Connect with us

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

অ্যামাজনের ডেলিভারি ম্যান থেকে স্কটিশদের বাংলাদেশ বধের নায়ক


প্রকাশ

:


আপডেট

:

ছবি : সংগৃহীত

|| ডেস্ক রিপোর্ট ||

জীবন একেবারে বহমান নদীর মতো। যার রূপ বোঝা বড্ড কঠিন। সময়ের বিবর্তনে নদী কখনো শান্ত আবার কখনো খরস্রোতা। বিস্তৃত নদীর দৈর্ঘ্য বাড়ার সঙ্গে বাড়ে বাঁকের ভিন্নতা। নদীর সব বাঁকই আপনাকে প্রশান্তি এনে দেবে না। কখনও বা বিমূর্ত রঙে ফিকে করে দেবে জীবনের সব পরিকল্পনা। জীবন এবং নদীর গতিপথ যেন একই সুতোয় গাঁথা।

ঘড়ির কাঁটা কখনও থেমে থাকে না। প্রতিটি সেকেন্ডে প্রতিটি কাঁটা যেমন নিজের জায়গা বদলে ফেলে তেমনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনের গতিপথও বদলে যায়। জীবনে সুখ যেমন চিরস্থায়ী নয় তেমনি সর্বদা দুঃখের সাগরেও ভেসে থাকতে হয় না। কখনও কখনও জীবন আপনাকে দুহাতে ভরে দেবে। তবে সেই সুযোগ লুফে নিতে পারাটাই বড় কৃতিত্বের। জীবনে অনেক চড়াই-উতরাই পার করেছেন ক্রিস্টোফার গ্রিভস।

যদিও জীবনের উত্থান-পতনের ঢেউয়ে নিজের সেরা সুযোগটা লুফে নিতে ভুল করেননি তিনি। যারা বাংলাদেশ ও স্কটল্যান্ডের খেলা দেখেছেন তাদের জন্য অন্তত নামটি অপরিচিত নয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসরের প্রথম অঘটনের নাম নিলে সবার আগে মুখে আসবে স্কটল্যান্ডের বাংলাদেশ বধের কথা। ২০১২ সালের মতো আরও একবার স্কটিশদের কাছে মাথা নুইয়ে দিল বাংলাদেশ।

যদিও শুরুটা হয়েছিল একেবারে ভিন্নভাবে, বাংলাদেশের সমর্থক কিংবা ক্রিকেটারদের প্রত্যাশীতভাবে। ম্যাচের শুরু থেকেই স্কটল্যান্ডকে চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। যেখানে টাইগার স্পিনারদের ঘূর্ণিতে কাঁপছিল স্কটিশ ব্যাটসম্যানরা। ৫২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে স্কটল্যান্ড যখন ১০০ রানের নিচে অলআউট হওয়ার শঙ্কায় তখন ক্রিজে আসেন গ্রিভস।

এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। ব্যাপারটা ঠিক যেন এমনই। বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে মাত্র একটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা ছিল গ্রিভসের। তবে দলের বিপর্যয়ের সময় ব্যাটিংয়ে এসে যে বিস্ফোরক ইনিংসটি খেললেন তাতে বোঝার উপায় ছিল না ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

৫৩ রানে ৬ উইকেট হারানো স্কটল্যান্ডকে শেষ পর্যন্ত ১৪০ রানের পুঁজি দেন গ্রিভস। নিজের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলার দিনে ২৮ বলে দুই ছক্কা ও চারটি চারে করেছেন ৪৫ রান। এরপর বল হাতেও দাপট দেখালেন গ্রিভস। বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান ও ‍মুশফিকুর রহিমকে সাজঘরে ফিরিয়ে ম্যাচের লাগামটা টেনে ধরেন তিনি। শেষ পর্যন্ত গ্রিভসের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে আরও একবার বাংলাদেশকে হারের স্বাদ দিল স্কটিশরা।

গ্রিভসের জীবনের সেরা সুযোগের কথা বলছিলাম। স্কটল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে নামার আগেও নামটা খুব একটা পরিচিত ছিল না। গ্রিভস নিজেও হয়তো কল্পনা করেননি স্কটল্যান্ডের হয়ে ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবেন। ছোটবেলা থেকে ক্রিকেটের প্রতি আলাদা প্যাশন থাকলেও জীবনের কঠিন সময় পার করতে গিয়ে ২২ গজ থেকে নিজেকে খানিকটা দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।

করোনা প্রকোপে নিজের পরিবার চালাতে যোগ দিয়েছিলেন অ্যামাজনের ডেলিভারি ম্যান হিসেবে। যেখানে বিভিন্ন মানুষের অর্ডারকৃত পণ্য বাসায় পৌঁছে দেয়াই ছিল গ্রিভসের প্রধান কাজ। কয়েক মাস আগেও যে গ্রিভস মানুষের বাসায় ডেলিভারি পৌঁছে দিতেন সেই তিনিই কিনা বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের নায়ক হয়ে গেলেন।

স্কটিশদের স্বপ্নের শুরু এনে দেয়া গ্রিভসের জীবনের গল্প বলতে গিয়ে খানিকটা আবেগি হয়ে উঠেছিলেন দলটির অধিনায়ক কাইল কোয়েটজার। ম্যাচের নায়ককে নিয়ে গর্বের কথাও জানিয়েছেন তিনি। ম্যাচ শেষে এ প্রসঙ্গে কোয়েটজার বলেছেন, ‘গ্রিভসকে নিয়ে আমি সত্যিই গর্বিত। সে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। খুব বেশিদিন আগের কথা নয় সে অ্যামাজনের পার্সেল বিতরণ করতো। এখন সে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছে।’

দলের সেরা এবং সারা বছর স্কোয়াডে থাকতে পারেন এমন ক্রিকেটারদের নিয়েই মূলত বোর্ডগুলো কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা প্রকাশ করে। চলতি বছরের কেন্দ্রীয় চুক্তির জন্য স্কটল্যান্ড ক্রিকেট যে ১৩জন ক্রিকেটারের তালিকা প্রকাশ করেছিল সেখানে নাম নেই গ্রিভসের। স্কটিশ এই অলরাউন্ডার যখন বিশ্বকাপ মাতাতে ব্যস্ত তখন বোর্ডের চুক্তিতে নেই তিনি। অথচ স্কটিশদের পূর্ণ ২ পয়েন্ট এনে দেয়ার নায়কই তিনি।

যদিও তাঁর নামটি থাকার কথাও না। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুটাই যে কদিন আগে। নিজের পরিশ্রমের ফল হিসেবেই গ্রিভস বিশ্বকাপ খেলছেন বলে মনে করেন কোয়েটজার। সেই সঙ্গে সহযোগী দেশগুলোতে গ্রিভসের মতোর আরও অনেক প্রতিভা রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে তাঁদের সেই প্রতিভা প্রকাশ করার জন্য প্লাটফর্ম প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন কোয়েটজার।

তিনি বলেন, ‘গ্রিভস স্কটল্যান্ডের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় নন। সে পরিকল্পায় ছিল। সে পরিশ্রম করেছে এবং নিজেকে বিবেচনার জন্য রেখেছিল। মাসখানেক আগে পেছনে ফিরে গেলে সে একটি ম্যাচও খেলেনি। কিন্তু দেখুন সে কি করেছে। এটা প্রমাণিত যে সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেটেও মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে। এখন শুধু এটা দেখানোর জন্য তাদের প্লাটফর্ম দরকার।’

সর্বশেষ

২০ আগস্ট, শনিবার, ২০২২

গোড়ালির চোটে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা হচ্ছে না হাসানের

২০ আগস্ট, শনিবার, ২০২২

প্রথম পাকিস্তানি হিসেবে আমিরাতের লিগে আজম খান

২০ আগস্ট, শনিবার, ২০২২

নিউজিল্যান্ডকে সমতায় ফেরালেন ফিন-সাউদি-বোল্ট

১৯ আগস্ট, শুক্রবার, ২০২২

তিনদিনেই শেষ লর্ডস টেস্ট, ইনিংস ব্যবধানে হারল ইংল্যান্ড

১৯ আগস্ট, শুক্রবার, ২০২২

পারফর্ম করেই আবার পাকিস্তান দলে ফিরতে চান হাসান

১৯ আগস্ট, শুক্রবার, ২০২২

রিজওয়ানের পরামর্শেই সফল সালমান

১৯ আগস্ট, শুক্রবার, ২০২২

এশিয়া কাপে ওয়াসিম আকরাম-শাস্ত্রীদের সঙ্গী আথার আলী

১৯ আগস্ট, শুক্রবার, ২০২২

এখনও জাদেজার ছায়ায় অক্ষর, দাবি আকাশ চোপড়ার

১৯ আগস্ট, শুক্রবার, ২০২২

সাদা বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশের দারুণ সম্ভাবনা আছে: শ্রীরাম

১৯ আগস্ট, শুক্রবার, ২০২২

এশিয়া কাপে ভারতের চেয়ে পাকিস্তানকে এগিয়ে রাখছেন সরফরাজ

আর্কাইভ

বিজ্ঞাপন