একই। হাতে একটা তোয়ালে নিয়ে গা মুছতে মুছতে প্রেস কনফারেন্সে এলেন বাংলাদেশের কোচ। সাংবাদিকরাও শুরুতেই জানতে চাইলেন খানিকটা ক্লান্ত কিনা। হাসি মুখে সিমন্সও জানালেন সেটাই।

নেদারল্যান্ডসের ক্রিকেটারদের বিপিএলে দেখতে চান কুক
৫ ঘন্টা আগে
আজকের দিনের কথা বললেও তিন সপ্তাহের অনুশীলন ক্যাম্পে তো একটু ক্লান্তই হয়ে পড়ার কথা তাদের। তবে ক্যাম্প নিয়ে সন্তুষ্টির কথাই জানালেন, ‘ক্যাম্প ভালো হয়েছে। বৃষ্টিও ছিল কিছুটা। দিনে বেশ ভালো ক্যাম্প হয়েছে, সুন্দর ক্যাম্প হয়েছে।’ ভারত না আসায় এশিয়া কাপকে কেন্দ্র করেই ফিটনেস ও স্কিল ক্যাম্প করেছে বাংলাদেশ। তবে বিসিবির প্রচেষ্টায় নেদারল্যান্ডসকে পাওয়া যাওয়ায় সিরিজ খেলে প্রস্তুতির ঘাটতিটাও পুষিয়ে নেয়ার সুযোগ হয়েছে লিটনদের।
যদিও এশিয়া কাপের আগে ডাচদের বিপক্ষে খেলাটা প্রস্তুতিতে কতটা সহায়তা করবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে। সিমন্সের কাছে অবশ্য এসবের চিন্তা নেই। একটা আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলার সুযোগ হচ্ছে সেটাই বরং প্রাধান্য পাচ্ছে তাঁর কাছে। নেদারল্যান্ডস সিরিজকে ধরা হচ্ছে এশিয়া কাপের ব্লু প্রিন্ট হিসেবে। বলতে পারেন বাংলাদেশের জন্য এটা প্রি টেস্টও। ফাইনাল পরীক্ষার আগে যেমন প্রি টেস্ট কিংবা মডেল টেস্ট পরীক্ষা হয়ে থাকে। নেদারল্যান্ডস সিরিজ বাংলাদেশের জন্য তেমন কিছুই।
এশিয়া কাপে বাংলাদেশের কম্বিনেশন কেমন হবে, কাকে কখন এবং কিভাবে ব্যবহার করা হবে সেটারই একটা ছবি পাওয়া যাবে ৩০ আগষ্ট থেকে শুরু হওয়া সিরিজে। সিমন্স অবশ্য এশিয়া কাপ নিয়ে এখনই ভাবতেই চান না। বাংলাদেশের প্রধান কোচের সব ফোকাস রাখতে চান তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে। তিনি বলেন, ‘ফাইনালে যেতে হলে সেটার আগে আপনাকে প্রাথমিক ধাপগুলো পার করতে হবে। আমি এশিয়া কাপ নিয়ে ভাবছি না, এশিয়া কাপ আসবে এই সিরিজের পরে। এখন আন্তর্জাতিক একটি দলের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক একটি সিরিজ খেলছি আমরা। এখন এই সিরিজ নিয়েই ভাবছি।’
নেদারল্যান্ডস সিরিজ নিয়ে ভাবলেও সিমন্স অতীত টেনে সামনে এগোতে চান। সবশেষ কয়েক মাসে টি-টোয়েন্টিতে সময়টা একেবারে খারাপ যাচ্ছে না বাংলাদেশের। জুনে-জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফর থেকে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে এসেছেন লিটন-তাওহীদ হৃদয়রা। গতমাসে মিরপুরে জিতেছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে। এই দুই সিরিজের পারফরম্যান্সকে নিয়েই ডাচদের বিপক্ষে নামতে চায় বাংলাদেশ। সিমন্সের ভাষায়, ‘শ্রীলঙ্কা সিরিজে যা করেছি তা চালিয়ে যেতে চাই। কিছুটা মিরপুর থেকেও নিতে চাই। শ্রীলঙ্কায় যেমনটা করেছি সেটাই চালিয়ে যেতে চাইব সামনে।’
তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটা একেবারেই সহজ হবে না বাংলাদেশের জন্য। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ডাচদের বিপক্ষে অবশ্য আশার আলো দেখাতে পারে। পরিসংখ্যানও অবশ্য বাংলাদেশই এগিয়ে। পাঁচ দেখার চারটিতে বাংলাদেশ আর একটিতে জয় পেয়েছে নেদারল্যান্ডস। তবে সফরকারীদের আত্মবিশ্বাসের পালে হাওয়া দিতে পারে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে কলকাতায় পাওয়া জয়। এশিয়া কাপে যাওয়ার আগে ডাচদের কাছে হারলে সমালোচনার মুখে পড়তে হবে বাংলাদেশকে।
সিমন্স অবশ্য এসব মেনেই নিচ্ছেন। পাশাপাশি এও জানিয়ে রাখলেন, ভালো ক্রিকেট না খেলে জিততে না পারলে সমালোচনাটাও তারা প্রাপ্য। সিমন্স বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলেও সমালোচনা হবে। টেবিলের নিচের দিকে হারলেও হবে। নির্দিষ্ট দিনে ভালো না খেললে সমালোচনা আমাদের প্রাপ্য...। কার কাছে হারছি তা নিয়ে ভাবছি না। আমরা যদি ভালো খেলতে পারি তাহলে আমার মনে হয় আমরাই জিতব।’
সংবাদ সম্মেলনের পুরোটা সময় নেদারল্যান্ডসকে বড় করেই দেখানোর চেষ্টা করলেন সিমন্স। প্রতিপক্ষ দলের প্রধান কোচ অবশ্য একটু হুংকারই দিলেন। একটা সময় বাংলাদেশের ফিল্ডি কোচ হিসেবে কাজ করা রায়ান কুক ঘরের মাঠে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখলেও জানালেন, লিটনদের হারাতে তারা বড্ড আত্মবিশ্বাসী। বিশ্বকাপ নিয়ে খানিকটা খোঁচাও দিয়েছেন তিনি।
কুক বলেন, ‘অবশ্যই, তাদের খুব ভালো খেলোয়াড় আছে এবং ঘরের মাঠে তাদের বিপক্ষে খেলা কঠিন। তাই আমাদের ছেলেদের জন্য এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। কিন্তু আমরা যদি মনে করতাম আমরা জিততে পারব না, তাহলে আমরা এখানে আসতাম না। বিশ্বকাপেও আমরা তাদের সঙ্গে থাকব। আমরা যদি একই গ্রুপে পড়ি তাহলে আমরা তাদেরকে হারাতে চাইব। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের যা আছে সেটা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশকে হারাতে পারব।’